শাওনের ময়না তদন্তে পাওয়া যায়নি গুলি, ১৫ মিনিটে গোসল শেষ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত শাওনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরে কোনো গুলি পাওয়া যায়নি। তবে দুটি গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে শাওন নিহতের ঘটনায় মামলা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, তার বড় ভাই মিলন প্রধান বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হ’ত্যা মামলা করেছেন।

তবে শাওনের অপর ভাই ফরহাদ প্রধান বলেছেন, তার পরিবার কোনো মামলা করেনি। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মিলন প্রধান রহস্যজনক কারণে কোনো মন্তব্য না করে শুধু তার ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শেখ ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শাওনের বুকের বাঁ পাশে এবং পিঠের নিচের অংশে দুটি গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।

তবে শরীরে কোনো গুলি পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে। শুক্রবার নিহত শাওন প্রধানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,

শোকের মাতম। ছেলেকে হারিয়ে শাওনের মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফিরে আসতেই তিনি ছেলে হত্যার বিচার দাবি করছেন। শাওনের বোন বলেন, আমার ভাইকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু এই হত্যার বিচার আমরা চাই।

শাওনের বড় ভাই ফরহাদ প্রধান বলেন, শাওন যে রাজনীতি করত সেটা আমাদেরকে কখনো বলেনি। কাশীপুরের যুবদল নেতা সাদেকের সঙ্গে যেত শুনেছি। কিন্তু বাসায় আমরা জানতাম না যে সে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

এর আগে শাসন করেছিলাম যেন রাজনীতিতে না জড়ায়। যখন শুনেছি গুলি খেয়েছে তখন হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার ভাই নাই। পরে ভিডিওতে দেখেছি সে বিএনপির অনুষ্ঠানে ছিল।

মামলার প্রসঙ্গে ফরহাদ বলেন, আমরা পরিবারের কেউ কোনো মামলা করিনি। আমার মা এ ঘটনার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম, মামলা করিনি।

তবে পুলিশের ভাষ্যমতে নিহত শাওনের যে বড় ভাই মামলার বাদী হয়েছে বলা হচ্ছে সেই মিলন প্রধানকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলেও তিনি মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মিলন বলেন, আমি প্রবাসে ছিলাম, কয়েক মাস হয়েছে দেশে এসেছি। শাওন যে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সেটা আমরা কেউই জানতাম না। ওকে এলাকার মানুষ তেমন চেনেও না। যাই হোক আমার ভাই মারা গেছে, আমি এর বিচার চাই।

নিহত শাওন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ও বক্তাবলী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পূর্ব গোপালনগর এলাকার মৃত সাহেব আলীর ছেলে। নবীনগর শাহ্ওয়ার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে শাওনদের একতলা বাড়ি।

সেখানে থাকা নিহত শাওনের বেয়াই (বড় বোনের দেবর) মোহাম্মদ জুয়েল জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় পুলিশ পাহারায় হাসপাতাল থেকে শাওনের লাশ বের করা হয়।
রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে লাশ নিয়ে ৮ জন ডিবি পুলিশ ও ৪ জন পুলিশ সদস্য বাড়িতে এসে ১৫ মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করে জানাজার জন্য নিয়ে যেতে হবে বলে নির্দেশ দেন।

পরে আমিসহ পরিবারের সদস্যরা উত্তেজিত হলে তারা সময় বাড়িয়ে দেন। রাত পৌনে ২টায় তার দাফন শেষে দোয়া করা হয়। তিনি বলেন, রাত ২টার দিকে সব আত্মীয়কে বিদায় জানিয়ে আমরা বাসায় আসি। এর মধ্যে আমরা মামলা করলাম কখন।

তবে নিহত শাওনের লাশ দাফনের পর ওই রাতেই সদর মডেল থানায় বড় ভাই মিলন মামলা করেছেন বলে দাবি করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে শাওনের দাফন শেষে তার বড় ভাই মিলন বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইট ও গুলির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে তার ভাই মারা গেছেন বলে বাদী উলে­খ করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫ হাজার আসামি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.