প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বাড়তে পারে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বাড়তে পারে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনাও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহ শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৫ ডলারে, যা বছরের সর্বোচ্চ ১১৯ দশমিক ৪৫ ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পলিমার্কেটের এক জরিপে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম চলতি মাসেই ১০৫ ডলার ছুঁতে পারে।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।

অপরদিকে, ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট স্পিকার। তবে আলোচনার পর উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ছাড় আদায়ের চেষ্টা করেছে, যা তারা যুদ্ধক্ষেত্রেও অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত পুনরায় শুরু হতে পারে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সমঝোতা না হলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুও বলেছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় প্রয়োজনে অভিযান আবার শুরু করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে যেতে পারে। কারণ, ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।

এছাড়া সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে লোহিত সাগরেও বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১২ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চের শুরুতে ১১৯ ডলার থেকে নেমে এসে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রেন্টের দাম ৮৭ ডলার পর্যন্ত নেমেছিল। তবে আলোচনার অচলাবস্থার খবরের পর তা আবার ৯২ ডলারের ঘরে ফিরে এসেছে।

সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহেই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ট্রেডিং ভিউ