প্রচ্ছদ জাতীয় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে এমপিকে লিগ্যাল নোটিশ

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে এমপিকে লিগ্যাল নোটিশ

আইনজীবীদের নিয়ে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইনজীবীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষার এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। সেখানে আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে এমপি বলেন, আইনজীবীরা রাতে দোয়া করেন, যাতে পরদিন কয়েকজন মাদকসেবীকে জামিন করিয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। সামান্য অর্থের বিনিময়ে আইনজীবীরা মাদকসেবীদের জামিন করান বলেও তিনি মন্তব্য করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশদাতার দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ভিত্তিহীন, মনগড়া ও কুরুচিপূর্ণ। বিচার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ আইনজীবী সমাজকে নিয়ে একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আইনজীবী ওমর ফারুক তুষারের দাবি, এমপির বক্তব্যের কারণে আইনজীবীদের সামাজিক মর্যাদা ও আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তার মতে, বক্তব্যটি সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির অপরাধের শামিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও জনসমক্ষে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ায় আইনজীবীদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং আইনজীবীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এমপি শাহাদাত যা বলছেন

অভিযোগের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি ঢালাওভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেননি।

তার ভাষ্য, কিছু আইনজীবী মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করে জামিন করাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যেই তিনি মাদকসেবীদের পক্ষে অন্তত তিনবার জামিন না চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নোটিশ পাঠানো আইনজীবী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় লিগ্যাল নোটিশের পরবর্তী জবাব এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমপি বক্তব্য প্রত্যাহার বা ক্ষমা চান কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।