প্রচ্ছদ জাতীয় বহিষ্কারের পর এবার থানায় মুচলেকা, ক্ষোভে কাটলেন চুল

বহিষ্কারের পর এবার থানায় মুচলেকা, ক্ষোভে কাটলেন চুল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নারী সেজে অশ্লীল ও আপত্তিকর করার অভিযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান ইসলামকে এবার থানায় তলব করা হয়েছে। সেখানে তিনি নারী সেজে অশ্লীল ভিডিও না করার জন্য মুচলেকা দিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে তিনি এই মুচলেকা দেন। বিষয়টি ইত্তেফাক ডিজিটালকে নিশ্চিত করেছেন কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল স্থানীয়রা রেদোয়ান ইসলাম ও রিংকু সরকার রবিন নামের দুজনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রেদোয়ান ইসলাম এবং রিংকু সরকার রবিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নারী সেজে বিভিন্নভাবে অশ্লীল ও আপত্তিকর কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছে, যা স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ ও জনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। তারা প্রকাশ্যে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর কনটেন্ট প্রচার করছেন, যা কিশোর-তরুণসহ সাধারণ জনগণের নৈতিক মূল্যবোধের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তার এ কার্যক্রম জনসাধারণের শালীনতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকে থানায় তলব করে পুলিশ।

ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের থানায় ডাকা হয়েছিল। রেদোয়ান ইসলাম বলেছেন, তিনি ছেলে। তিনি আর কখনো নারী সেজে অশ্লীলতা ছড়াবেন না। এজন্য মুচলেকা দিয়েছেন। এসময় স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে আলোচনায় আসা ফেসবুক আইডি থেকে শুক্রবার দুপুরে একটি ভিডিও আপলোড দেন। সেখানে রেদোয়ানকে কেঁদে কেঁদে চুল কাটতে দেখা গেছে। যার ক্যাপশনে ‘ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করার মতো ভয়ংকর যুদ্ধ আর কি হতে পারে।’ এর কিছু সময় পর একই আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। যেখানে লেখা হয়, ‘মৃত্যু দিয়েই একদিন মুক্তি মিলবে আমি নামক কালো অধ্যায়ের..’

উল্লেখ্য, নারী সেজে নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ‘জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের’ অভিযোগে গত ৬ এপ্রিল জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই রেদোয়ানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ওই সময় জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, কলেজের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রেদোয়ান নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করে পদ পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি লিঙ্গ পরিবর্তনের মাধ্যমে নারী হয়েছেন— এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্ল্যামারাস সাজপোশাক আর রিলস ভিডিও দিয়ে নজর কেড়েছিলেন ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি আইডি। পরে জানা যায় ২৫ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার নিয়ে ভার্চুয়াল জগতে রীতিমতো পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা ওই আইডি চালান মূলত রেদোয়ান। এই ঘটনার পর রিদোয়ানকে ঘিরে ট্রান্সজেন্ডার বিতর্ক শুরু হয়।