শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

নির্বাচন নিয়ে যে তথ্য দিল দুই মার্কিন পর্যবেক্ষক সংস্থা

হেড লাইন: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা আছে কিনা, তা জানতে চেয়েছে। সংস্থা দুটি নির্বাচনকালীন সহিংসতার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে। সংস্থা দুটি হচ্ছে- ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউট (এনডিআই)।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ আমেরিকান দুটি সংস্থা মানবাধিকার কমিশনের এসেছিল। তাদের সঙ্গে আমাদের মত বিনিময় সভা হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা শুনেছেন। সেই বিষয়গুলো শুধুমাত্র আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিভিন্ন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জনের কাছেই ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকান এই দুটি পর্যবেক্ষক দলও বিষয়গুলো নিয়ে জানেন। আর এসব প্রেক্ষিতেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনকালীন সহিংসতা ও মানবাধিকারের সুরক্ষার বিষয়ে জানতে আমাদের দেশে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, তারা জানতে চান আমাদের দেশের নির্বাচনটি কেমন হবে। একটি সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়াটা সবার কাছেই চিন্তার বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু কিছু বিষয়ও হয়তো তাদের নজরে এসেছে। তবে তারা চায়, যেই পার্টিই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যেন আসে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ইসির সঙ্গে কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে নির্বাচনের পূর্বে কেমন আচরণ করা উচিৎ, নির্বাচনের সময় কেমন আচরণবিধি মেনে চলা উচিৎ এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ের আচরণবিধি সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। এ বিষয়গুলো আজ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলগুলোকেও জানিয়েছি। তারা আমাদের এই কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়েছে।

ঘুসের টাকা নিয়ে নিন নৌকায় মার্কায় ভোট দিন

রাজনীতি : চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ বলেছেন, ‘আমাদের ভাষা হচ্ছে ঘুসের টাকা নিয়ে নিন আর সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার বারঘোরিয়া ইউনিয়নের পার্কে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। আব্দুল ওদুদ বলেন, এ জেলায় যারা নৌকার বিরুদ্ধে লড়ছে তাদের ঘুসের টাকা আছে।

তারা একজন ঘুসঘোর সরকারি কর্মকর্তার টাকা দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে। আর ইয়াবা, ফেনসিডিল ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাই আমাদের ভাষা হচ্ছে তাদের ঘুসের টাকা নিয়ে নিন আর সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। এতে তাদের উচিত শিক্ষা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিবগঞ্জ-চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর এখন এই একটায় স্লোগান হওয়া দারকার। এতে ঘুসঘোর কর্মকর্তা-ইয়াবা ব্যবয়াসীদের অবৈধ অর্থের বিরুদ্ধে ন্যায্য শাস্তি নিশ্চিত হবে। তাই আপনাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আমি আপনাদের ছেলে আপনাদের ভাই। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে বার বার সংসদে পাঠিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন আসলে কুচক্রী একটি মহল বলে আমাকে নদীর ওপারে পাঠিয়ে দেবে। তাই আপনাদের ভোটের মাধ্যমে তাদের জাবাব দিতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জারা জাবিন মাহবুব, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান তোতা, বারোঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-আর-রশীদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকনসহ অন্যরা।

স্বস্তি নেই সবজির বাজারে

সবজি

কয়েক সপ্তাহ দাম কম থাকার পর ফের অস্থিরতা বেড়েছে সবজির বাজারে। ঘূর্ণিঝড় মিথিলির প্রভাব, বৈরী আবহাওয়া এবং অবরোধের মতন রাজনৈতিক কর্মসূচির ফলে পরিবহন ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির বাজার চড়া বলে জানান বিক্রেতারা।

২৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর মিরপুরে কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন ও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা।

এছাড়া প্রতি কেজি সিম ও টমেটো ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি মাঝারি সাইজের ফুলকপির দাম এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি আটি শাকের দামও ৩০ টাকার নিচে নেই। যদিও বাজারে প্রচুর পালং, মুলাসহ অন্যান্য মৌসুমি শাক রয়েছে।

গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ২০ টাকা। লাউয়ের দাম বেড়েছে বেশি। ছোট একটি লাউয়ের দাম ৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম এখনো রয়েছে একশ টাকার বেশি।

সবজি বিক্রেতা মোতালেব বলেন, সবজির আমদানি ঠিক আছে। কিন্তু আমাদেরও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তিতে।

বাজার করতে আসা ইকবাল বলেন, গত সপ্তাহতেও বাজার স্থিতীশীল ছিল। তবে, সপ্তাহ ঘুরতেই আবারো একই অবস্থা। মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারের এরকম পরিস্থিতি অস্বস্তিতে ফেলেছে।

শাহজাহান ওমরকে নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়: বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় নৌকার প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত শাহজাহান ওমরকে নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ঝালকাঠি-১ আসনে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর ওই সন্ত্রাসী দল (বিএনপি) ছেড়ে এখন নৌকায় উঠেছে। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে তিনি এই কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থেকে মানুষের ভাগ্য না গড়ে নিজেদের ভাগ্য গড়েছিল বিএনপি-জামায়াত। দেশের মানুষ তাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি-জামায়াত) দোষর হলো একাত্তরে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট করেছে সেসব যুদ্ধাপরাধীরা। বিএনপি হচ্ছে খুনি, সন্ত্রাসী, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারী, মানিলন্ডারিং ও এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীর দল। আর তাদের সঙ্গে জুড়েছে যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াত। তারা নির্বাচন চায় না, নির্বাচন বানচাল করতে চায়।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর শুধু যে একজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করেছে তা নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছিল, স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছিল। শুধু তাই নয়, জয় বাংলা স্লোগান, ৭ মার্চের ভাষণ এমনকি জাতির পিতার ছবিও নিষিদ্ধ করেছিল।

এসময় শেখ হাসিনা জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কাছে আহ্বান, আপনারা ৭ তারিখে সবাই সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন। মার্কাটা কী, নৌকা মার্কা। নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। এই নৌকায় ভোট দিলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু উদ্যানেই জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশের কয়েকটি জেলায় জনসভা করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এদিন বরিশালে যান শেখ হাসিনা। আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

জেল সুপারের বাসায় কাজ করতে এসে পালিয়ে যান কয়েদি, খোঁজ মেলেনি তিন দিনেও

দেশজুড়ে : গাইবান্ধা জেলা কারাগার থেকে পালিয়েছে নাজমুল ইসলাম (২৭) নামে এক কয়েদি। জেল সুপারের বাসায় কাজ করতে এসে পালিয়ে যান তিনি। তিন দিনেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে নাজমুল ইসলাম পালিয়ে যান। তার বাড়ি সাঘাটা উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামে। চুরির মামলায় বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে বন্দি ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারারক্ষী ও এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সম্প্রতি চুরির মামলায় নাজমুল ইসলামকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায় আদালত। এরপর থেকে নাজমুল ইসলাম কারাগারের যমুনা ওয়ার্ডে বন্দি ছিলেন।

ঘটনার দিন সোমবার ভোরে সুপারের বাসায় কাজের জন্য তাকে ডেকে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, সুপারের বাসা থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। ইতোমধ্যে তার পালানোর ঘটনায় জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন রংপুর বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে, কারাগার থেকে কয়েদির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেল সুপার জাবেদ মেহেদী জানান, আমরা তাকে খোঁজার চেষ্টা করছি।

প্রতীক বরাদ্দের একদিন পর মারা গেলেন আঃলীগ নেতা

দেশজুড়ে : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক মারা গেছেন। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আমিনুল হকের ছেলে আছিফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমিনুল হকের ছেলে জানান, মামলার শুনানিতে অংশ নিতে গত সোমবার ঢাকায় যান বাবা। ঢাকায় যাওয়ার পর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার রাতে ওনাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৫টার দিকে উনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে বাবার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নওগাঁর নজিপুরে পৌঁছাতে পারে। জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে ওনাকে দাফন করা হবে।

আমিনুল হক ২০০৬ সালে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চেয়ে আমিনুল হক দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্রে বিভিন্ন অসঙ্গগতি তুলে ধরে প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়।

পরে আমিনুল হক প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) তার প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে ঈগল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পরদিনই ওনার মৃত্যু হলো।

নওগাঁ-২ আসনে আমিনুল হক ছাড়া আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুল ইসলাম।

প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. গোলাম মওলা বলেন, সকালে সাংবাদিকদের মাধ্যমে নওগাঁ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হকের মৃত্যুর খবর শুনেছি। একজন প্রার্থী মারা গেলে আমাদের অনেক কাজ থাকে। তপশিল ঘোষণার পর প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন কার্যক্রম নিয়ে আইনে কী আছে তা দেখে সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত জানানো হবে।

সন্ধান মিললো বগুড়ায় নিখোঁজ ২ বিএনপি নেতার

বগুড়ার কাহালু উপজেলা বিএনপির নিখোঁজ সহ-দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হৃদয় ও বীর কেদার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার তারা পরিবারকে ফোন করে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। তবে বাড়ি আসার পর এতদিন কোথায় ছিলেন, কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছিল কিনা– এসব বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন দু’জনই।

আনোয়ার হোসেনের ভাতিজা মো. নুরুনবী বলেছেন, ভোরে চাচা ফোন করে শেখাহার সিএনজি স্ট্যান্ডে আছেন জানালে পরিবারের লোকজন গিয়ে নিয়ে আসে। ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানাচ্ছেন না, কারও সঙ্গে কথাও বলছেন না তিনি।

এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, দেলোয়ার হোসেনের সন্ধানও পাওয়া গেছে। রাতের মধ্যেই তিনি বাড়ি পৌঁছে যাবেন। নিজের ফেসবুকেও এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তবে এখনও দেলোয়ারের সন্ধান পায়নি বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

শেরপুর থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, আনোয়ারকে পাওয়ার কথা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়েছে। তাঁকে নিয়ে থানায় আসতে বলা হলেও আসেনি।

গত ১৪ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে শেরপুর উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি গেটের সামনে থেকে আনোয়ার এবং দুপাচাঁচিয়া উপজেলা সদরের একটি স্কুলের সামনে থেকে দেলোয়ারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করে পরিবার। পরে সন্ধান চেয়ে জিডি করেও কাজ না হলে ২৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করা হয়।

শিক্ষা সফরে গিয়ে ছাত্রের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ফটোশুট শিক্ষিকার

 আর্ন্তজাতিক: ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষা সফরে গিয়েছিলেন এক শিক্ষিকা। ওই সফরে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা কতটা পেয়েছে, তার ঠিক নেই। কিন্তু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি স্কুলের ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষা সফরে গিয়ে এক ছাত্রর সঙ্গে প্রকাশ্যেই ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা। সম্প্রতি সেসব ছবি ফাঁস হয়েছে এবং এতেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। অভিভাবক মহলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভের।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভোটের দিনের আগাম খবর

আজকের সেরা সংবাদ: ডিসেম্বর মাসের ২৬ তারিখে নিবন্ধটি লিখছি। ২০২৩ সালের চলমান লাশের মতো এমন জটিল সময় বাঙালির জীবনে কোনোকালে আসেনি। সারা দেশে নির্বাচনের জোয়ার তোলার জন্য আওয়ামী লীগ যে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে বহু মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এবারের নির্বাচন কেমন হবে তা বোঝার জন্য নির্বাচনী সুনাম-সুখ্যাতি, দুর্নাম-দুর্গতির কবলে পড়া নির্বাচন শব্দের হাল-হকিকত দেখলেই যে কেউ আন্দাজ করতে পারবেন। অতীতের বিনা ভোট কিংবা রাতের ভোটের তকমা অর্জনের জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং দিন শেষে একটি অবাক করা ফলাফল এবং উপাধি দেশবাসী দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু এবারকার কাহিনী ভিন্ন। ভোটের বহু আগেই দেশবাসী জেনে গেছে, এবারের নির্বাচনটি হবে ডামি নির্বাচন। আর বিজয়ী দল আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা।

উল্লিখিত ডামি নির্বাচনের প্রায় নিশ্চিত ফলাফল কি ডামি হবে, নাকি আরো অভিনব কিছু হবে তা কিন্তু এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচন-পরবর্তী যে সংসদ তৈরি করে সারা দুনিয়াকে চমক দেখানোর তোড়জোড় চলছে, সেখানে বিরোধী দল কারা হবে এবং বিরোধী দলের কোনো ডামি সংস্করণ থাকবে কি না তা নিয়ে আলোচনা শেষে সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, প্রধানমন্ত্রী যাদের প্রতি দয়া করবেন এবং তার করুণা ও আশীর্বাদ যাদের ওপর আপতিত হবে তারাই কেবল বিরোধী দলরূপে সংসদের গদিতে বসার সুযোগ পাবেন এবং তাদের নেতাই হবে বিরোধীদলীয় নেতা, যাকে জনগণের টাকায় মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে নানা রকম সুযোগ সুবিধাসংবলিত পদ-পদবি-পতাকার সমন্বয়ে সাজিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

ভোট নিয়ে এবার যা হচ্ছে তা যদি শেষমেশ সফল হয়ে যায় তবে নির্বাচন নামক শব্দটির অর্থ পাল্টে যাবে। গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা রচিত হবে। অন্য দিকে পশ্চিমা দেশগুলোর গণতন্ত্রের বুলি বেলুনের মতো উড়ে যাবে এবং অনাগত দিনে তারা আওয়ামী সম্পর্কে কোনো কথা বলতে গিয়ে এক শ’ বার চিন্তাভাবনা করে তার পর বলবে। আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতের অবস্থা সমপর্যায়ের হবে এবং নির্বাচনের পর রাষ্ট্রদূতদের চলাফেরা ও কথাবার্তা সরকারের মেজাজ-মর্জি মতো চলবে। সরকারের বন্ধুরাষ্ট্রের নাগরিকরা আমাদের দেশ সম্পর্কে তাদের মহব্বত এবং আত্মীয়তার বন্ধন বাড়িয়ে দেবেন এবং তাদের ঘনঘন বাংলাদেশে আগমনের ফলে দেশের পর্যটন শিল্পের সীমাহীন উন্নয়ন ঘটবে। আমাদের দেশের লোকজনকে ভালোভাবে শিখিয়ে পড়িয়ে বন্ধুদের আদর-আপ্যায়নে নিয়োগ করা হবে এবং তাদের মনোরঞ্জনের সব ক্রীড়া কৌশল দেশের আনাচে-কানাচে সহজলভ্য করা হবে।

উল্লিখিত অবস্থায় ডামি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হর্তাকর্তার রাগ গিয়ে পড়েছে বেচারা তারেক রহমানের ওপর। কেন তিনি ডামি নির্বাচনে অংশ নিলেন না। কেন তিনি ২০১৮ সালের মতো বলির পাঁঠা হলেন না- এসব নিয়ে তারা যতই চিন্তাভাবনা করছেন ততই তাদের মেজাজে আগুন ধরে যাচ্ছে। অন্য দিকে ডামি নির্বাচনী উৎসবের আনন্দ বৃদ্ধির জন্য যেসব ছং ভং কেনা হয়েছিল তারা কোনো কাজে তো আসেইনি বরং উল্টো গোঁদের ওপর বিষফোঁড়ারূপে পুরো ডামি মঞ্চকে কলঙ্কিত করে তুলছে এবং ডামি দর্শকদেরকে উপর্যুপরি হতাশার সাগরে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলার আনাচে-কানাচে ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী জমানার মতো নানারকম গানের প্যারোডি তৈরি হয়ে গেছে এবং আধুনিক জামানার ব্যঙ্গাত্মক টিকটকে ডামির ইজ্জতহানির ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।

ডামি নিয়ে আমি আর মামীরা যতই আনন্দ-ফুর্তির অভিনয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন পাবলিক ততই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। পিটার হাস কেন দিল্লি গেলেন। দেশে আর কোনো দিন এক-এগারো আসবে না এবং ভারত এক-এগারোর মতো ঘটনা ঘটতে দেবে না বা সমর্থন দেবে না এমন কথা বলে ওবায়দুল কাদের যাই বোঝাতে চান না কেন, জনগণ কিন্তু আসল ঘটনা বুঝে যাচ্ছে এবং লেন্দুপ দর্জির চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে খিস্তিখেউর চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটের মাঠে আমরা আর মামুরার নির্বাচন থিওরি ক্রমেই দঙ্গল রূপ নিচ্ছে এবং একই দলের নেতাকর্মীরা একই সূত্রে তিনটি কাজ করতে গিয়ে সব কিছু জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলছে।
প্রথমত, তারা বিএনপি-জামায়াতকে আগের মতোই তাড়া করে ফিরছে এবং অসহায় পঙ্গু-বিধবাদেরকে হুমকি দিচ্ছে তাদের কথামতো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য; অন্যথায় সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, আমরা আর মামুরা নিজেদের মধ্যে ক্রমাগত দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ মারামারিতে সাধারণ জনগণকে নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছে। অন্য দিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণ আরো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ডামি ভোটের বিষয়ে বেশিমাত্রায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। তারা মনে করছে বিবদমান পক্ষের যারা জয়ী হবে তারা পরাজিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদেরকে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের ওপর সাধারণ যে জুলুম-নির্যাতন করা হয় সেই একই কায়দায় নির্যাতন করবে। ফলে ভোটাররা আমরা আর মামুরা উভয় দলের শাখা-প্রশাখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

তৃতীয়ত, তাঁবেদার সরকারি কর্মচারীরা এবার ভারী বিপদে পড়েছেন। তারা এক দিকে বিএনপি-জামায়াতের ওপর চলমান মামলা-মোকদ্দমা, কোর্টে হাজিরা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি, আসামি খোঁজার নামে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নতুন নতুন গায়েবি মামলার ফন্দিফিকিরের পাশাপাশি নির্বাচনের উল্লিখিত ভাবধারার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখ; যদিও আমরা সবাই সেই প্রতিবেদনের একটি ডামি সংস্করণ পেয়ে গেছি চলতি বছর ডিসেম্বর মাসের ১৭ তারিখে। ফলে ১৮ ডিসেম্বর থেকে নৌকা-ডামি নৌকা-স্বতন্ত্র নৌকা-বিদ্রোহী নৌকার পাশাপাশি ঈগল ও ট্রাক নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। মাটির গাছে লাউ ধরেছে কিংবা ঢাকাই সিমেনার নায়ক-নায়িকার মার্কা কী এবং সেই মার্কার কোথায় ও কিভাবে সিল মারা হবে, তা নিয়ে তৈরি করা টিকটক ভিডিওর যন্ত্রণায় মানুষের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবার ভীষণ জিদ ধরেছেন ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম করে হলেও ৫০ শতাংশের বেশি ঘটানোর জন্য। অন্য দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জিদও কোনো অংশে কম নয়। তিনি ভোটকেন্দ্রে যেন ভোটার না আসে এবং আওয়ামী লীগের ডামি নির্বাচন যেন জনগণ বর্জন করে, সে জন্য অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। পাক-ভারতে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ ও পাকিস্তান জমানায় বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের ডাক শাসকশ্রেণীর মধ্যে প্রথম দিকে বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে উভয় অসহযোগ ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। কাজেই ২০২৩ সালে এসে ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশে বিএনপির প্রধান ব্যক্তি এখন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, তখন তারেক বিরোধীরা বলার চেষ্টা করছেন, উনি কি মহাত্মা গান্ধী অথবা বঙ্গবন্ধুর মতো হতে চান; না কি তাদের চেয়েও বড় কিছু!

যারা ডামি নির্বাচনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা এরই মধ্যে কতগুলো নজিরবিহীন সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছেন। এসব সমস্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আওয়ামী লীগের নৌকা বনাম ডামি বনাম স্বতন্ত্র বনাম বিদ্রোহী বনাম গৃহপালিত তাঁবেদার গোষ্ঠীর মধ্যে নিদারুণ এক দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত শুরু হয়ে গেছে। তারা প্রকাশ্যে সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে মাইকে গালিগালাজ করছেন। একে অপরের ব্যক্তিগত গোপন কর্ম, চুরি-চামারির অভিযোগ ইত্যাদি নিয়ে খিস্তিখেউর করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, সুযোগ পেলে মারামারি, কাটাকাটি শুরু করে দিচ্ছেন। বিভেদ বিসম্বাদকারীরা যেহেতু একই দলের, তাই বিএনপি-জামায়াত পেটানো বাহিনী এবার ভারী বিপদে পড়েছে। তারা নৌকার গলুই, নৌকার পাল, ছই, পাটাতন প্রভৃতিতে লাঠিচার্জ ও নৌকার মাঝির দলকে ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে পারছে না। আর মামলা-হামলা-গুম-গুলির মতো পিলে চমকানো হাতিয়ারগুলোও ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে ডামি নির্বাচনের মান্যবর সদস্যকুলের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী হামলা হররোজ জ্যামিতিকহারে বেড়েই চলেছে।

ডামি নির্বাচনের মামা-ভাগিনাদের টানাটানির কবলে পড়ে চ্যাপটা হয়ে যাচ্ছে। আমির প্রার্থীরা যেভাবে ওসি-ডিসিদেরকে গালি দিচ্ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে ডামি ও মামীর প্রার্থীরা গালাগালির পাশাপাশি বদলি বরখাস্তের মতো ঘটনা ঘটিয়ে দিচ্ছে। ফলে রাতের ভোটের কারিগরদের সেই সুনাম-সুখ্যাতি হাল আমলে নিদারুণ হুমকির মধ্যে পড়ে গেছে।
উল্লিখিত অবস্থা যদি অব্যাহতভাবে চলতে থাকে তবে ডামি নির্বাচন ৬ জানুয়ারির আগেই দফারফার কবলে পড়বে। আর কোনো কারণে যদি ৬ জানুয়ারির মধ্যে দফারফা না হয় তবে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ সালে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা এমন হবে, যা দেখে কেউ যদি তারেক রহমানের অসহযোগ আন্দোলনের সফলতার গীত গেয়ে তাকে আধুনিককালের গান্ধী উপাধি দিয়ে বসেন, তবে তার জন্য প্লিজ, আমাকে কিন্তু দায়ী করে বসবেন না।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব

হেড লাইন: ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, ‘দুর্নীতি করেছি কেউ প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক নির্বাচনী সভায় এই চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। আনোয়ারার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত ওই নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অসম্মানিত করার চেষ্টা করে লাভ হবে না। আমি দুর্নীতি করেছি প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি নিজের পকেট ভরতে আসিনি। দেশের কাজ ও মানুষের কাজ করতে রাজনীতিতে এসেছি। সরকারকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ততটুকু করেছি।’

ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। আল্লাহর হুকুম ছিল না, নানা কারণে বাবা মন্ত্রী হতে পারেননি। কিন্তু আনোয়ারার মানুষের আশা ছিল বাবু মিয়া (আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু) মন্ত্রী হবেন। সে আশা আমার মাধ্যমে আল্লাহ পূরণ করেছেন। দুইবার মন্ত্রী হয়েছি। দুইবার মন্ত্রী হয়েছি বলে দেশের কাজ অনেক বেশি করতে পেরেছি। সততার সঙ্গে কাজ করেছি। আমার সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আমার ১০ বছরের মন্ত্রিত্বকালে কেউ বলতে পারবে না আমি এক টাকার দুর্নীতি করেছি। এটা ওপেন চ্যালেঞ্জ।’ সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। ব্যবসা না করলে চলব কী করে? ব্যবসা করে চলতে হবে। আমি তো চুরি-চামারি করিনি। দেশের ও মানুষের হক খেয়ে আমি চলতে পারব না। হারামের পয়সা আমার দরকার নেই। দুর্নীতি হলো হারামের পয়সা। এমপি-মন্ত্রী হয়ে আমি ব্যবসা করিনি। আমার বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন, আমিও ব্যবসায়ী। ব্যবসা করে আয় করেছি।’

এসব বলে নৌকার সমর্থনে স্লোগান ধরেন তিনি। মানুষকে ভোটকেন্দ্রে এসে আবারও নৌকাকে জয়ী করতে আহ্বান জানান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। আনোয়ারার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলিল আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মন্নান চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য এস এম আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ ইদ্রিচ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী রাসেল।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...