
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) দায়িত্ব পালন করা মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।
ছাত্রদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘিরে সংগঠনজুড়ে তৈরি হয়েছে জোর আলোচনা, সমর্থন ও মূল্যায়নের নানা সমীকরণ। মাঠের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছরে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রচারের সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন তরুণ এই ছাত্রনেতা।
যশোর অঞ্চলে জন্ম নেওয়া তরিকুল ইসলাম তারিকের বেড়ে ওঠা সাধারণ পরিবেশে। শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক ধাপ শেষ করে তিনি ভর্তি হন যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)।
ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্সে অধ্যয়নরত তারিক। একাডেমিক দিক থেকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি তিনি ছাত্ররাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ড- দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে সক্রিয় থেকেছেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে যথাক্রমে ৩.৬৫ ও ৩.৭৫ সিজিপিএ রয়েছে তার।
তারিকের রাজনৈতিক যাত্রা মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হল রাজনীতিতে নেতৃত্বের সক্ষমতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে দ্রুত আলোচনায় নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে এসব যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এসে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কর্মী সমন্বয় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
রাজনীতির মাঠে তরিকুল ইসলাম তারিককে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এনেছে তার আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি। বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। রাজপথের আন্দোলনে একাধিকবার গুলিবিদ্ধ ও আহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা তাকে ত্যাগী ও ঝুঁকি নেওয়া নেতাদের কাতারে স্থান করে দিয়েছে- এমনটাই মনে করছেন তার অনুসারীরা।
দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন তরিকুল ইসলাম তারিক। এক আবেগঘন খোলা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জিয়া পরিবারের প্রতি তার কমিটমেন্টে কখনো কোনো ঘাটতি ছিল না। স্বার্থ বা প্রাপ্তির জন্য নয়, আদর্শের জায়গা থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।
২০২৪ সালের মার্চে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার পর জুনে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম, যার মধ্যে তরিকুল ইসলাম তারিক অন্যতম।
আসন্ন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি প্রার্থী হিসেবে কতটা এগিয়ে থাকবেন, তা নির্ভর করছে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং মাঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।









































