প্রচ্ছদ জাতীয় ড. ইউনূস সম্ভবত সেফ এক্সিট পাচ্ছেন না

ড. ইউনূস সম্ভবত সেফ এক্সিট পাচ্ছেন না

রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্ভবত সেইফ এক্সিট পেতে যাচ্ছেন না। নানা রকম অভিযোগ, নানা অনিয়ম অনেকটা সুনামির মতো তার দিকে ধেয়ে আসছে।’

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে তিনি এ কথা বলেন।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো তার (ড. ইউনূস) জমানার নানা অনিয়ম, বিশেষ করে ব্যক্তিগতভাবে ড. ইউনূসকে যেভাবে আক্রমণ করে প্রতিবেদন ছাপাচ্ছে, ফটোকার্ড ছাড়ছে, তাতে সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড়।

ইউনূসকে নিয়ে যেকোনো একটা গালি দিলে, একটা নেতিবাচক কথা বললে মুহূর্তের মধ্যে সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি ওই জমানাতে কী করেছেন, কত টাকা সুবিধা নিয়েছেন, রাষ্ট্রের কত টাকা ক্ষয়ক্ষতি করেছেন—সেটা সরকারদলীয় কোনো মন্ত্রী-এমপি বলুন বা কোনো সাংবাদিক, কিছু বললেই সঙ্গে সঙ্গে সেটি ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।
এক-এগারোর ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এক-এগারোর কুশীলব, বিশেষ করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ডিজিএফআই-এর প্রধান জেনারেল মামুন খালেদকে যখন গ্রেপ্তার করা হলো এবং তাদের কাছ থেকে যে জবানবন্দী আদায় করা হয়েছে, এরপর সব মহল থেকে বলা হচ্ছে যে এরা তো শুধু হাতিয়ার। কারা এই হাতিয়ারের মালিক ছিল, আজকে যেভাবে ডিপ স্টেটের কথা হচ্ছে, এক-এগারোর ঘটনা ঘটানোর জন্য তখনও একটা ডিপ স্টেট ছিল।

স্পষ্টত সেখানে দিল্লি ও আমেরিকার একটা কালো হাত ছিল। দিল্লি ও আমেরিকার গ্রিন সিগনাল ছাড়া বাংলাদেশের তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের পক্ষে কখনো কোনো অবস্থাতেই বিএনপির মতো একটা বৃহৎ দলের সঙ্গে চোখ উল্টানো সম্ভব ছিল না।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, একটা সময় বিএনপির ওপর নির্যাতন হয়েছে, জুলুম হয়েছে, বেগম জিয়ার ওপর হয়েছে, তারেক রহমান সাহেবের ওপর হয়েছে, কোকোর ওপর হয়েছে, বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর হয়েছে। এখন বিএনপির যখন সুসময়, তখন তারা কোনো অবস্থাতেই সেই কুশীলবদের ছাড় দিতে নারাজ।

তিনি বলেন, তারেক রহমান যাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের দ্বারা তার কোনো কনসিডারেশন হয়নি, তাদের থেকে ক্ষতিপূরণ পাননি, কোনো অবস্থাতে তার ভোগবিলাস বা অন্য কোনো জায়গাতে তার ক্ষুন্নিবৃত্তি হয়নি। তাদের তিনি ক্ষমা করবেন না এবং তিনি যে লোকদের গ্রেপ্তার করছেন, তার ফলে ক্রমশই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ