শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

যৌতুক সংসারে অশান্তি আনে

ধর্ম ও জীবন: বিয়ে পবিত্র বন্ধন। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের কাছে উপকৃত ও পরিতৃপ্ত হওয়ার মাধ্যম। এটি ব্যবসা বা অর্থোপার্জনের মাধ্যম নয়। তেমনি বর-কনেও ব্যবসার পণ্য নয়, যাদের বিক্রি করে পয়সা কামানো হবে। অতএব একটি হালাল বন্ধনকে হারাম অর্থোপার্জনের মাধ্যম বানানো কোনো সুস্থ-বিবেকবান ব্যক্তির কাজ হতে পারে না।

যৌতুক দাবির ফলে দাম্পত্য সম্পর্কের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। পরিবারে শান্তির বদলে অশান্তির আগুন জ্বলতে থাকে। অনেক পরিবার আছে, যারা দিন আনে দিন খায়, অনেক টানাপোড়েনে সংসার চালায়, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তারা মেয়ের যৌতুকের টাকা পরিশোধ করতে করতে একসময় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। তবুও মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেদের সর্বোচ্চটা বিলিয়ে দেয়।

যৌতুক প্রথার সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কারণ জড়িত। এসব কারণের মধ্যে সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস, সামাজিক প্রতিপত্তি ও প্রতিষ্ঠা লাভের মোহ, দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, উচ্চাভিলাষী জীবনযাপনের নেশা ইত্যাদি কারণ উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এসব অপসংস্কৃতি তখনই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যখন মানবজীবনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত মৌলিক মূল্যবোধের পতন ঘটে এবং লোভ-লালসা ও ভোগবাদ মানুষের মনে জেঁকে বসে।

সমাজ থেকে এই অভিশপ্ত ব্যাধি মুছে দিতে নারীকে পণ্যদ্রব্য হিসেবে বিবেচনা না করে নিজেদের অর্ধাঙ্গীর মর্যাদা দিতে হবে। পুরুষদের অর্থলোভ ত্যাগ করে নারীর গুণ ও গৌরবের তাৎপর্য উপলব্ধি করে সমাজে তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যৌতুক দেওয়া ও নেওয়াকে ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে সবাইকে বিবেচনা করতে হবে। অন্যায় আর অন্যায্যভাবে মানুষের সম্পদ করায়ত্ত করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। তবেই এ যৌতুক প্রথা সমাজ থেকে চিরতরে বিদায় নেবে।

বিষয়:

কবর জিয়ারতের নিয়ম ও কবরস্থানে যেসব কাজ করা যাবে না

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: কবর মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ভেসে ওঠে পরকালীন জীবন তথা জান্নাত কিংবা জাহান্নামের কথা। যা মানুষকে দুনিয়া বিমুখতা এনে দেয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মৃত্যুর চিন্তা আত্মাকে বিদগ্ধ করে। ফলে পরকালমুখী জীবনযাপনের প্রতি মানুষ আত্মতাড়িত হয়। একই সঙ্গে তাওবা করে গুনাহমুক্ত থেকে বেঁচে থাকার মানসিকতা তৈরি হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অন্যতম একটি সুন্নাত হলো কবর জিয়ারত করা। কবরের পাশে গিয়ে দোয়া পড়া, কবরস্থ ব্যক্তির মুক্তির জন্য দোয়া করাই জিয়ারতের উদ্দেশ্য। নিজেদের জন্যও দোয়া করা উত্তম। জিয়ারত শুরু করতে হয় এই বলে, ‘আসসালামু আলাইকুম দারা ক্বাওমিম মুমিনিনা ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন।’ (মুসলিম)

এর পর একে দরুদ শরিফ, সুরা ফাতিহা ও ইখলাস এবং আয়াতুল কুরসি পড়তে হবে। তারপর মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করে মোনাজাত করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি জুমায় তার মা-বাবা বা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারীদের মধ্যে গণ্য করা হবে।’

মুসলমানদের কবর দেওয়ার পর মৃত ব্যক্তির মুক্তির জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করা হয়। কবরস্থানকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা কর্তব্য। কবরের ওপর দিয়ে চলাচল করা কিংবা কবরের অবমাননা করা অনুচিত। কবরস্থানে ঢুকে ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর’ বলতে হয়।

কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তার আম্মার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে ক্রন্দন করেন। তার সঙ্গীসাথীরাও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আমার রবের কাছে আমার মায়ের কবর জিয়ারত করার অনুমতি চাইলে তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন। কাজেই তোমরা কবর জিয়ারত করবে। কেননা, তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ)

কবর জিয়ারতের দোয়া সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যে দোয়াগুলো পড়তেন, তা হলো, ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর; ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম, আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আছার।’ এর অর্থ, ‘হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের আগে তোমরা কবরে গেছ এবং আমরা পরে আসছি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১,০৫৩)

মহানবী (সা.) কবরস্থানে বেশ কিছু কাজ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলোর কয়েকটি তুলে ধরা হলো:

১.রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ো না এবং কবরগুলোকে উৎসবের জায়গা বানিয়ো না।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২,০৪২)

২.রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পুরো পৃথিবীই মসজিদ, শুধু কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩১৭)

৩. কবরস্থানে পশু জবাই করা যাবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামে (কবরের পাশে) কোনো জবাই নেই। জাহিলি যুগের লোকজন কবরে গাভি বা ছাগল জবাই করত।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩,২২২)

৪. কবরের ওপরে বসা নিষেধ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কবরের ওপর বসবে, এর চেয়ে উত্তম হলো আগুনের ওপর বসা। আর সেই আগুন যেন তার কাপড় পুড়িয়ে দিয়ে চামড়া পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেয়।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯৭১)

৫. কবরের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করা নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কবরের দিকে (মুখ করে) নামাজ আদায় করবে না এবং তার ওপর বসবেও না।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯৭২)

দ্রুত বিয়ে ও উত্তম জীবনসঙ্গী পাবেন যে আমলে

ধর্ম ও জীবন: বিয়ে করা ও উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়া আল্লাহর রহমত। সামর্থ্য ও সময় হলেই দ্রুত বিয়ে করতে হয়। বিয়ে সবার ওপর ফরজ নয়। এটি একটি সুন্নাতি আমল। কখন কার বিয়ে হবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এমনও অনেক নারী-পুরুষ আছে যাদের বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। আবার অনেকের বিয়ের প্রস্তাব পায় কিন্তু তা হয় না। অনেকেরতো প্রস্তাবই আসে না। তাই যাদের বিয়ের বয়স হয়েছে বা যাদের বিয়ে করার সামর্থ আছে তাদের বিয়ের জন্য আছে কিছু আমল।

যেগুলো আমল করলে আল্লাহ দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন-
১. ইসতেগফার করা

সব সময় জবানে ইসতেগফার জারি রাখা। অর্থাৎ ‘আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়া। কেননা যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইসতেগফার করে, সে মুসতাজেবুদ দাওয়াহ হয়ে যায়। যার দোয়া আল্লাহ কখনো ফেরত দেন না।

اَسْتَغْفِرُ الله – اَسْتَغْفِرُ الله

উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ।

اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ

উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি। ’

২. সূরা ইয়াসিন পাঠ করা

সূরা ইয়াসিন বিয়ে সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান করে দেয়। সূরা ইয়াসিন পড়ার একটি বিশেষ আমল রয়েছে। যাদের বিয়ের প্রস্তাব আসে কিন্তু বিয়ে হয় না। তাদের জন্য এ আমলটি কার্যকরী।

আর তা হলো-

সূরা ইয়াসিনে ৭টি মুবিন রয়েছে। প্রতিদিন সকালে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে লাল হয়ে উঠে তখন, পশ্চিমমুখী হয়ে সূরা ইয়াসিন পড়া। আর যখনই ‘মুবিন’ শব্দ তেলাওয়াত করা হবে তখনই শাহাদাত আঙুল দিয়ে পেছনের দিকে অর্থাৎ সূর্যের দিকে ইশারা করা।

৩. সূরা আদ-দোহাসহ সূরা কাসাসের এ আয়াত পাঠ করা-

فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

উচ্চারণ: ‘ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।’
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন খুব একাকি ও বিষন্নতা অনুভব করতেন তখন তিনি এ আয়াতটি বেশি বেশি পাঠ করতেন। তাই ওলামায়ে কেরাম নারী-পুরুষদের এ আমলটি দিয়ে থাকেন। যদি কোনো ছেলে এ আয়াতটি ১০০ বার পাঠ করে তাহলে শিগগিরই আল্লাহ তাআলা তার জন্য ভালো পাত্রীর ব্যবস্থা করে দেন। আর মেয়েরা যদি নিয়মিত সূরা দোহা ১১ বার তেলাওয়াত করে তবে তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম পাত্রের ব্যবস্থা করে দেন।

৪. সূরা তাওবার এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা

فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: ফাইং তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।’
প্রতিদিন নামাজ আদায় করার পরপর বিয়ে আকাঙ্খী নারী-পুরুষের নিয়মিত এ আমলটি করা।

বিয়ে করা ও উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়া আল্লাহর রহমত। সামর্থ্য ও সময় হলেই দ্রুত বিয়ে করতে হয়। মূলত বিয়ের বিষয়টি ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই সবার ক্ষেত্রে বিয়ের হুকুম এক নয়।

তবে যারা বিয়ের জন্য উত্তম জীবনসঙ্গীর অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য রয়েছে এ আমলগুলো-

১. অতিদ্রুত হালাল, উত্তম ও সম্মানজনক রিজিক এবং উত্তম ও দ্বীনদার স্ত্রী কিংবা স্বামী পাওয়ার জন্য হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সেই ঐতিহাসিক দোয়াটি বেশি বেশি পড়া-

رَبِّ إِنِّيْ لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ

উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিং ফাক্বির।’

অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! নিশ্চয়ই আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাজিল করবেন; আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস: আয়াত ২৪)

২. উত্তম জীবনসঙ্গী, নেককার সন্তান-সন্ততির জন্য আল্লাহ তাআলার শেখানো কোরআনি দোয়াটি বেশি বেশি পড়া-

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনিও ওয়াঝআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।’

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন। যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে (পুরুষদেরকে) মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে দাও।’ (সুরা ফুরক্বান : আয়াত ৭৪)

শীতে চুল-ত্বকের যত্নে উপকারী কোন তেল

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতাও কমে গেছে। এই ঋতু ত্বক ও চুলের জন্যও বেশ কষ্টকর। শীতকাল এলেই ত্বক শুকিয়ে যায়, চুলের সমস্যা বাড়ে। এই অবস্থায় চুল ও ত্বকের যত্ন নিতে পারে তেল। শীতের দিনগুলোতে ত্বক ও চুলের পরিচর্যা করতে তেলকে বেছে নিন। এমন অনেক তেল রয়েছে, যেগুলো ত্বক ও চুল উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়। যেমন-

জোজোবা অয়েল: জোজোবা তেল ত্বকের উপর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দুর্দান্ত কাজ করে। এটি ত্বকের উপর সিবাম উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। এছাড়া জোজোবা অয়েলে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোমকূপের মুখ বন্ধ না করেই ত্বককে হাইড্রেট রাখে।

আমন্ড অয়েল: আমন্ড অয়েল ভিটামিন ই-তে ভরপুর। এই তেল শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করে। পাশাপাশি ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়। নিয়মিত আমন্ড অয়েল ব্যবহার করলে ত্বকের টোন ও টেক্সচার উন্নত হয়।

অলিভ অয়েল: ত্বককে হাইড্রেট রাখতে এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েলের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের সমস্যা কমায়। এই তেল চুলে মাখলে গোড়া মজবুত হয়। চুল পড়ার সমস্যা কমে। পাশাপাশি চুল হয়ে ওঠে নরম ও কোমল।

নারকেল তেল: নারকেল তেলের মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে। এটি ত্বকের উপর একটি আস্তরণ তৈরি করে, যা ত্বকের ময়েশ্চারকে বজায় রাখে। এই তেল শুষ্ক ত্বকের জন্য দারুণ উপযোগী। এই তেল চুলের উপর প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করলে চুলের উস্কখুশ্ক ভাব দূর হয়।

পাইলস হওয়ার ৫ কারণ

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: পাইলস বর্তমান সময়ের অন্যতম পরিচিত রোগের মধ্যে একটি। পাইলস হলে মূলত জিবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ যার প্রভাব পরে পুরো শরীরের ওপর। পছন্দের কোনো খাবার খেতে তখন ভয় লাগে, এমনকী ভয় লাগে মলত্যাগ করতে গেলেও। মূলত আমাদের কিছু কিছু ভুল অভ্যাসের কারনেই এ ধরনের রোগ হয়ে থাকে। সেসব অভ্যাস বাদ দিতে পারলে পাইলস থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। জেনে নেয়া যাক পাইলস হওয়ার অন্যতম ৫ কারণ:

কোষ্ঠকাঠিন্য: এমন অনেকেই আছেন যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন। মলত্যাগে সমস্যা হলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। মল শক্ত হলে ভেতরের মাংসপেশী ফুলে যেতে থাকে। এরপর ছিঁড়ে যায়। এই সমস্যাকে বলা হয় পাইলস। তাই এমন সব খাবার খেতে হবে যা মল নরম রাখে। শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। ফলে কমবে পাইলসের ভয়ও।

অযথা চাপ দিয়ে মলত্যাগের অভ্যাস: অনেকই আছেন যারা মলত্যাগের চাপ না এলেও জোর করে চাপ দিয়ে মলত্যাগ করেন। এটি মোটেও ভালো কোনো অভ্যাস নয়। কারণ এই অভ্যাসের ফলে চাপ পড়ে মলদ্বারের ভেতরে। সেখান থেকেই বাড়ে জটিলতা। তাই মলত্যাগের সময় স্বাভাবিক থাকুন। অযথা চাপ প্রয়োগ করবেন না। আপনার কোনো ভুল অভ্যাস যেন পাইলসের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

লিভারের দিকে খেয়াল রাখুন: বর্তমানে লিভারের অসুখে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ মানুষই নিজের যত্নের প্রতি উদাসীন। ফ্যাটি লিভার থেকে সেই সমস্যা গড়াচ্ছে লিভার সিরোসিসের দিকে। লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে পাইলসের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই এ ধরনের লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হোন। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিন।

ফাস্টফুড কিংবা জাঙ্কফুড: দ্রুত ক্ষুধা মেটাতে বেশিরভাগ মানুষ এখন ঝুঁকছেন জাঙ্কফুডের দিকে। এ ধরনের খাবারে থাকে অতিরিক্ত তেল-মসলা। সেইসঙ্গে ক্যালোরিরও থাকে অনেক বেশি। এ ধরনের খাবারে কোনো পুষ্টি উপাদান থাকে না বললেই চলে। ফাইবারও থাকে খুবই কম। যে কারণে মল শক্ত হয়ে যায়। প্রতিদিন এ ধরনের খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেবেই। সেখান থেকে হবে পাইলস। তাই শুরু থেকেই সচেতন হোন। তাই ক্ষুধা পেলেই বাইরের খাবার নয়। ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খান।

রেডমিট: সব মাংসেরই নানা ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে। তবে রেডমিট স্বাস্থ্যের জন্য কিছু অপকারিতাও যোগ করতে পারে। এর ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত রেডমিট খেলে পেটের নানা সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তাই পাইলস থেকে বাঁচতে রেডমিট খাওয়া কমিয়ে আনুন।

শীতে গলা ব্যথা হলে সারাবেন যেভাবে

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: সাধারণত শীত-গরম সব ঋতুতেই গলা ব্যথা হতে পারে। তবে শীতকালে গলা ব্যথা একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। তবে এসব রোগে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে আপনি এ ধরনের মৌসুমী গলাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আসুন জেনে নেই যেসব কারণে গলাব্যথা হয়ে থাকে ও তার করণীয়।

ভাইরাস সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট প্রদাহের কারণে গলা ব্যথা হতে পারে। এছাড়া ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে রুমে গাদাগাদি করে বসবাস করা, তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন, অতিরিক্ত ধুলাবালি ও দূষণযুক্ত পরিবেশে কাজ করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণেও ফ্যারিনজাইটিস হতে পারে।

গলা ব্যথায় করণীয়:

১. গড়গড়া: হালকা গরম পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করলে গলা ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়। লবণ অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে এবং গরম পানি গলা থেকে কফ পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ গুলিয়ে দিয়ে কয়েকবার গড়গড়া করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

২. তরল খাবার: হাঁচি, কাশি ও গলার ভিতর প্রচুর তরল নিঃসরণের জন্য শরীর অনেকটাই পানিশুন্য হয়ে পড়ে। তাই প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। তবে অবশ্যই ঠাণ্ডা পানি বর্জন করা প্রয়োজন। গলা ব্যাথায় ধোঁয়া উঠা গরম সূপ দারুণ কাজে দেয়।

৩. মাফলার বা কাপড়: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গলায় একটি পাতলা মাফলার বা কাপড় হালকাভাবে পেঁচিয়ে নিলে আরাম পাওয়া যায়। বিশেষ করে শীতের সময়।

৪. ফ্রিজের খাবার এড়িয়ে চলা ও লেবু-চা পান: গলা ব্যথা হলে ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার খাওয়া উচিত নয়, এতে করে গলা ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

৬. উচ্চস্বরে কথা বলবেন না। কম কথা বলুন।

৭. গলাকে বিশ্রাম দিন।

৮. গলা ব্যথা সারাতে প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন: আদা, লবঙ্গ ও মধুও উপকারী। এই সময় গরম পানির সঙ্গে লেবু বা মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

৯. চিকিৎসকের পরামর্শ: শুধু গলা ব্যথাই নয়, সর্বপরি যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াটা জরুরি।

২৪ ঘন্টা বন্ধ থাকছে ব্যাংকের সব লেনদেন

অর্থ ও বাণিজ্য: ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বছরের শেষ দিনে আগামীকাল রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। যার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। তবে নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা থাকবে। নীতি অনুযায়ী, ‘ব্যাংক হলিডে’তে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকে গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জুলাই ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। এদিন বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। যে কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। ওইদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না। তবে এ সময় গ্রাহকরা কার্ডের মাধ্যমে সীমার মধ্যে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

এদিকে, শেয়ারবাজারের শেয়ারের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় ব্যাংক বন্ধ থাকলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনোপ্রকার লেনদেন হয় না। তবে রোববার শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকলেও দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান রাইট টু ফ্রিডমের

আজকের সেরা সংবাদ: আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম। এর প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আমরা বিশ্বাস করি পর্যায়ক্রমে গণতন্ত্র এবং অধিকারকে লঙ্ঘন করার মূল্য দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।

২৯শে ডিসেম্বর দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, অনেক মাস ধরে বাংলাদেশের বন্ধুরা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের ধরন প্রত্যক্ষ করার পর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। আগের ওই দুটি নির্বাচনে ভোটারদের অবাধে তাদের ভোটাধিকারের চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে ফল জালিয়াতি করেছে ক্ষমতাসীন দল। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে রেখে এবং বাছাই করা কিছু প্রার্থীকে প্রতিযোগিতার অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্য দিয়ে সেই ঝুঁকি কার্যত সুনির্দিষ্ট রূপ পেয়েছে। এই পর্যন্ত এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এবং তার দল পর্যায়ক্রমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের এবং ভিন্নমতের স্থান বন্ধ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বহু মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ এবং বৈশ্বিক মিডিয়া আউটলেট বলে আসছে যে, এই পরিবেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবাধ নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ব্যাপকভাবে বিবৃতি দিয়ে আসছে। কিন্তু তারা এটাকে সম্ভব করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চাপ দিতে অনিচ্ছুক।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার উৎসাহিত করার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। যারা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে এমন অল্প কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এসব পদক্ষেপও পর্যাপ্ত নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। একই সময়ে দেশের ভিতরে এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে চীন, রাশিয়া ও ভারত। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং ঘনিয়ে আসা অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে রাইট টু ফ্রিডম। এক্ষেত্রে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের পক্ষে পরামর্শ দিয়ে আসছে। এখন নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আমরা বিশ্বাস করি পর্যায়ক্রমে গণতন্ত্র এবং অধিকারকে লঙ্ঘন করার মূল্য দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ‘অ্যাক্টর’ যারা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত আছে তাদেরকে এটা পরিষ্কার করতে হবে যে, তারা আর বাংলাদেশের সঙ্গে আগের মতো ব্যবসা করতে পারবে না। বিশেষ করে আমরা বাইডেন প্রশাসন এবং কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানাবো বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব সম্পর্ক পর্যালোচনা করার। তার মধ্যে আছে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহায়তা, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বিষয়ে সহযোগিতা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার ও এর নাগরিক, অন্যরা যারা বিশ্বজুড়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছে তাদেরকে এই বার্তা দিতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্র তার কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজের বক্তব্যকে সমর্থন করছে।

টাকা বিলি করছেন নৌকার প্রার্থী নদভী, অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

হেড লাইন: ভোটারদের মধ্যে সরাসরি নগদ টাকা বিলির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম-১৫ (আংশিক সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া) আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামানের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মোতালেব অভিযোগ দেন। আওয়ামী লীগের এই নেতা আসনটি থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নদভীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারকালে তার মেয়ে ও সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে নগদ অর্থ বিলি করে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। এমনকি টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ করিয়ে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ধরনের অসুস্থ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি এবং নির্বাচনের আগের রাতেও নগদ টাকা বিলানো হবে বলেও নদভী বলে বেড়াচ্ছেন। এ প্রবণতা দ্রুত সময়ে বন্ধ না হলে, নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন মোতালেব।

অভিযোগের ব্যাপারে ড. আবু রেজা নদভী বলেন, মোতালেব টাকা বিতরণের যে ছবি দেখাচ্ছে তা আমার প্রচারণার সময় কোনো এনজিও সংস্থার কর্মী সেখানে তাদের ঋণের টাকা আদায় করছিল। এ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন বিশ্বাস বলেন, অভিযোগটির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নৌকার আবু রেজা নদভী ও এম এ মোতালেব ছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন আরও ৫ জন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ আলী হোসাইন মোমবাতি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মুহাম্মদ সোলাইমান কাসেমী হাতঘড়ি, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ছালেম লাঙ্গল, ইসলামী ঐক্যজোটের মোহাম্মদ হারুন মিনার এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. জসিম উদ্দিন ছড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৭ ডিসেম্বর। এরপর ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন করতে হয়। চলতি সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি। এর আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে।

স্ত্রীকে খুন করে মাটিতে পুঁতে কানাডা পালালেন আশরাফুল!

অপরাধ: রাজধানীর দক্ষিণখানে স্ত্রীকে হত্যার পর আঙিনায় মাটিচাপা দিয়ে কানাডায় পালানো প্রবাসী আশরাফুল আলমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। গত ২৪ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিলের কথা জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানার এসআই মোছা. রেজিয়া খাতুন।

চলতি বছরের ২৬ মে স্ত্রী আফরোজাকে হত্যার পর কৌশলে কানাডায় পালিয়ে যান আশরাফুল। সেখান থেকে এ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজিয়া জানিয়েছিলেন, আশরাফুল তাকে ১৫ লাখ টাকাসহ পরিবারের দুই সদস্যকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।

এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আফরোজার শ্বশুর শামছুদ্দিন আহমেদ, দেবর সজীব আলম, সজীবের স্ত্রী তাহমিনা বাশার ও খালাশাশুড়ি পান্না চৌধুরী। গত ২৪ ডিসেম্বর আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান। এ ছাড়া প্রধান আসামি আশরাফুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি পান্না চৌধুরী এ হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জানিয়েছেন, আফরোজাকে হত্যার পর লাশ বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দিয়ে কানাডায় চলে যান আশরাফুল। পরে পান্না চৌধুরীর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আশরাফুল তখন বঁটির কোপে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তা ধামাচাপা দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে লোভনীয় প্রস্তাব দেন। স্ত্রীর লাশ মাটিচাপা দিতে অন্য আসামিরা তাকে সহযোগিতা করেন। আশরাফুল ভিডিওকলে থাকা অবস্থায় বাকি আসামিরা তদন্ত কর্মকর্তাকে লাশের অবস্থান দেখিয়ে দেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজিয়া খাতুন কালবেলাকে বলেন, ‘প্রধান আসামি লোভনীয় অফার দিয়েছিল। তখন কৌশল হিসেবে তার অফারে রাজি হয়ে যাই। পরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি।’

বোন হত্যার ঘটনায় গত ১ জুন আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা করেন। আরিফুল কালবেলাকে বলেন, ‘আমার বোন কানাডায় চাকরি করতেন। ২০২২ সালে আশরাফুলের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে তারা বিয়ে করেন। আশরাফুল সবার সঙ্গে খুবই ভালো আচরণ করত। সে তাকে হত্যা করবে কেউ ভাবতে পারিনি।

আশরাফুল পরিকল্পিতভাবে সবকিছু করেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই সে দেশ ছেড়ে গেছে। সে আমার বোনের থেকে অনেক টাকা নেয়, টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।’ আশরাফুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। আসামিরা সবসময় বলে আসছে, তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত না। সঠিক বিচার হলে তারা খালাস পাবে।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...