শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

ফলাফল আগে নির্বাচন পরে

হেড লাইন: পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশে ভোটারগণ ভোট দেওয়ার পর অর্থাৎ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল জানতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৭ জানুয়ারি, অথচ ফলাফল এখনই জানা হয়ে গেছে। কারণ, সরকার নৌকা নিয়ে একাই নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে, একাই প্রতিযোগী হয়েছে, একাই বিজয়ী হবে। দ্বাদশ নির্বাচনে মূলত: একটাই প্রতীক ‘নৌকা’। নির্বাচনী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য ডামি প্রার্থী রাখার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ঘোষণা দিয়ে ডামি প্রার্থী রাখা যায়, এটা গণতান্ত্রিক বিশ্বে বিরল ঘটনা। প্রার্থী আছে অনেক কিন্তু প্রতিযোগিতা নেই। পুরো নির্বাচনটাই সমঝোতা, পাতানো এবং আঁতাতের নির্বাচন। বলা যায় এটা একটা ডামি নির্বাচন। সুতরাং এখানে বাছাই করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সংবিধানে রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- ‘রাজনৈতিক দল বলিতে এমন একটা অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি অন্তর্ভুক্ত, যে অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি সংসদের অভ্যন্তরে বা বাহিরে স্বাতন্ত্রসূচক কোনো নামে কার্য করেন এবং কোনো রাজনৈতিক মত প্রচারের বা কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্যান্য অধিসঙ্ঘ হতে পৃথক কোনো অধিসঙ্ঘ হিসেবে নিজেদেরকে প্রকাশ করেন’।

সুতরাং একই সাথে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরেক স্বতন্ত্র বা অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন করলে নিজেদের পৃথক অধিসঙ্ঘ হিসেবে প্রকাশ করার সাংবিধানিক নির্দেশনা লঙ্ঘিত হবে। একই সাথে দলীয় প্রার্থী এবং একই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন- গণতান্ত্রিক রাজনীতি বা সাংবিধানিক নৈতিকতায় অনুমোদন দেয় না। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর আবার দলের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার অনুমতি দিয়ে, তাদেরকে ‘ডামি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডামি প্রার্থী নয়, এখন ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবেই তার নামকরণ করা হয়েছে। দলের প্রতীকের বিরুদ্ধে দলীয় লোক নির্বাচন করবে অথচ দল তাকে বহিষ্কার করবে না, এতে রাজনীতির প্রতি এবং আদর্শের প্রতি কারো কোনো আনুগত্য থাকবে না। বর্তমান সরকারের তিনটি সাফল্য ইতিহাসে উজ্জ্বল স্বাক্ষর হয়ে থাকবে- ১) ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচন, ২) ‘রাতের ভোটের’ নির্বাচন, ৩) ‘ডামি’ নির্বাচন।

যারা এই সরকারকে অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও সমর্থন দিবে, যারা জনগণের ভোটাধিকারের দ্বারা নির্বাচনে বিজয় লাভের উপর আস্থাশীল নয়, আস্থাশীল ‘নৌকা’ প্রতীক বরাদ্দ পেতে কিংবা নৌকার সহযোগিতা পেতে তারাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন না হলেও, ব্যালটের গোপনীয়তা রেখে, ব্যালটের নিরাপত্তা বজায় রেখে এবং কোনো রকমের ভোট জালিয়াতি ছাড়া সমঝোতার প্রার্থীদের জয়লাভ করানো সম্ভব হবে না। সুতরাং সরকারকে লোক দেখানো নির্বাচনেও নৌকার বিরুদ্ধে কোনো না কোনো আসনে জালিয়াতির আশ্রয় নিতে হবে। নতুবা সরকার মিত্রহীন হয়ে পড়বে। নির্বাচন হচ্ছে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই। কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য নয়; ক্ষমতাকে নবায়নের জন্য, পুনরায় সরকারের শপথ গ্রহণের জন্য। এটা কেবল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন। যা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, প্রতীক বরাদ্দ, ফলাফল প্রকাশ এবং সর্বশেষে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। ক্ষমতা নবায়নের জন্য এটুকু আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন পূরণ করতে রাজপথে মানুষের রক্ত নিতে হচ্ছে, নির্বিচারে গ্রেফতার করে কারাগার পরিপূর্ণ করতে হচ্ছে, ভিন্নমতাবলম্বীদের বন্দি করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করতে হচ্ছে, রাষ্ট্রের বিরাট অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সবশেষে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনী নাটকের মাধ্যমে পূর্বতন সরকারকেই নতুন করে শপথ গ্রহণ করানোর আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটবে। এটা নির্বাচন নয়; ক্ষমতা নবায়নের ‘উৎসব’ মাত্র। ফলে জনগণ প্রজাতন্ত্রের মালিক এটা ক্রমাগত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। জনগণের সমর্থন ও সম্মতি ব্যতীত যখন সরকার গঠিত হয় তখন রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা ছিনতাই হয়ে যায়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনের পূর্বেই সরকার গঠন নিশ্চিত হয়ে যায়। একাদশ নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিলো। কিন্তু রাতে ভোট সম্পন্ন করায় সরকারের বিজয় নিশ্চিত হয়। আর এবার মূলত: এক প্রতীকের নির্বাচন, সুতরাং ফলাফল জানা আছে, শুধু গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা। সরকার এবার ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ বা ‘রাতের ভোটে’ আস্থা স্থাপন করতে পারছে না। ফলে আওয়ামী প্যানেলের একটি নির্বাচনের আয়োজন করেছে সরকার। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের প্রার্থীরা সবাই নৌকার মাঝি হতে চেয়েছে। কেউ সরাসরি, কেউ কূট কৌশলে। এখানে অন্য ফলাফলের বা বাছাই করার কোনো সুযোগ নেই। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ২৬৩ জন এবং আওয়ামী স্বতন্ত্র ২৬৯ জন। ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৫৩২ জন। একজন সম্মানিত এবং রাজনৈতিক সচেতন পাঠক জনাব আবুল কাশেমের একটি মতামত( মানবজমিনে প্রকাশিত) পাঠকের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করছি। তিনি বলেছেন- ‘যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জাতীয় নির্বাচন হতে হবে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভোটারদের মধ্যে থাকবে টানটান উত্তেজনা। শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের পাড়া-মহল্লার চায়ের টং দোকানেও হারজিৎ নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় ওঠবে। চলবে বিচার বিশ্লেষণ। বিভিন্ন মাধ্যম জরিপ করবে। ফলাফল নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণ হবে। গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে ভোটাররা জমিয়ে আড্ডা দেবে। টানটান উত্তেজনা, চরম প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও পরিবেশ থাকবে শান্তিপূর্ণ, কিন্তু উৎসবমুখর। আমাদের দেশে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সৌভাগ্যক্রমে যে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উপরে বর্ণিত চরিত্র ধারণ করেই হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের চিরাচরিত সেই ধারা বা চরিত্র হারিয়ে যায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে বর্তমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে। বর্তমান নির্বাচনটি আগের নির্বাচন থেকে ভিন্ন চরিত্র ধারণ করেছে। প্রার্থীর ছড়াছড়ি কিন্তু প্রতিযোগিতা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নেই। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নেই। ফলাফল নির্ধারিত। তাই প্রতিযোগিতার পরিবেশ নেই। নির্বাচনের কলকব্জা (Mechanism) একটি দলের হাতে বন্দী। মিষ্টির উপর ভোঁ ভোঁ করে উড়া মাছির মতো সেই দলের অনুকম্পা ভিক্ষা করছে সব প্রার্থী মরিয়া হয়ে। প্রধান প্রধান দলগুলো নির্বাচন বয়কট করেছে আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা ফলাফল আঁচ করতে পেরে। কারণ বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে টানটান উত্তেজনার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন এদেশের মানুষের কপালে জোটেনি। সেজন্যই বলেছিলাম সৌভাগ্যক্রমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো সকল দলের অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে। ভোটাররা স্বাধীনভাবে এবং নির্ভয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে গেছে। এবারের নির্বাচনের ফলাফল যেহেতু পূর্বনির্ধারিত তাই বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বয়কট করেছে। যে দলের মর্জির উপর নির্বাচনের ফলাফল নির্ভরশীল সেই দলের অনুকম্পা পাওয়া নির্ধারিত প্রার্থীদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা হবে। তাই এটাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যায় না। বলা যেতে পারে পছন্দ করে নির্বাচন করা (to choose by choice) প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার আয়োজন মাত্র’। সম্মানিত ও সচেতন পাঠক আবুল কাশেমের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রজাতন্ত্রের বাস্তবতা হাজির হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলনরত বিরোধী দল বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নাশকতাকারী এবং সন্ত্রাসী চিহ্নিত করে নির্বাচনের বাইরে রাখার কৌশলে সরকার শতভাগ সফল। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন, ৯ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ, ১০ জানুয়ারি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। যদিও ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত একাদশ সংসদের মেয়াদ কিন্তু একাদশ সংসদের মেয়াদ থাকতেই দ্বাদশ সংসদের শপথ এবং সরকার গঠন হয়ে যাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেই। এক সংসদের মেয়াদ থাকতেই আরেক সংসদ শপথ নিয়ে নিবে এবং সরকার গঠন হয়ে যাবে। ক্ষমতাসীন সরকার অতীতেও তাই করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। ধারাবাহিক সংবিধান লঙ্ঘন প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠেছে। সংবিধান যেনো সরকারের জন্য কোনো বাধা নয়; বরং সংবিধান সরকারের ইচ্ছাধীন। সংবিধান লঙ্ঘন বা স্থগিত, অসাংবিধানিক নির্বাচনের বৈধতা, জাতীয় নিরাপত্তা, ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক সবকিছুকেই সরকার ক্ষমতার খেলনা করে ফেলেছে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব-সংঘাতে যারা প্রজাতন্ত্রকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছে একদিন তাদেরকেই এই দায় বহন করতে হবে।

লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

নিরাপত্তাকর্মী থেকে যে ভাবে বিসিএস ক্যাডার মোত্তালিব

হেড লাইন: শত বাধা সত্ত্বেও মন থেকে চাইলেই যেকোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব তার জলন্ত উদাহরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোত্তালিব। টিউশনি, প্রুফ রিডার এমনকি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিও করেছেন এই শিক্ষার্থী। কোনো সীমাবদ্ধতাই যেন থামাতে পারেনি তাকে। সব বাধা পেরিয়ে সর্বশেষ ৪৩তম বিসিএসে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) তাকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। আর্থিক দুরবস্থার কারণে একসময় চাচার বাড়িতে থাকতে হয়েছে। পরিবার থেকে পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়লে কিছুদিন পড়াশোনাও বন্ধ ছিল। অথচ থেমে যাননি তিনি।

বগুড়ার শিবগঞ্জের বর্গাচাষি মহাবুল ইসলাম ও জামিলা বিবির সন্তান এম এ মোত্তালিব মিহির। গ্রামে বর্গাচাষি বাবা আর গৃহিণী মায়ের একমাত্র স্বপ্ন ছিল তাদের সন্তান একদিন সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছাবে। মোত্তালিবের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জীবনে দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে আল্লাহর অশেষ রহমতে আজকে আমি ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। আশা করি নিজের ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশের মানুষের সেবা দিতে পারব। তবে এ পর্যন্ত আসার পথটা কখনোই মসৃণ ছিল না। গ্রামের স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে যখন কলেজে ভর্তি হই তখনই আর্থিক টানাপোড়নের মধ্যে পড়তে হয় পুরো পরিবারকে। ফলে কলেজের পড়াশোনাও কিছুদিন বন্ধ ছিল। তাই স্থানীয় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরিও নিতে হয়েছিল। একদিকে চাকরি অপর দিকে পড়াশোনা।

মোত্তালিব বলেন, এইচএসসি পড়াশোনা শেষে ২০১২ সালে ঢাকায় এসে আর্থিক অভাব-অনটনের জন্য আবারও পড়াশোনা ছেড়ে দিই। একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেই। প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করতাম। সারাদিন গেটে বসে থাকতে হতো। সময় কাটতো না তাই মাঝে মাঝে বই পড়তাম। একদিন ছুটি নিয়ে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করি। সে ঢাকায় এসেছে কোচিং করে অ্যাডমিশন দেবে। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সম্পর্কে জেনে পড়াশোনার সেই উদ্দীপনা আবারও জাগে। সিকিউরিটি চাকরির বেতন থেকে কিছু টাকা জমিয়ে ভর্তি হয়ে যাই একটি কোচিংয়ে।

এভাবে চাকরির পাশাপাশি কোচিং করে ২০১৩ সালে ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পান মোত্তালিভ। তিনি বলেন, সিকিউরিটি চাকরিটি ছেড়ে দিলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে এই ভয়ে ঢাকাতেই থেকে যাই এবং ভর্তি হই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপরই শুরু হলো নতুন এক সংগ্রাম। প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করে কলাবাগান থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে ক্লাস করতে হতো। ভাড়া বাঁচানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেই যাতায়াত করতাম। আমার মনে আছে একদিন ক্যাম্পাস থেকে ফেরার সময় স্টুডেন্ট ভাড়া ছয় টাকা না থাকার কারণে সদরঘাট থেকে কলাবাগান পর্যন্ত হেঁটে আসতে হয়। এভাবে কখনও সিকিউরিটি চাকরি কখনও বা টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, শত বাধা পেরিয়ে আমাকে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। তবে কখনও হাল ছাড়িনি। আমি এমন একটা গ্রাম থেকে উঠে এসেছি যেখানে ছেলে-মেয়েদের নাম দস্তখত শেখার পরে স্বপ্নই থাকতো বিদেশ চলে যাবে। এরকম একটা পরিবেশে আমি স্বপ্ন দেখতাম আমি একদিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি করব। তবে কখনও ভাবিনি যে বিসিএসের মতো এতো তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটা পরীক্ষা দিয়ে দেশের প্রথম শ্রেণির একটা চাকরি করব। ভবিষ্যতে যারা বিসিএস পরীক্ষা দেবে তাদের উদ্দেশে মোত্তালিব বলেন, বিসিএস ক্যাডার হওয়া যতটা না কষ্টের তার থেকে বেশি কষ্টসাধ্য কাজ হচ্ছে লেগে থাকা। তাই ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকলে একদিন সফলতা আসবেই।

আগামীতে আর নির্বাচন করবো না: শামীম ওসমান

রাজনীতি : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন হবে। নির্বাচন সময়মতই হবে। আমি হয়তো আগামীতে আর নির্বাচন করবো না।

এর আগে একবার পতিতাপল্লি উঠিয়েছি। এবার সব ভালো মানুষগুলোকে নিয়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও ইভটিজিং বন্ধ করবো। এগুলো করতে পারলে আমি আর নির্বাচন করবো না। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি এমন নারায়ণগঞ্জ করতে চাই যেখানে গভীর রাতে মেয়েদের একা হাঁটতে ভয় করবেনা। নির্বাচনের পর স্পেশাল স্কোয়াড আনবো। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক, আমি ওদের ছাড়বো না। রাজনীতিতে মানুষের সেবা করতে এসেছি। আমি মারা গেলে যেন মানুষের চোখে একটু পানি আসে এতটুকুই আমার চাওয়া।

শামীম ওসমান বলেন, বিএনপির ছেলেরাও তো আমাদের সন্তান। ওরা ককটেল মারে সেটা ভিডিও করে। আদালতে যখন মামলা হবে তখন বলবে কী প্রমাণ আছে। তখন এই ভিডিও দেখানো হবে। যখন এই ককটেল ও আগুনের ভিডিও দেখানো হবে তখন এর চেয়ে বড় সাজা যাবজ্জীবন ও সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড। তখন কে কাদঁবে, ওর পরিবারের সদস্যরাই কাঁদবে। আমার এই এলাকার বেশ কিছু ছেলে ফেঁসে গেছে। এখনও সময় আছে থামানোর। ওদের আবারও ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে।

আর খুব বেশি দিন নেই, আ.লীগের লোকজনকে আজীবন জেলে থাকতে হবে: ব্যারিস্টার রুমিন

আজকের সেরা সংবাদ : দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন না হলে দেশে ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বক্তব্যের পরই রাজনীতিতে নতুন করে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। কোন পথে হাঁটছে দেশের রাজনীতি। এ ওয়ান ইলেভেনের বিষয়টি এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে টেলিভিশনের টকশো পর্যন্ত জোর আলোচনা হচ্ছে।

সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে এক টকশোর আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সহসম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। টকশোর একপর্যায়ের রুমিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওবায়দুল কাদের বলেছেন— নির্বাচন না হলে ওয়ান ইলেভেনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে, এ বক্তব্যকে কীভাবে দেখেন?

জবাবে ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, দেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৩ হাজার। সেখানে বন্দি ৮৮ হাজার। এটি দেড় মাস আগের রিপোর্ট। বর্তমানে সংখ্যাটি লক্ষাধিক হবে। এর অর্থ দাঁড়ায়— নভেম্বরের শুরুতেই ছিল কারাগারে ধারণাক্ষমতার দ্বিগুণ। এখন আরও বেশি।

আওয়ামী লীগের লোকজন ক্ষমতায় আছে বহুদিন ধরে। এ জন্য তাদের কারাগারে হাঁটতে হয় না তো। হাঁটতে হলে তখন টের পাবেন। ধারণক্ষমতা কত? ভেতরে থাকে কত? আর খুব বেশি দিন নেই কারাগারে যেতে।
একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এখন আওয়ামী লীগ যা করছে, তাই কি বিএনপি করবে?

জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা কিছু করব না। যেই সরকারই আসুক। গত ১৫ বছরে যে লুটপাট করেছে, যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, মানুষকে তারা বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছে। হেফাজতকে যেভাবে টর্চার করেছে, তারা প্রতিটা খাতকে ধ্বংস করেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। জাতির কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগের বিচার হবে। আওয়ামী লীগ যারা করেছে, তাদের আজীবন কারাগারে থাকতে হবে। একজনও ছাড় পাবে না।

রুমিন ফারহানা বলেন, হঠাৎ ওবায়দুল কাদের ওয়ান ইলেভেন নিয়ে গা ঝাড়া দিচ্ছেন কেন? ওয়ান ইলেভেন না তাদের আন্দোলনের ফসল। ওয়ান ইলেভেনের একজনেরও বিচার গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ করেনি। কারণ সেই সময় তারা ভারতকে কথা দিয়ে এসেছিল যে, যারা ওয়ান ইলেভেন ঘটিয়েছে, তাদের সেফ এক্সিট দেওয়া হবে। প্রণব মুখার্জির বইটা খুললেই বিস্তারিত জানা যায়।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের ১১ দিন আগে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর সেই নির্বাচন আর হয়নি। জরুরি অবস্থা জারির আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারটি ছিল বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে। সেই সময় নানা দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে আন্দোলনে ছিল। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্ব সেই সময়ের ১৭-দলীয় জোট নির্বাচনের পথে ছিল।

দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যে ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তত্ত্বাবধায়কের প্রধানের পদ ছেড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। এর পর শপথ নেয় ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৯০ দিন হলেও সেই সরকার ক্ষমতায় থাকে দুই বছর। আর সেই সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাওয়ার পর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর বিএনপি যায় আন্দোলনে আর আওয়ামী লীগ বলছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার না পেয়ে ২০১৪ সালের মতো এবারও ভোট বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তবে তাদের দাবি পাত্তা দিচ্ছে না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার।

সূত্র : যুগান্তর

আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু ভোট লাঙ্গলে দেব

রাজনৈতিক : নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু ৭ তারিখের নির্বাচনে ভোট লাঙ্গলে দেব। আমার ভোট সেলিম ভাইকে দেব।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের সমর্থনে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

চন্দন শীল বলেন, সারা বাংলাদেশে ওসমান পরিবার একের পর এক ইতিহাস তৈরি করেছে। এবারও ইতিহাস হয়েছে। আওয়ামী লীগ ২৯৯ আসনে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছে। শুধুমাত্র ওসমান পরিবারের কৃতী সন্তান সেলিম ওসমানের জন্য একটি আসনে কোনো নৌকা মার্কা দেন নাই, খালি রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, সেলিম ওসমান জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী। জননেত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ করার লক্ষে যে পরিকল্পনা করেছেন সেই পরিকল্পনায় সহযোদ্ধা হিসেবে সেলিম ওসমানকে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আমি সেলিম ভাইকে ভোট দেব। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক। তাই আমরা সালাম পাই, সম্মান পাই। অনেকে এ আদর্শের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যা যে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা তা মানছে না। এটাকে আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা সহজভাবে নেবো না।

১৪নং ওয়ার্ড এর সাবেক কাউন্সিলর মো. শফিউদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো শহীদ বাদল (ভিপি বাদল), মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল প্রমুখ।

বিকেলে গ্রেপ্তার রাতে হাজতে ‘ঝুলন্ত লাশ’

অপরাধ: হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, বিকেলে গ্রেপ্তার করে থানাহাজতে নেওয়ার পর রাতে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই যুবক। তবে পরিবারের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উপজেলার নন্দিপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে গোলাম রাব্বানীকে (২০) চুরির অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে তার বাসার সামনে থেকে আটক করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই মনিরুল ইসলাম। রাত ৮টার দিকে থানাহাজতের ফ্যানের

সঙ্গে পরনের বেল্ট ও গেঞ্জি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তবে রাব্বানীর বড়ভাই মঈন উদ্দিন দাবি করেন, রাব্বানীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন আছে। তিনি বলেন, প্রথমে তার ভাইয়ের বুকে ব্যথা বলে তাদের খবর দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে তারা রাব্বানীকে মৃত অবস্থায় পান।
এ বিষয়ে বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি চুরির মামলা আছে। পুলিশের অগোচরে সে আত্মহত্যা করেছে। তার পরিবারের সদস্য ও একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে।’

দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা জেগে মানুষকে পাহারা দেয় পুলিশ

পুলিশ রাতে ঘুমায় না, দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা জেগে থেকে মানুষকে পাহারা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়ের বাজার বধ্যভূমি এলাকায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রার্থীদের প্রতি ডিএমপির কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, অবশ্যই আছে, নির্বাচন যেন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হতে পারে। সেটির জন্য নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি রিটার্নিং অফিসার প্রতি জেলায় রয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকায়ও রয়েছে। এর মধ্যে যেখানে যে ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেটা সমাধানের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে। ৭ তারিখের ভোট সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারবো। এতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি রয়েছে। এর পাশাপাশি আনসার ও বিজিবিও প্রস্তুত রয়েছে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীও সিভিল প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য মাঠে নামবে।

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, রাজধানীতে যেসব ছিনতাইপ্রবণ এলাকা আছে, তার মধ্যে মোহাম্মদপুর একটি। কিছুদিন আগে সেখানে একটি ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পুরো গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আর যেন ঘটতে না পারে সে জন্য পুলিশি টহলের পাশাপাশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, পুলিশ রাতে ঘুমায় না। দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকে। মানুষকে পাহারা দেয়। কোনো চুরি ছিনতাই যাতে কোথাও না হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। এমনকি কোনো দুর্যোগ ঘটলে দ্রুত সময়ে সহযোগিতা করতে পারে সেজন্য জেগে থাকে

নৌকার প্রচারনায় সংসদের যুগ্ম সচিব- অতঃপর

২৪ ডিসেম্বর মুন্সিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং বিগত ২৫ ডিসেম্বর জগন্নাথদিঘী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত পায়েরখোলা এলাকার নির্বাচনী সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন। 

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম জি কিবরিয়া মজুমদারকে নির্বাচনি আচরণ বিধি ভঙ্গের  দায়ে শোকজ দিয়েছেন কুমিল্লা-১১আসনে নির্বাচনি তদন্ত কমিটি।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) কুমিল্লা-১১ আসনের নির্বাচনি তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সহকারী জজ  সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোয় এই শোকজ দেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি তদন্ত কমিটি।

এতে চিঠিতে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার কুমিল্লার মাধ্যমে কুমিল্লা-১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মিজানুর রহমান আপনার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরপূর্বক দাবি করেন যে আপনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হয়েও বিগত ২৪ ডিসেম্বর মুন্সিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং বিগত ২৫ ডিসেম্বর  জগন্নাথদিঘী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত পায়েরখোলা এলাকার নির্বাচনী সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এবং আপনার অধীনস্থ কর্মচারী মো. আবুল কাশেম এর মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনপূর্বক চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নৌকা প্রার্থী মো. মুজিবুল হকের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছেন।

এ সংক্রান্ত নিউজ যমুনা টিভির বিগত ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচনের সব খবর সংবাদে প্রচারিত হয়, যার ভিডিও ক্লিপ ও স্থিরচিত্র এই অনুসন্ধান কমিটির নিকট সংরক্ষিত রয়েছে, যাতে আপনার সরব উপস্থিতি পরিলক্ষিত করা যাচ্ছে। ওই কার্যাবলীর মাধ্যমে আপনি “সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮” এর ১৪(১)(২) এর বিধি লংঘন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয় ।

এই অবস্থায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে কেন আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে না সে বিষয়র আগামী ০১ জানুয়ারি সকাল ১১ টায় নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কার্যালয়ে স্বশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

স্বামীর নামে মিল, বিনা অপরাধে কারাগারে ৪ দিন

সাতক্ষীরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির পরিবর্তে রুহী আকতার স্মৃতি নামে নারীকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে তালা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মামুন। এ ঘটনায় চারদিন কারাভোগ শেষে বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

এর আগে ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে রুহী আকতার স্মৃতিকে তার বাসা থেকে আটক করে সাব-ইন্সপেক্টর মামুন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

রুহী আকতার স্মৃতির স্বামীর নাম আরিফুল ইসলাম মালী, বাবা শহর আলী ও মায়ের নাম হালিমা বেগম। অন্যদিকে প্রকৃত আসামি সুমী আক্তারের স্বামীর নামও আরিফুল ইসলাম বিশ্বাস, মায়ের নাম সালমা বেগম।

জানা যায়, তালা উপজেলার বারুইআটি গ্রামের শহর আলীর মেয়ে রুহী আকতার স্মৃতিকে একটি চেক প্রতারণার মামলায় ২৩ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় দিকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে তালা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মামুন। গ্রেপ্তারের পর রুহী আকতার স্মৃতিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) কারাগারে থাকা রুহী আকতার স্মৃতির স্বজনরা সাতক্ষীরা আদালত থেকে তাকে জামিনে মুক্ত করে মামলার নথিপত্রে দেখেন, যে মামলায় রুহী আকতার স্মৃতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই মামলার প্রকৃত আসামি তালা উপজেলার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী সুমি আক্তার। সুমি আক্তারের বাড়ি বারুইহাটি গ্রামের বিশ্বাস পাড়ায়।

এ ঘটনায় তালা থানার এসআই মামুন বলেন, গ্রেপ্তার করার সময় বা থানায় এসে তাদের পরিবারের কেউ বলেনি আমি সেই আসামি নই। তালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও এসেছিলেন তিনিও বলেননি। এখন শুনছি গ্রেপ্তার করা আসামি প্রকৃত আসামি নয়।

গ্রেপ্তার হওয়া নারীর শ্বশুর আব্দুল কাদের মালী জানান, আমরা বারবার বলেছি পুলিশকে সে কোনো এনজিও থেকে লোন নেয়নি। সে কোনো অপরাধী নয়। তবুও বৌমাকে ভাত খাওয়া অবস্থায় ধরে নিয়ে যায়। চারদিন সে বিনা অপরাধে জেল খেটেছে।

মামলার বাদী বেসরকারি এনজিও সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন তালা শাখার ম্যানেজার সৈয়দ ইমারন আলী বলেন, আমি মাত্র এক মাস আগে এই শাখায় যোগদান করেছি। কাগজপত্র না দেখে বিস্তারিত বলতে পারছি না।

এ ঘটনায় তালা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মোমিনুল ইসলাম জানান, দুইটা চেক প্রতারণার মামলায় তাকে আটক করা হয়। চেয়ারম্যান জাকিরও থানায় এসেছিল। তখন তিনিও তো বলেননি। তাছাড়া তাদের পরিবারের কেউ বিষয়টি জানায়নি। ঘটনাটি আমরা জানার পর বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি আব্দুল লতিফ বলেন, এমন ভুল কীভাবে হয়েছে জানি না। যে নামে ওয়ারেন্ট থাকবে পুলিশ সেই নামের ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করবেন। এর বাইরে কিছু হওয়ার সুযোগ নেই।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি জানা মাত্র তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনেক সময় নামের মিল থাকে সেক্ষেত্রে হতে পারে তবে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা হবে। যদি পুলিশের কেউ কিংবা অন্য কেউ হয়রানিমূলকভাবে এটি করে থাকে সেটা প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহাসমাবেশ ইস্যুতে হেফাজতে ইসলামের বিবৃতি

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা ২৯ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পর কিছু গণমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ হওয়াতে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা ২৯ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গতকাল কিছু গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচারিত হয়েছে যে, এ সিদ্ধান্ত আমার অবগতি বা অনুমোদন ব্যতীত গৃহীত হয়েছে।

এই ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন অমূলক এবং বাস্তবতা বিবর্জিত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া খুবই দুঃখজনক। অনুমানের ভিত্তিতে এমন অসত্য তথ্য প্রকাশ করা চরম বিভ্রান্তিকরও বটে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৯ তারিখের মহাসমাবেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমার নির্বাহী অনুমোদনের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের যেই বৈঠকে মহাসমাবেশ স্থগিত করার প্রস্তাবনা তুলা হয় সেই বৈঠকের ব্যাপারে আমি পূর্ণ অবগত ছিলাম। পরবর্তীতে মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান কর্তৃক আমার অনুমোদনের ভিত্তিতেই মহাসমাবেশ স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সকল সিদ্ধান্ত সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীলদের পরামর্শক্রমেই গৃহীত হয়ে থাকে। এ নিয়ে অমূলক বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো অবকাশ নেই।

হেফাজতের আমির বলেন, অনতিবিলম্বে বিনাশর্তে মাওলানা মামুনুল হকসহ সকল কারাবন্দি আলেমদের মুক্তি দিতে হবে। ২০১৩ সাল থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। খুব শীঘ্রই হেফাজতের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...