প্রচ্ছদ জাতীয় বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এখন পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এখন পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, লাগেজ সংগ্রহে বিলম্ব এবং যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ও দন্ত চিকিৎসক ডা. ওরাকাতুল জান্নাত।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন এই চিকিৎসক।

ভিডিও বার্তায় ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বলেন ‘এত ভোগান্তির কথা কাকে বলবেন? তাদের কপালই এমন যে এই দেশে জন্ম নিতে হয়েছে। জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে এসব কষ্ট বয়ে বেড়াতে হবে, যার যেন কোনো শেষ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা মনে হয় পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে। এই যে প্রবাস থেকে লোকজন আসছেন, অনেকে অনেক দূরের গন্তব্য থেকে আসছেন, তারা তো বিমানবন্দরে আরও বেশি সময় ছিলেন। এখন এই যে ভোগান্তি, এক কিলোমিটার লম্বা লাইন—এগুলো দেখার কেউ নেই।’

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বলেন, সকাল ৯টার পাঁচ মিনিট আগে তাদের বিমান অবতরণ করে। এরপর ট্রলি পেতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ট্রলি পাওয়ার পরও লাগেজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

তার ভাষ্য, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা লাগেজ হাতে পান। অর্থাৎ বিমান অবতরণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা কেটে যায়। দীর্ঘ এই অপেক্ষাকে তিনি বর্ণনাতীত ভোগান্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, অনেকে দূরদূরান্ত থেকে দেশে ফিরেছেন। অথচ তাদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে লাগেজ সংগ্রহের জায়গায় বসার ব্যবস্থা না থাকায় বয়স্ক, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন এই চিকিৎসক।

ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের এমন ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই। মানুষের ধৈর্যেরও একটা সীমা রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

এ ছাড়া ওমরা পালন শেষে ফেরার সময় জমজমের পানি না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। কেন জমজমের পানি আসেনি, সে বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাত্রীদের বিষয়টি জানিয়ে দায়িত্বশীল কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডা. ওরাকাতুল জান্নাত।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তিনি। তবে এবারের অভিজ্ঞতাকে তার দেখা সবচেয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন এই কনটেন্ট নির্মাতা।