শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

স্বামীর নামে মিল, বিনা অপরাধে কারাগারে ৪ দিন

সাতক্ষীরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির পরিবর্তে রুহী আকতার স্মৃতি নামে নারীকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে তালা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মামুন। এ ঘটনায় চারদিন কারাভোগ শেষে বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

এর আগে ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে রুহী আকতার স্মৃতিকে তার বাসা থেকে আটক করে সাব-ইন্সপেক্টর মামুন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

রুহী আকতার স্মৃতির স্বামীর নাম আরিফুল ইসলাম মালী, বাবা শহর আলী ও মায়ের নাম হালিমা বেগম। অন্যদিকে প্রকৃত আসামি সুমী আক্তারের স্বামীর নামও আরিফুল ইসলাম বিশ্বাস, মায়ের নাম সালমা বেগম।

জানা যায়, তালা উপজেলার বারুইআটি গ্রামের শহর আলীর মেয়ে রুহী আকতার স্মৃতিকে একটি চেক প্রতারণার মামলায় ২৩ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় দিকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে তালা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মামুন। গ্রেপ্তারের পর রুহী আকতার স্মৃতিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) কারাগারে থাকা রুহী আকতার স্মৃতির স্বজনরা সাতক্ষীরা আদালত থেকে তাকে জামিনে মুক্ত করে মামলার নথিপত্রে দেখেন, যে মামলায় রুহী আকতার স্মৃতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই মামলার প্রকৃত আসামি তালা উপজেলার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী সুমি আক্তার। সুমি আক্তারের বাড়ি বারুইহাটি গ্রামের বিশ্বাস পাড়ায়।

এ ঘটনায় তালা থানার এসআই মামুন বলেন, গ্রেপ্তার করার সময় বা থানায় এসে তাদের পরিবারের কেউ বলেনি আমি সেই আসামি নই। তালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও এসেছিলেন তিনিও বলেননি। এখন শুনছি গ্রেপ্তার করা আসামি প্রকৃত আসামি নয়।

গ্রেপ্তার হওয়া নারীর শ্বশুর আব্দুল কাদের মালী জানান, আমরা বারবার বলেছি পুলিশকে সে কোনো এনজিও থেকে লোন নেয়নি। সে কোনো অপরাধী নয়। তবুও বৌমাকে ভাত খাওয়া অবস্থায় ধরে নিয়ে যায়। চারদিন সে বিনা অপরাধে জেল খেটেছে।

মামলার বাদী বেসরকারি এনজিও সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন তালা শাখার ম্যানেজার সৈয়দ ইমারন আলী বলেন, আমি মাত্র এক মাস আগে এই শাখায় যোগদান করেছি। কাগজপত্র না দেখে বিস্তারিত বলতে পারছি না।

এ ঘটনায় তালা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মোমিনুল ইসলাম জানান, দুইটা চেক প্রতারণার মামলায় তাকে আটক করা হয়। চেয়ারম্যান জাকিরও থানায় এসেছিল। তখন তিনিও তো বলেননি। তাছাড়া তাদের পরিবারের কেউ বিষয়টি জানায়নি। ঘটনাটি আমরা জানার পর বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি আব্দুল লতিফ বলেন, এমন ভুল কীভাবে হয়েছে জানি না। যে নামে ওয়ারেন্ট থাকবে পুলিশ সেই নামের ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করবেন। এর বাইরে কিছু হওয়ার সুযোগ নেই।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি জানা মাত্র তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনেক সময় নামের মিল থাকে সেক্ষেত্রে হতে পারে তবে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা হবে। যদি পুলিশের কেউ কিংবা অন্য কেউ হয়রানিমূলকভাবে এটি করে থাকে সেটা প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহাসমাবেশ ইস্যুতে হেফাজতে ইসলামের বিবৃতি

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা ২৯ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পর কিছু গণমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ হওয়াতে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা ২৯ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গতকাল কিছু গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচারিত হয়েছে যে, এ সিদ্ধান্ত আমার অবগতি বা অনুমোদন ব্যতীত গৃহীত হয়েছে।

এই ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন অমূলক এবং বাস্তবতা বিবর্জিত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া খুবই দুঃখজনক। অনুমানের ভিত্তিতে এমন অসত্য তথ্য প্রকাশ করা চরম বিভ্রান্তিকরও বটে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৯ তারিখের মহাসমাবেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমার নির্বাহী অনুমোদনের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের যেই বৈঠকে মহাসমাবেশ স্থগিত করার প্রস্তাবনা তুলা হয় সেই বৈঠকের ব্যাপারে আমি পূর্ণ অবগত ছিলাম। পরবর্তীতে মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান কর্তৃক আমার অনুমোদনের ভিত্তিতেই মহাসমাবেশ স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সকল সিদ্ধান্ত সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীলদের পরামর্শক্রমেই গৃহীত হয়ে থাকে। এ নিয়ে অমূলক বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো অবকাশ নেই।

হেফাজতের আমির বলেন, অনতিবিলম্বে বিনাশর্তে মাওলানা মামুনুল হকসহ সকল কারাবন্দি আলেমদের মুক্তি দিতে হবে। ২০১৩ সাল থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। খুব শীঘ্রই হেফাজতের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচন জমছে না দেখে দিশেহারা প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন কমিশনারদের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আপনাদের মতো দুদিনের দলদাসদের রক্তচক্ষু দেখার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। এই একদলীয় ভোট জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভয়ভীতি-কেরামতি যাই করেন, কেন্দ্রে কোনো ভোটার পাবেন না। এই ফলাফল ঘোষণার নির্বাচনের বিরুদ্ধে সারাদেশ আজ ঐক্যবদ্ধ।

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘৭ জানুয়ারির আসন ভাগ-বাটোয়ারার ‘আমি-ডামির’ ভোট প্রহসন জমছে না দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী ও তার ডামি নির্বাচন কমিশন। গোটা দেশকে অভাবনীয় নরকপুরীতে পরিণত করেছে। পুরো বাংলাদেশকে জেলখানা বানানো হয়েছে। জেলের ভেতরে যাদের নিক্ষেপ করা হয়েছে তাদের তিলে তিলে নির্যাতন করে হত্যা করা হচ্ছে।’

‘একদিকে নৌকার প্রার্থী ও তাদের প্রচারকরা হুমকি দিচ্ছেন ভোটকেন্দ্রে না গেলে বাড়িছাড়া করা হবে, অপরদিকে নির্বাচন কমিশনাররা জেল-জরিমানার হুমকি দিচ্ছেন। কেউ ভোট প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সাত বছরের জেল হবে, অর্থদণ্ড হবে। ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য লিফলেট বিতরণ করলে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ইসি মো. আনিছুর রহমানের ঔদ্ধত্য এবং হুমকি-হুংকার দেখে মনে হচ্ছে তিনি অস্তিত্ব ভুলে আওয়ামী সেবাদাসত্ব করছেন। প্রতিদিন গণভবন থেকে আসা ফরমান ঘোষণা করছেন-’ বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘দেড় দশক ধরে জগদ্দল পাথরের মতো বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসা দৈত্যের পতন এবং একতরফা পাতানো নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ১৮ কোটি জনগণকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গলির গুন্ডাদের মতো শাসাচ্ছেন। বিএনপিকে শায়েস্তা করার হুমকি দিচ্ছেন আনিছুর রহমানরা। পুলিশকে লেলিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের নাগরিকদের গোলাম ভাবা শুরু করেছেন।’

এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গোলামির পরীক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়ার কোটায় নির্বাচন কমিশনার হওয়া এই ব্যক্তির জেনে রাখা উচিত দেশের সংবিধানে ভোট দেওয়াও যেমন মানুষের অধিকার, তেমনি ভোট না দেওয়াও মানুষের মৌলিক অধিকার। ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না। কিন্তু প্রতিটি জনপদে নৌকা এবং ডামির প্রার্থীরা ভোট দিতে না গেলে জনগণকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে নীরব এই আনিছুররা। ৭ তারিখে যারা ভোটকেন্দ্রে যাবে না তাদের গায়েবি নাশকতার মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। আনিছুরদের মতো আওয়ামী দলদাসদের বলে রাখি, অবৈধ নির্বাচনকে না বলার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

রিজভী দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ১৯৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আট মামলায় ৭৮৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসময়ে ২০ জন নেতাকর্মী আহত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন রিজভী।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা, সিইসিকে সৈয়দ ইবরাহিমের চিঠি

আসছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার-১ আসনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সরকার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার-১ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম বিগত পাঁচ বছরে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলাকে তার মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমে পরিণত করেছেন। তিনি সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক দলীয় পদে বসিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাদেরকে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছেন।

সৈয়দ ইবরাহিম উল্লেখ করেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাফর আলমকে ভোট দেয়ার জন্য তার মদদপুষ্ট জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান) ও দলীয় রাজনৈতিক পদধারী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে আমার কর্মী ও সমর্থকদের নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান করছে। এসব সন্ত্রাসীরাই আবার আমার ও দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং অভিযোগ করছে।

এতে আমার ও আমার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি নামধারী অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে।

চিঠির সঙ্গে সৈয়দ ইবরাহিম উল্লিখিত সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা সংযুক্ত করেন। সেইসাথে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সিইসিকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

নির্বাচন সাজানো-পাতানো, ইইউকে ‌তথ্যপ্রমাণ দিয়েছে বিএনপি

আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি যে ভোট হতে যাচ্ছে তাকে সাজানো ও পাতানো নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, ওই দিন কোনো নির্বাচন হচ্ছে না, যা হচ্ছে সেটা কেবলই নাটক।

বাংলাদেশ সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে আজ বুধবার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এ কথা জানান।

বৈঠক সূত্র বলছে, তাঁরা ইইউকে এই দাবির স্বপক্ষে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ দিয়েছেন। বৈঠকে বিএনপির ছয় নেতা ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি ইইউকে বলেছে, এই নির্বাচনে প্রধান প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ নিচ্ছে না। এখানে মূলত আওয়ামী লীগ, তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ডামি প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি কয়েকটি দল সরকারের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে ভোটে অংশ নিচ্ছেন।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ইইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন রেবেকা কক্স ও শার্লোট সুয়েবেস।

প্রসঙ্গত, ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

বাংলাদেশের পাতানো নির্বাচনের মদদদাতা ভারত : রিজভী

রিজভী

বাংলাদেশে ‘একরতফা পাতানো’ নির্বাচনে ভারত মদদদাতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিএনপিসহ সব দলকে বাদ দিয়ে ৭ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনের অন্যতম মদদদাতা হিসাবে পার্শ্ববর্তী দেশের নাম সর্বজনবিদিত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে একদলীয় নির্বাচনের পক্ষে সাফাই গাইছেন। ভারতীয় কূটনীতিকরা বাংলাদেশে এসে বলেছেন, তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা চান। বাংলাদেশের গণতন্ত্র-মানুষের অধিকার চান না। এখন তাদের থলের বিড়াল বেরোতে শুরু করেছে। সেজন্য ভারত মনোনীত প্রার্থীরা বীরদর্পে বলছেন, ‘আমাকে ভারত মনোনয়ন দিয়েছে। আমি ভারতের প্রার্থী। আমি এখানে হারার জন্য আসিনি।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক দুই মেয়াদের অটোপাশ সংসদ-সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেছেন, তিনি ভারতের প্রার্থী। এখানে হারার জন্য আসেননি।’ তাহলে বাংলাদেশ কি পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ? তলে তলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কি বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে? ভারত এখন তাদের এ দেশীয় অনুচরদের নমিনেশনও দিচ্ছে? প্রফেসর আব্দুল মান্নানের এই বক্তব্য চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতা। অথচ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা প্রতিবাদেরও সাহস পায় না সরকার বা নির্বাচন কমিশন। সরকার স্বীকার করে নিয়েছে ভারত তাদের অনুগত বহুসংখ্যককে মনোনয়ন দিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা জানতে চাই প্রফেসর আব্দুল মান্নানের মতো আর কে কে ভারতের প্রার্থী তার তালিকা প্রকাশ করা হোক। দেশের জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান গণতন্ত্র হত্যার জন্য ভারতের প্রার্থীদের বিজয়ী করার এই পাতানো নির্বাচনে কেউ ভোট দেবেন না। দেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানাতে না চাইলে ভোট বর্জন করুন। তারা (আওয়ামী লীগ) নির্বাচিত হলে দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৭ জানুয়ারি একদলীয় ডামি নির্বাচন ঘিরে একদিকে চলছে রীতিমতো রঙ-তামাশা। অন্যদিকে নৌকা-ডামির কামড়াকামড়ি, গোলাগুলি, খুনোখুনি, সংঘাত-সহিংসতায় জনপদগুলো বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষকে জোর করে মিছিলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এলাকাছাড়া করার ভয় দেখানো হচ্ছে। আর নৌকার প্রচার মাইকের আওয়াজ শুনলেই লোকজন সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। ভোটের উৎসবের বদলে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা সর্বত্রই। ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সর্বত্রই।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দলহীন পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের এই নির্বাচনে ভোটারদের ন্যূনতম আগ্রহ না থাকলেও গণতান্ত্রিক বিশ্বকে তথাকথিত ভোটের উৎসব দেখানোর জন্য অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে তাদের রেহাই নেই। তারা দেশটাকে যুদ্ধাবস্থায় নিয়ে যেতে চায়। সারা দেশে এখন আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নামানো হয়েছে আমি আর ডামির ভোটরঙ্গে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসির কাছে নির্বাচন গৌণ। তারা চাচ্ছেন মেরে কেটে হুমকি-ধমকি দিয়ে যে যেভাবে পারে ভোটকেন্দ্রে নাবালক-সাবালক-ভোটার-অভোটার জোগাড় করে লোকারণ্য দেখাও। এটাই গণভবনের নির্দেশ, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উৎসবমুখর নির্বাচনি মডেল। কিন্তু ভোট নাটক যতই করেন কোনো লাভ নেই। সকলই গরল ভেল।’ সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে ১৭৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সময়ে ৪ ৩৬৫ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে ইইউ-কে আশ্বস্ত করলো আ.লীগ

আ.লীগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি কেমন হবে, তা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনার বিষয়টি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ আশ্বস্ত করেছে যে, কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি কার্যালয়ে ইইউ’র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটা কথা বলেছি যে, নির্বাচনের টার্নআউট সন্তোষজনক হবে। এ নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ আছে।’

‘সারা বাংলাদেশে ভোটারদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ করা যাচ্ছে, তাতে টার্নআউট নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।’

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কেমন হবে, কতটুকু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে, এ ব্যাপারে সরকারের যে প্রস্তুতি, আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি প্রভৃতি নিয়ে কথা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বতন্ত্ররা শুধু দলেরই, নাকি অন্য দলের আছে, সেটিও তারা জানতে চেয়েছেন।

‘এছাড়া নির্বাচনের ফলাফল, এটা কি সবাই মেনে নেবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা প্রস্তুত, নির্বাচনবিরোধীদের অবস্থা কী, তারা মেজর কোনো প্রবলেম করতে পারবেন কি না, সেসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।‘

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শুধু কি আওয়ামী লীগের, নাকি অন্য দলেরও আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহের এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাইরের লোকও স্বতন্ত্র নির্বাচন করছে। অনেকে বিএনপি থেকে এসেও স্বতন্ত্র নির্বাচন করছে। বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের, তবে সব স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগের না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল কে হবে সেটিও জানতে চেয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শুনেছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই নির্বাচনটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এখানে ২৭টি মতো দল অংশগ্রহণ করেছে, ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রতিযোগিতা করছে। এসব বিষয় তারা পজিটিভলি নিয়েছে। তারা একটা বিষয় জানতে চেয়েছে, বিরোধী দল কী হবে?’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল বলে দেবে, বিরোধী দল কে হবে।’

তিনি বলেন, তারা আসলে বলার চেয়ে আমাদের কথা বেশি শুনতে আগ্রহী ছিল। মন্তব্যের ব্যাপারটা তারা ওইভাবে করতে চাননি। আমরা আমাদের বক্তব্য বলেছি। নির্বাচনে আমাদের প্রস্তুতি, বিএনপি আসলো না কেন? একটা বহু আগের জানা কথা, খুব বেশি আলোচনার নয়, তারাও জানেন।

নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা হতে পারে কি না, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা ভায়োলেন্সের বিষয়ে কথা বলছে। বিএনপিতে ভায়োলেন্স করছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে তারা ভায়োলেন্ট করতে চাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে খোমেনি স্টাইলে একটা বিপ্লব হবে, যেটাকে রাইড করে নেতা আসবেন বাংলাদেশে, এরকম দুঃস্বপ্ন দেখছে বিএনপি। রিমোট কন্ট্রোল লিডারের বাস্তবতা ও আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। মোকাবিলা করো এসে। সৎ সাহস থাকলে রাজপথে আসেন। বিদেশে বসে কেন?

বাংলাদেশের নির্বাচনের চেয়ে ইউক্রেন, গাজা, ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাথাব্যথা, এ দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের এখন মাথাব্যথা ইউক্রেন নিয়ে। মাথাব্যথাটা গাজা, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন— এসব প্রসঙ্গ বিশ্ব রাজনীতিতে প্রকট। তারা বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন ওসব নিয়ে।

‘তিন দিন আগে কঙ্গোতে একটা নির্বাচন হয়ে গেল। অনিয়ম, ইন্টারনেট বন্ধ, কারো সাথে কারো যোগাযোগ নেই। আবার কয়দিন পরে দেখব, ডেমোক্রেসি কনফারেন্স, সেখানে একটা ডেস্ক থাকবে কঙ্গোর জন্য, যেখানে ইলেকশনে এত অনিয়ম। কিন্তু আমরা ডেমোক্রেসি হতে পারলাম না।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পাচ্ছেন জবির ১৪ শিক্ষক

জবির ১৪ শিক্ষক

গবেষণা প্রকল্পে ৩৯ লাখ টাকা অনুদান পাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৪ জন শিক্ষক। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে গবেষণা প্রকল্পে এ অনুদান পেতে যাচ্ছেন তারা।

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) অনুদানের জন্য মনোনীত একাধিক শিক্ষক বিষয়টি জানান। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব বিদ্যুৎ চন্দ্র আইচ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি জানানো হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচির আওতায় গবেষকদের ৬৯৬টি বিশেষ গবেষণা প্রকল্প স্থান পেয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচি’ খাত থেকে যেসব প্রকল্প প্রস্তাবের পিয়ার রিভিউ কমিটি কর্তৃক বিশেষ গবেষণা অনুদান দেওয়ার লক্ষ্যে সুপারিশ এবং অনুমোদন করা হয়েছে সেসব প্রকল্পে নিযুক্ত ফেলোশিপ প্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম প্রকাশ করে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষক সাতটি প্রকল্পে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আরও সাতজন শিক্ষক অপর সাতটি প্রকল্পে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

শিক্ষকদের মধ্যে গবেষণা অনুদানে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচ্ছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের। আর রসায়ন বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছয়জন শিক্ষক এ অর্থবছরে গবেষণা অনুদান জন্য মনোনীত হয়েছেন।

বরাদ্দের জন্য মনোনীত শিক্ষকরা হলেন- অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন, ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, ড. মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ড. জগদীশ চন্দ্র দাস, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান। পাশাপাশি গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. আবু লায়েক ও একই বিভাগের ড. মো. মনোয়ারুল ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার আহম্মদ এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিল্পী সাহা অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও জ্ঞান বিতরণের জায়গা। যেই গবেষণা প্রস্তবনাগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেগুলোতে অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অনুদানের জন্য মনোনীত শিক্ষকদের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে তারা আরও উৎসাহিত হবেন।’

প্রসঙ্গত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক প্রকল্পের গবেষণার জন্য ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছর থেকে বিশেষ গবেষণা অনুদান দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত, গবেষণারত এমএস, এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের এই অনুদান দেওয়া হয়। সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই ফেলোশিপ দিয়ে থাকে।

প্রতি বছর বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্স, ফিজিক্যাল সায়েন্স ও ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি গ্রুপসহ ছয়টি গ্রুপে গবেষণা অনুদান দেওয়া হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহ দেওয়াই এই ফেলোশিপের মূল উদ্দেশ।

গাড়ি থেকে ‘প্যারাসাইট’ অভিনেতার মরদেহ উদ্ধার

প্যারাসাইট

‘প্যারাসাইট’খ্যাত দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেতা লি সান-কিউনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সিওল শহরের পার্কে রাখা একটি গাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৪৮ বছল বয়সী লি সান-কিউন আত্মহত্যা করেছেন কিনা তা পরিষ্কার নয়। কারণ এ অভিনেতার স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে লি সান একটি চিরকুট রেখে গেছেন।

এ প্রতিবেদনে আরা জানানো হয়েছে, অবৈধ মাদক ব্যবহারের অভিযোগে তিনবার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন লি। একেকবার টানা ১৯ ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। এসময় লি সান-কিউন জানান, একজন বার হোস্টেস তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছেন।

‘প্যারাসাইট’ সিনেমায় পার্ক ডং-ইক চরিত্রে অভিনয় করেন লি সান। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি ২০২০ সালে অস্কারে সেরা সিনেমাসহ চারটি পুরস্কার লাভ করে।

বগুড়ায় সরিষার জমি বেড়েছে ৮ হাজার হেক্টর

সরিষার জমি

ছবগুড়ার চাষিরা সরিষা আবাদে দিনকে দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি বছরে ৮ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। মাঠে মাঠে হলুদ সরিষা ফুল। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। ফুলে ফুলে প্রজাপতি-মৌমাছির আনাগোনা।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলার ৩৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছিল। এই পরিমাণ জমি থেকে সরিষা উৎপাদন হয়েছিলো ৬০ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এবার সরিষা চাষের জন্য ৫৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪৫ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন কৃষরেরা। জেলার সব কয়টি উপজেলাতেই সরিষা চাষ হয়।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মতলুবর রহমান বলেন, উচ্চ ফলনশীল বারী-১৪ এবং বারী-১৫ এই দুই জাতের সরিষা বগুড়ায় বেশি আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৮ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একেবারে ব্লক পর্যায়ে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো সেটি নিয়ে আমরা এগিয়েছি। ভালো সরিষা উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে ৬ জন কৃষককে আমরা নগদ অর্থ এবং পুরষ্কার প্রদান করেছি। আশা করছি আগামী বছর সরিষা চাষের জমি আরো বাড়বে। এতে করে দেশে উৎপাদিত ভোজ্যতেলের পরিমাণও বাড়বে।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...