প্রচ্ছদ জাতীয় সে অন্তর্যামী হয়ে জানে এটা বিএনপির কাজ

সে অন্তর্যামী হয়ে জানে এটা বিএনপির কাজ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের অবস্থান জানিয়েছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। ঘটনার যে ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, তা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করে তিনি মনে করছেন, বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে নিজের পুরোনো কিছু অভিজ্ঞতার কথাও জানান মেঘনা। একসময় তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে সালমানের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মেঘনা জানান, তার নিজের কঠিন সময়ে সালমান পাশে থাকার কথা বলেছিলেন। এমনকি তার বাসায় এসে বাসন ধোয়ার কথাও বলেছিলেন।

তবে পরবর্তী সময়ে সালমানের কিছু কর্মকাণ্ডে তার হতাশা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আনফ্রেন্ড করেন মেঘনা।

নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরেকটি পুরোনো ঘটনার প্রসঙ্গও সামনে আনেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনূস সরকারের সময়ে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ফোন ও ম্যাকবুকের পাসওয়ার্ড নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

সেই সময় সালমানের সঙ্গে তার কথোপকথন দেখে এক তদন্ত কর্মকর্তা যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটিও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মেঘনা লেখেন, ইউনূস সরকারের সময়ে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তার ফোন ও ম্যাকবুকের পাসওয়ার্ড নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

সে সময় সালমানের সঙ্গে তার বার্তা দেখে এক তদন্ত কর্মকর্তা মন্তব্য করেছিলেন, ‘এই সালমান মুক্তাদির দুনিয়ার সব গণ্ডগোলে কীভাবে ঢুকে পড়ে?’

এরপর সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেঘনা আলম তার স্ট্যাটাসে লেখেন-

‘ইউনুস আমলে, ডিবি অফিসে যখন আমাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাওয়া হয়, আমার সব ফোন ম্যাকবুক এর পাসওয়ার্ড দেয়া ছিল, ঘাটাঘাটি করার সময় এক পর্যায়ে এক তদন্ত কর্মকর্তা বলে উঠে এই সালমান মুক্তাদির দুনিয়ার সব গেঞ্জামে কিভাবে ঢুকে পরে?!

সালমানের সাথে আমার মেসেজ ছিল ইনবক্সে। প্রসঙ্গতই, সব গেঞ্জামে কমন যখন একজন থাকে, তখন গেঞ্জাম আসলে ওই ব্যক্তির ভেতরেই থাকে।’

সালমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি আরও লেখেন-

এই সালমান যে এক সময় আমার কষ্টে কষ্টিত হয়ে আমার বাসায় বাসন ধুয়ে দিতেও আসতে রাজি থাকত, যাকে বলেছিলাম, আগে ডিপ্রেশন থেকে ঠিক হও, তারপর মিট করব, কারণ মনে হত দুনিয়ার এত হতাশা আমি হিল করতে পারব না।’

সালমানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে হতাশ হওয়ার কথা জানিয়ে মেঘনা লেখেন-

‘যেই সালমানকে আর ১০ টা মানুষের মত জাজ না করে, ওর ছোট ছোট উন্নতিরও প্রশংসা করে এসেছি, সেই কিনা নির্বাচনের সময়ে, এত বড় ষড়যন্ত্র ও মিডিয়া সন্ত্রাস অতিক্রম করে আসা একমাত্র নারী প্রার্থী, কোন টাকা বা পাওয়ার ছাড়াই লড়াই করা একজন মানুষকে ২টা ভাল কথা না বলে, কিছু ফালতু পোস্ট করে পাবলিকের সামনে ছোট করে।

তার উপর, আর এক শিশুর রেপের ঘটনাতে রেপিস্টের সাফাই গায়। এসব দেখে তখনই বুঝি, এর জ্ঞানী জ্ঞানী কথাই, আসলে মাথায় কিছুই নেই, তাই আনফ্রেন্ড করে দেই।’

স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সালমানের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মেঘনা। তিনি বলেন, হামলাকারীদের নাম-চেহারা সম্পর্কে সালমান নিজেই কিছু জানেন না এবং তার কাছে সরাসরি চাঁদাও দাবি করা হয়নি- এমন অবস্থায় কীভাবে ঘটনাটিকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, সেটিই তার কাছে স্পষ্ট নয়।

স্ট্যাটাসের শেষদিকে মেঘনা আলম লেখেন-

‘আল্লাহ তার সার্বিক ভাল করুক। কিন্তু উড়ে এসে জুড়ে কেউ তার ষ্টুডিও ভেঙে দিয়ে গিয়েছে, আর সে নাম-চেহারা কিছুই জানে না, তার কাছে চাঁদাও কেউ চায়নি, কিন্তু সে অন্তর্যামী হয়ে জানে এটা বিএনপির কাজ!? এসব আমার কাছে পানির মত পরিষ্কার লাগছে না।

সালমন দ্য ব্রাউন ফিশ এমনিতেই ঘোলা জলের মাছ। এর পেছনে কোন হিডেন অ্যাজেন্ডা আছে কিনা খোঁজ নেয়া উচিত।’

এর আগে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সালমানের পক্ষ থেকে চাঁদা না দেওয়াকে হামলার কারণ হিসেবে অভিযোগ করা হলেও পুলিশের বক্তব্য, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।