প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানাল ইরান

ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানাল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় ট্যাংকারের কাছ থেকে টোল নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল আদায় করা হয়নি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোনো টোল নিয়েছি কি না, তা ভারত সরকারকেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের এ মন্তব্য সামনে এসেছে। ট্রাম্প বলেছেন, যেসব জাহাজ ইরানকে অর্থ পরিশোধ করবে, তাদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ফাতহালি বলেন, এই কঠিন সময়ে আমাদের সম্পর্ক ভালো রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইরান ও ভারতের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ একসূত্রে গাঁথা।

অন্যদিকে, ভারতও বারবার অস্বীকার করেছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী তাদের জাহাজগুলো নিরাপদে বের হওয়ার জন্য কোনো টোল দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সংঘাত শুরুর পর প্রণালিতে কার্যত চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় ভারতীয় জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ভারতের দাবি, বর্তমানে অন্তত ১৫টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ নিরাপত্তা মিশন নিয়ে আলোচনা আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। বিশ্ব বাণিজ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ রুটে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে যৌথভাবে বৈঠকের আয়োজন করতে তারা। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অন্যান্য আগ্রহী দেশগুলোকে একত্রিত করে একটি শান্তিপূর্ণ বহুজাতিক উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য হবে প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, প্রস্তাবিত এই মিশনটি হবে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ এবং এটি যুদ্ধরত পক্ষগুলোর বাইরে থেকে পরিচালিত হবে। পরিস্থিতি অনুকূল হলেই দ্রুত এই মিশন মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে।