শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

আলু নাগালের বাইরে, সবজি-মুরগির দাম বাড়লো আরও

হেড লাইন: সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দাম আরও বেড়েছে। এছাড়া দরিদ্র মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে আলুর দাম। পণ্যটির দাম এখন প্রতি কেজি চালের দামের চেয়েও বেশি। অন্যদিকে পিয়াজ, রসুন, আদা ও চিনি আগের উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি, সোনালি হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামও বেড়েছে। সোনালি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি, লেয়ার ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মুরগির দাম বাড়ায়, খুচরা বাজারেও মুরগি বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে পুরনোর সঙ্গে শীত মৌসুমে যুক্ত হয় নতুন আলু। ক্রেতারাও শীতকালীন সবজির সঙ্গে সাধারণত স্বস্তিতে কেনেন পণ্যটি।

তবে এবারের শীতের চিত্র একেবারে ভিন্ন। আলুর কেজি ঠেকেছে ৮০ টাকায়। ফলে দাম বিবেচনায় উচ্চমূল্যের চালকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে আলু। আলুর দাম বাড়া প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের যুক্তি সরবরাহ কম থাকা। যদিও রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে আলুর কোনো সংকট পাওয়া যায়নি। আলুর মতো পিয়াজের বাজার এখনো চড়া। ক্রেতাকে প্রতি কেজি নতুন দেশি পিয়াজ কিনতে হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। পুরনো দেশি পিয়াজের দাম পড়ছে প্রতি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা। ওদিকে ভরা মৌসুমেও নতুন করে আরও বেড়েছে প্রায় সকল ধরনের সবজির দাম। শুক্রবার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধা কপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা এবং গাজর ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এসব বাজারে বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকায়, ধুন্দুল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনে পাতা কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়, জালি কুমড়া ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। বাজারগুলোতে লাল শাক ১০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, মূলা শাক ১০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, কলমি শাক ১০টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মাছের বাজার আগের উচ্চমূল্যেই স্থির রয়েছে। শুক্রবার এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, মাগুর মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা , মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৯০০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, কাচকি মাছ ৬০০ টাকায় এবং সোল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ছুটির দিনেও কর্মসূচি দিল জামায়াত

জাতীয়: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন ও ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বানে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি আরও দুই দিন বাড়িয়েছে জামায়াত।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম।

এটিএম মা’ছুম বলেন, বর্তমান সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত প্রহসনের নির্বাচনের তপশিল প্রত্যাখ্যান করে জনগণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে। সরকার গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে

বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল ব্যতিরেকে নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে। জনগণ এ নির্বাচন মেনে নেবে না। আমি জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘোষিত গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি আগামী ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

এর আগে, গত রোববার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর দেশব্যাপী সর্বস্তরের জনগণের নিকট সর্বাত্মক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়।

আমি প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন, সাংবাদিকরা আমার কিছু করতে পারবে না

দেশজুড়ে : বিএনপির বহিষ্কৃত ভাইস চেয়ারম্যান ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান ওমর বলেছেন, সাংঘাতিক আছে না সাংবাদিক, তারা এতই সাংঘাতিক যে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলে প্রচার করে।

এখানে কোনো সাংঘাতিক, সাংবাদিক আছো নাকি? আমি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন, তোমাদের সাংবাদিকতায় আমার কিছুই যায় আসে না। গত বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজাপুর বাইপাস মোড়ে নৌকার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে কর্মী সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সাবেক এই বিএনপি নেতা বলেন, কেন্দ্রে নিজেরা ঝগড়াঝাঁটি ও মারামারি করবেন না। নিজেরা নিজেরা ঝগড়াঝাঁটি করলে রিপোর্ট হয়। এই দেখেন না গত পরশুদিন স্কুল শিক্ষকদের সামনে আমি বক্তব্য দিলাম অথচ পেপারে উঠেছে আমি জোর করে শিক্ষকদের মিটিংয়ে থাকতে বাধ্য করেছি।

এ সময় ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস, রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম সরফরাজ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বাচ্চুসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্নস্থরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈগল ভেবে মহাবিপন্ন শকুন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা!

দেশজুড়ে : হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে ঈগল ভেবে জীবন্ত শকুন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে। পরে দেখা যায় সেটি ঈগল নয়, মহাবিপন্ন প্রজাতির একটি শকুন।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শকুনটি উপজেলার মকা গ্রাম থেকে উদ্ধার করেন জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা। স্থানীয়রা জানান, গত রোববার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বানিয়াচং উপজেলার ৬ কাগাপাশা ইউনিয়নের মকার হাওরে এলকাবাসীর হাতে এই বিরল প্রজাতির শুকুনটি ধরা পড়ে।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পাখিটি দেখতে অসংখ্য উৎসুক জনতা ভিড় করে। পরে পাখিটিকে ঈগল ভেবে নির্বাচনী প্রচারণা করেন ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে অনেকে পোস্ট করেন। পরে, জেলা বন বিভাগ কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে অভিযান চালিয়ে শকুনটি উদ্ধার করে বন বিভাগ।

এ বিষয়ে জেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী জানান, এটি হিমালয় থেকে আসা বিরল প্রজাতির একটি শকুন, পাখিটি বর্তমানে অসুস্থ আছে, সম্পূর্ণ সুস্থ হলে অবমুক্ত করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই বিশ্বে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered)। বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আইইউসিএনের হিসেবে বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮টি শকুন রয়েছে।

জোহরা মিলা বলেন, পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার, খাদ্য সংকট এবং বাসস্থান সংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে। শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেলে সুন্দর একটি পাখি হারানো পাশাপাশি দেশের মানুষ অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্কসহ পশু হতে সংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। আইইউসিএনের মাধ্যমে বন অধিদফতর শকুন রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাখিটির প্রতি আমাদের সদয় হওয়া খুবই প্রয়োজন।

কারাবন্দি শ্রমিকদল নেতার মৃত্যু

জাতীয়: রাজধানীর পল্টন থানায় একটি নাশকতা মামলায় আটকের পর বিনা বিচারে কাশিমপুর কারাগারে আটক থাকা মুগদা থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজল মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

জানা যায়, কাজল গত মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান।

এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করে কাজলের নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

এছাড়াও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম।

উল্লেখ্য, ২৮শে অক্টোবর মহাসমাবেশের পণ্ড হওয়ার গণহারে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। গত দুই মাসে কারাগারে কাজলসহ সাতজন বিএনপি নেতা মারা গেছেন।

স্বামীকে মেরে ফেলো, তারপর না হয় তোমার কাছে চলে আসবো

অপরাধ: ‘তুমি আমার কাছে আসতে চাইলে আমাকে কী করতে হবে? তোমার স্বামীকে মেরে ফেললে হবে? সাহস থাকলে আমার স্বামীকে মেরে ফেলো, তারপর না হয় আমি তোমার কাছে চলে আসবো। অন্যথায় আমি কীভাবে আসবো?’

স্বামী আলমগীরকে হত্যার আগে এসব কথোপকথন হয়েছিল গৃহবধূ রোমানা আক্তার (১৯) ও সাবেক প্রেমিক সাকিবের মধ্যে। জানা গেছে, মেরে ফেলার সম্মতি পেয়ে পরকীয়া প্রেমিক সাকিব রোমানার স্বামী আলমগীরকে হত্যার নেশায় মত্ত হয়ে ওঠেন।

আলমগীরকে অনুসরণ করতে শুরু করেন সাকিব। গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের হায়দার আলী জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় আলমগীরকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান সাকিব। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আলমগীরের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। রাজনীতির সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুরুতে ছিনতাইকারীরা তাকে মেরেছে এমন কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও আলমগীরের সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা, মোবাইল অক্ষত থাকার খবরে তা দূর হয়ে যায়।

পরে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করলে আলমগীরের স্ত্রীকে সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ২৭ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় রোমানা পুলিশের কাছে স্বামী হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেন।

গৃহবধূ রোমানা আক্তার জানান, ৭-৮ মাস আগে সাকিবের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয় কিন্তু এসএসসিতে ফেল করায় পরিবার তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। স্বামী আলমগীর তাকে স্মার্টফোন কিনে দিলে সেটি দিয়ে পুরোনো প্রেমিক সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। একসময় সাকিব রোমানাকে তার কাছে চলে যেতে বললে রোমানা বলেন, ‘কীভাবে যাবো, আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে।’ তখনই তাদের মধ্যে আলমগীরকে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়।

এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, আলমগীরকে হত্যার পর প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রোমানা আক্তার। আর ঘটনার কিছু আলামতে আমাদের সন্দেহ হওয়ায় তাকে আমরা নজরদারিতে রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে তাকে আমরা আটক করে থানায় নিয়ে আসি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

বিনামূল্যে ১৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলকে ডা. কামরুল

দেশজুড়ে : প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দেড় হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক স্পর্শ করলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনে দীর্ঘ ১৪ বছর সময় লাগলেও শেষ ২৬ মাসে ৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় রাজধানীর শ্যামলী সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মাইলফলক অর্জন করেন তিনি। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল।

তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা যে— আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে ১৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করতে পেরেছি। এই অর্জন আমার জন্য খুবই সম্মানের এবং গৌরবের। স্রষ্টার কাছে এর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কখনো শেষ হবে না। দোয়া করবেন যেন আমৃত্যু এই কাজটি করে যেতে পারি।

কামরুল ইসলাম বলেন, যখন আমরা কাজটা প্রথম শুরু করি, তখন আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। আমরা তখন নিশ্চিতও ছিলাম না আমাদের পরিকল্পনাগুলো আলোর মুখ দেখবে কি-না। তখন আমাদের একটা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে খুবই ভয় হতো। আমরা দুশ্চিন্তায় ভুগতাম যে, আমাদের কাজটা সফল হয় কি-না, কোন ধরনের জটিলতা তৈরি হয় কি-না। যে কারণে প্রথম দিকে আমাদের প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এত বেশি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিকে এক মাস-দুই মাসে একটা প্রতিস্থাপন করতাম, এমনকি সেই রোগীকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে আমার ফলোআপে রাখতাম, যাতে সে পূর্ণ সুস্থ হয়। পরবর্তীতে যখন দেখলাম ভালোই হচ্ছে এবং কমপ্লিকেশনগুলো ওভারকাম করতে পারছি, তখন আমাদের প্রতিস্থাপনের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। পরবর্তীতে প্রতি মাসে দুইটা, এরপর প্রতি সপ্তাহে একটা, এবং এক পর্যায়ে সপ্তাহে একাধিক কিডনি প্রতিস্থাপন করতে থাকলাম।

জানা গেছে, কিডনি প্রতিস্থাপনে অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও গত এক যুগ ধরে দুই লাখের আশপাশেই ছিল অধ্যাপক কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ১৫শ প্রতিস্থাপনের একটিতেও তিনি ব্যক্তিগত কোনো পারিশ্রমিক নেননি। এমনকি প্রতিস্থাপন পরবর্তী ফলোআপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও আমৃত্যু রোগীর কাছে নেন না কোনো ফি।

এর আগে, নিজের পারিশ্রমিক ছাড়া এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেশে-বিদেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার এ সন্তান। এরপর দায়িত্ববোধ যেন আরও বেড়ে যায়। মাত্র ২৬ মাসে আরও ৫শ’ কিডনি প্রতিস্থাপন করে নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙেন। কোভিডকালে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে প্রতিস্থাপন প্রায় বন্ধ হলেও তিনি ২৫০টি কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের রেকর্ড বলছে, প্রতিস্থাপনের পর এক বছর কিডনি সচল থাকার হার ৯৪ শতাংশ। তিন বছর পর্যন্ত ৮৪ শতাংশ, পাঁচ বছর পর্যন্ত ৭২ শতাংশ এবং ১০ বছর পর্যন্ত কিডনি সচল বা সুস্থ থাকার হার ৫০ শতাংশ। তরুণদের কিডনি দানের হার বেশি হলে গ্রহীতারা আরও দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকতে পারতো।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এক হাতে দেশের এক তৃতীয়াংশ কিডনি প্রতিস্থাপনের পর এখন হাসপাতালের পরিসর বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। প্রতিস্থাপনের সংখ্যা বাড়াতে আগামীতে ক্যাডাভারিক বা ব্রেইন ডেথ রোগীর শরীর থেকে কিডনি নিয়ে তা প্রতিস্থাপনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন এই মানবিক চিকিৎসক।

ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপার্সন শমসের মুবিন চৌধুরীর ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে

তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী শমসের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম। জল্পনা কল্পনা ছিল আওয়ামী লীগ আসন ছেড়ে দিবে শমসের মুবিন, এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু লক্ষ করা যাচ্ছেনা। শমসের মুবিনের সমর্থকরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী। শমসের মুবিনের প্রচারণা সভা সমাবেশ হাঁতে গোনা কয়েকটি এ পর্যন্ত হলেও তিনি নিজেও মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভোটের মাঠে কোন কোন কেন্দ্রে তৃণমূল বিএনপির কোন সমর্থক ও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব মিলে নিজের এলাকার কেন্দ্রে জয়যুক্ত হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ রয়েছে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ তখন প্রচারণায় ব্যস্ত। ঢাকায় যেতে হঠাৎ কেন্দ্রের তলব। গোলাপগঞ্জের লক্ষণাবন্দ থেকে সোজা ধরলেন এয়ারপোর্টের পথ। দুপুর ১২টার ফ্লাইটে ঢাকায় গেলেন। গোলাপগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন- ৪০ মিনিটের বৈঠক হলো ঢাকায়। বৈঠক শেষে বিকালে তিনি যখন বের হলেন তখন সিলেটে থাকা নেতাদের ফোনে জানিয়ে দিলেন- ‘আমি নির্বাচন করবো।’ তার এই নির্দেশের পর উৎকণ্ঠায় থাকা নেতারা ফের মাঠে নেমে পড়লেন।

ভোটের প্রচারণায় নানা খবর বাতাসে ভেসে বেড়ায়। তার আসনে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ার‌্যামান শমসের মুবিন চৌধুরী। আলোচনা চলছে তাকে নিয়েও। তৃণমূল বিএনপি’র নেতারা মনে করছেন- নাহিদই বাধা শমসের মুবিনের।

এদিকে, এবারের সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে সিলেট-৬ আসনের দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন, সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। এই চারজনই হচ্ছে হেভিওয়েট প্রার্থী। ভোট করতে প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফলে আসনটিতে খোদ তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী প্রার্থী হওয়ায় যেকোনো নাটকীয়তা ঘটতে পারে বলে ভোটারসহ রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। এ কারণে হঠাৎ করে নাহিদের ঢাকা সফর নিয়ে নানা জল্পনা ডালপালা মেলে। নাহিদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন- দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি জানা যায়নি। তবে- বৈঠক শেষে তিনি নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এবং নির্বাচন করবেন বলেও ঘোষণা দেন। অন্যদিকে তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী ঢাকা সফরে কার সঙ্গে কোথায় আলোচনা করেছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দলের নেতারা শমসের মুবিনের ঢাকা সফরকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে জানিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন; হঠাৎ ঢাকা সফরে গিয়ে ‘চাঙ্গা’ হয়ে এলাকায় ফিরেছেন শমসের মুবিন চৌধুরী। নির্বাচনে জয় ঘরে তুলতে মাঠে দুর্বার গতিতে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। অথচ ঢাকা সফরের শমসের মুবিন চৌধুরীকে এতটা আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে এই আসনে মাঠ জরীপে দেখা যায় নৌকার নুরুল ইসলাম নাহিদ ও স্বতন্ত্র সরওয়ার হোসেনের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে। আঃলীগের তৃণমূল নেতা কর্মীরা চায় দালাল খলিফা মুক্ত এমপি সেই স্লোগানকে সামনে নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে কোন নাটকীয়তার মাধ্যমে যদি তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপার্সন শমসের মুবিন চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে দেয়া হয় বা আঃলীগের প্রার্থী নৌকা নিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ থাকেন কেউ ই স্বতন্ত্র সরওয়ার হোসেনের ঈগল মার্কাকে আটকানো কষ্টসাধ্য হবে বলে মনে করেন সাধারন জনগন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনের প্রতিটা নির্বাচনী সভা থেকে সাধারন বক্তারা অভিযোগ করতে দেখা যায় আঃলীগ প্রার্থী নুরুল ইসলামের নেতা কর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছেন আবার অনেকে বলে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রে গিয়ে লাভ নেই রেজাল্ট হয়ে ই আছে। সেইসাথে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে অনেক ধরনের গুজব ছড়াতেও দেখা যাচ্ছে। সরওয়ার হোসেনের কর্মীরা বলছেন এবার অটোফাশের দিন শেষ যে কোন কিছুর বিনীময়ে কেন্দ্র পাহারা দেয়া হবে আর হুমকি ধামকি যারা দিচ্ছে তাদের প্রতিহত করা হবে। গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। 

বাবা ভিন্নমতের তাই- শিশুর মাথায় গরম চা ঢেলে দিলো নৌকা সমর্থকরা, পুড়ে গেছে মুখমণ্ডল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে লালচান আলী (১০) নামে এক শিশুর শরীরে গরম চা ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ পৌরসভার মর্দানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত শিশু শিবগঞ্জ পৌরসভার মর্দানা গ্রামের সুমন আলীর ছেলে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হক অভিযোগ করে জানান, শিশু লালচানের পিতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের ট্রাক প্রতীকের সমর্থক। শিশুটি ভুল করে বাড়ির পাশে নৌকা মার্কার অফিসে যায়। এ সময় নৌকা প্রতীকের সমর্থক রুহুল আমিন নামে এক যুবক গরম চা শিশুটির শরীরে ঢেলে দেয়। এতে শিশুটির মুখমণ্ডলসহ শরীর ঝলসে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ নজমুল কবির মুক্তা বলেন, একজন শিশু যেকোন প্রার্থীর প্রচারণার অফিসে যেতেই পারে। সে তো কোন দল বোঝে না। তারপরেও শরীরে গরম চা ঢেলে চরম অন্যায় করেছে। শিশুটি এখন মৃত্যুর মুখে রয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, একজন শিশু কোনো অন্যায় করতে পারে না। নৌকার সমর্থকরা এতটাই বেপরোয়া হয়েছে, তার উদাহরণ শিশুর প্রতি সহিংসতা। প্রশাসনের উচিত নাশকতাকারী ও সহিংসতাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করা। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক আলমগীর কবির বলেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কি পরিমাণ পুড়েছে, তা জানাতে পারেননি তিনি। 

এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এমপির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য মেলেনি। 

শিবগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিশুর প্রতি সহিংসতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সময় কম, আ.লীগের লোকজনকে আজীবন জেলে থাকতে হবে: ব্যারিস্টার রুমিন

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন না হলে দেশে ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ বক্তব্যের পরই রাজনীতিতে নতুন করে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। কোন পথে হাঁটছে দেশের রাজনীতি। এ ওয়ান ইলেভেনের বিষয়টি এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে টেলিভিশনের টকশো পর্যন্ত জোর আলোচনা হচ্ছে।   

সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে যমুনা টেলিভিশন টকশোর আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সহসম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। টকশোর একপর্যায়ের রুমিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওবায়দুল কাদের বলেছেন— নির্বাচন না হলে ওয়ান ইলেভেনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে, এ বক্তব্যকে কীভাবে দেখেন?

জবাবে ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, দেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৩ হাজার। সেখানে বন্দি ৮৮ হাজার। এটি দেড় মাস আগের রিপোর্ট। বর্তমানে সংখ্যাটি লক্ষাধিক হবে। এর অর্থ দাঁড়ায়— নভেম্বরের শুরুতেই ছিল কারাগারে ধারণাক্ষমতার দ্বিগুণ। এখন আরও বেশি। আওয়ামী লীগের লোকজন ক্ষমতায় আছে বহুদিন ধরে। এ জন্য তাদের কারাগারে হাঁটতে হয় না তো। হাঁটতে হলে তখন টের পাবেন। ধারণক্ষমতা কত? ভেতরে থাকে কত? আর খুব বেশি দিন নেই কারাগারে যেতে। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এখন আওয়ামী লীগ যা করছে, তাই কি বিএনপি করবে?

জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা কিছু করব না। যেই সরকারই আসুক। গত ১৫ বছরে যে লুটপাট করেছে, যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, মানুষকে তারা বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছে। হেফাজতকে যেভাবে টর্চার করেছে, তারা প্রতিটা খাতকে ধ্বংস করেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। জাতির কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগের বিচার হবে। আওয়ামী লীগ যারা করেছে, তাদের আজীবন কারাগারে থাকতে হবে। একজনও ছাড় পাবে না। 

রুমিন ফারহানা বলেন, হঠাৎ ওবায়দুল কাদের ওয়ান ইলেভেন নিয়ে গা ঝাড়া দিচ্ছেন কেন? ওয়ান ইলেভেন না তাদের আন্দোলনের ফসল। ওয়ান ইলেভেনের একজনেরও বিচার গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ করেনি। কারণ সেই সময় তারা ভারতকে কথা দিয়ে এসেছিল যে, যারা ওয়ান ইলেভেন ঘটিয়েছে, তাদের সেফ এক্সিট দেওয়া হবে। প্রণব মুখার্জির বইটা খুললেই বিস্তারিত জানা যায়। 
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের ১১ দিন আগে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর সেই নির্বাচন আর হয়নি।

জরুরি অবস্থা জারির আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারটি ছিল বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে। সেই সময় নানা দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে আন্দোলনে ছিল। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্ব সেই সময়ের ১৭-দলীয় জোট নির্বাচনের পথে ছিল। দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যে ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তত্ত্বাবধায়কের প্রধানের পদ ছেড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। এর পর শপথ নেয় ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৯০ দিন হলেও সেই সরকার ক্ষমতায় থাকে দুই বছর। আর সেই সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাওয়ার পর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর বিএনপি যায় আন্দোলনে আর আওয়ামী লীগ বলছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার না পেয়ে ২০১৪ সালের মতো এবারও ভোট বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তবে তাদের দাবি পাত্তা দিচ্ছে না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...