
দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ দিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তব্যে তিনি এ ধন্যবাদ জানান। এরপরই চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘‘আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ। আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি, বাংলাদেশে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কত লক্ষ মানুষের ভালোবাসা দোয়া, সহযোগিতা আমার পাশে ছিল। একটা দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে এটা বোঝার সুভাগ্য আমার হতো না।’
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘হাজার মানুষের আত্মত্যাগের ফসল হচ্ছে আজকের এই সংসদ; এই মানুষগুলো কারা? যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকে কেউ মন্ত্রী, কেউ এমপি, কেউ সরকারি দল, কেউ বিরোধী দল হয়ে সংসদে বসেছি। তাদের স্বপ্ন কী ছিল? তারা জানতো তাদের এই আত্মগ্যাগের বিনিময়ে কিন্তু কেউ মন্ত্রী হবে না… এমপিও হবে না। তারা ছিল সাধারণ মানুষ। একেবারে খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ।’’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘তারা একটা নতুন বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিল, একটা নতুন রাজনীতি নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিল। একটা নতুন চিন্তার জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন এবং সর্বোপরি সকলের জন্য… যেই ভীষণ রকম বৈষম্য আমরা দেখেছি গত কয়েক বছর, সেখান থেকে মুক্ত হয়ে সকলকে নিয়ে, সকলকে একসাথে করে, একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন।’’
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন বলেন, ‘‘শহীদদের যে প্রত্যাশা নিয়ে এই গণঅভ্যুত্থান সেই প্রত্যাশা কিন্তু বায়বীয় বা অলীক কোনো বিষয় ছিল না। এখনো যদি আমরা দেয়ালে দেয়ালে তাকাই আমরা দেখবো, তারা তাদের স্বপ্নের কথা দেয়ালে লিখে গেছেন—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ কিংবা ‘দেশটা কারো বাপের না’, ‘তুমি কে? আমি কে? বিকল্প বিকল্প’, ‘আসছে ফাগুন আমরা হবো দ্বিগুণ’, ‘শোনো মহাজন আমরা অনেক জন’, ‘দিনে নাটক রাতে আটক’, ‘নাটক কম করো প্রিয়’, ‘হামার ব্যাটাক মারলু ক্যানে?’—এমন হাজারো প্রশ্ন লক্ষ জিজ্ঞাসা। এই লড়াইটা কেবল একটা সরকার পরিবর্তনে লড়াই ছিল না। এটা ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের লড়াই।’’












































