প্রচ্ছদ আইন আদালত হাসিনাকে ফেরত চাইল বিএনপি সরকার

হাসিনাকে ফেরত চাইল বিএনপি সরকার

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এ অবস্থা চলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় আঠারো মাস। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ‘তিক্ত’ সেই সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত মেলে। এর ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল বুধবার দুপুরে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক পুনরুদ্ধার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এর আগে সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

পরে গতকাল রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ পুরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন। আলোচনায় উভয় পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। তারা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষীয় সুবিধার ভিত্তিতে তার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে, এমনটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ ছাড়া ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য দিল্লিকে অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আলোচনা চলাকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। এ সময় খলিলুর রহমান সম্প্রতি ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য মন্ত্রী হরদীপ পুরিকে ধন্যবাদ জানান এবং ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। মন্ত্রী পুরি ইঙ্গিত দেন, ভারত সরকার এ অনুরোধটি সানন্দে ও অনুকূলভাবে বিবেচনা করবে।

এদিকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য ভারতের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ প্রাসঙ্গিক দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে। শিগগির পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছে।

এদিকে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে একই ফ্লাইটে মরিশাসের পোর্ট লুইসে ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দিতে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
সূত্র : কালবেলা