প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শ্যালিকা, দলীয় পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শ্যালিকা, দলীয় পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

নাটোরের বড়াইগ্রামে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নাবালিকা শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ অভিযোগে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক।

রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আসিফ ইকবাল নতুনের স্বাক্ষরিত পত্রে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ও সদস্য থেকে ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের বাবার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনের স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেন ও তার ছোটভাই মাহবুব হোসেনকে গ্রেপ্তার ও তাদের শাস্তির দাবি করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতার শ্বশুর ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতার স্ত্রী বলেন, বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার গুরুমশৈল মহল্লার ফারুক হোসাইনের ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। আমাদের ৫ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বছর খানেক ধরে ইকবাল আমার ১৬ বছর বয়সী ছোট বোনকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। ঘটনা জানার পর ইকবালকে বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে ইকবাল রাজনৈতিক কাজে বাড়ি ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে রাত ১১টার দিকে আমার বাবার বাড়িতে আসে এবং বোনকে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

গত সপ্তাহে বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে জানতে পারি, সে তার দুলাভাই দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এরপর গত ৩ এপ্রিল থেকে আকস্মিক নিখোঁজ হয় ছোটবোন। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করার পর গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বাবার জিম্মায় দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইকবাল ও তার ছোটভাই মাহবুব এসে জোরপূর্বক বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় বাবা-মার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে বোনকে উদ্ধার করে। সেখানে ইকবাল ও তার ভাই মাহবুবকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়। আমাদের পরিবারের লোকজন তাদের দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতার শ্বশুর বলেন, আমি আমার দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা দুশ্চরিত্র, লম্পট, ধর্ষক ইকবাল ও তার ভাই মাহবুবের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম জানান, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। এ ব্যাপারে তদন্ত ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।