প্রচ্ছদ জাতীয় রাষ্ট্রপতির অপসারণ নিয়ে সেদিনের বৈঠকে যা বলেছিলেন আসিফ নজরুল

রাষ্ট্রপতির অপসারণ নিয়ে সেদিনের বৈঠকে যা বলেছিলেন আসিফ নজরুল

দুহাজার চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ ছাড়েন সেই সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপিরা। যারা দেশে ছিলেন তারা এখন অনেকেই হত্যা মামলায় জেলে রয়েছেন। ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ পড়ান শেখ হাসিনা সরকারের নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

হাসিনার নিয়োগ করা সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চায়নি জুলাই আন্দোলনের সংগঠকরা। বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে ছাত্র-জনতা। কিন্তু এ বিষয়ে তখন বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা না থাকায় স্বপদে বহাল থাকেন রাষ্ট্রপতি। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানী ছাত্রদের সংগঠন এনসিপির পক্ষ থেকে বারবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চাওয়া হয়। এ নিয়ে যমুনার সামনে আন্দোলনও হয়।

এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন লাভ করে। বিএনপি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভাকে সংবিধান অনুযায়ী শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

জুলাই সনদ ইস্যুতে এই রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নেওয়া নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি যুগান্তরকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যোবায়ের আহসান জাবের।

আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে ৮ আগস্ট যে সরকার গঠন হয়েছে, সেই সরকার গঠন করে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত এবং অন্যান্য যে স্টেকহোল্ডার আছে তারা। মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী সরকারটি গঠিত হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র ছাত্রদেরকে বলা হয় যে রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়েছেন বিষয়টি সেটি না।

তিনি বলেন, বরং ছাত্রদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রস্তাবনা ছিল। ৬ আগস্ট ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে আমাদের ছাত্রদের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বৈঠক হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে কিন্তু তারা তখন যেটি বলছে যে, এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি অপসারণ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করবে। ফলে সরকার গঠন হয়ে যাওয়ার পরে আমরা সে বিষয়গুলো দেখবে। ফলে এটি শুধুমাত্র ছাত্রদের পক্ষ থেকে না বরং বিএনপি-জামায়াত অন্যান্য দলগুলোই কিন্তু সেই রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিষয়ে তখন একমত হননি।

আদিব আরও বলেন, ‘৮ আগস্ট সরকার গঠনের আগে তৎকালীন প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে আমাদের যে আনঅফিশিয়াল বৈঠক হয়েছিল সেখানেও তিনি বলেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতির অপসারণ এটি খুব বেশি বড় কিছু না। ড. ইউনূস তার যে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, সেই জায়গা থেকে যদি সরকার গঠনের পর তিনি অনুরোধ করেন রাষ্ট্রপতি সরে যেতে বাধ্য হবেন। কিন্তু আমরা যেটি দেখলাম অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরে সেই জিনিসটি হয়নি। বরং রাষ্ট্রপতি সেই জায়গায় ছিলেন এবং অন্যান্য যারা উপদেষ্টা ছিলেন তারা দায়িত্ব নেওয়ার আগে যে কথা বলেছেন, সেই জায়গা থেকে কিন্তু সরে আসেন।

তিনি আরও বলেন, আসিফ নজরুল যেহেতু উপদেষ্টাদের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সেই জায়গা থেকে তিনি কিন্তু আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারতেন। কিন্তু আমরা দেখেছি তিনি সেই জায়গাটাতে জোরালো ভূমিকা পালন করেননি। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন মন্ত্রণালয় কেন্দ্রিক অধ্যাদেশ করেছেন সেটি ইতিবাচক। কিন্তু ওভারঅল জাতীয়ভাবে একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য যেই জায়গাটি কাজ করা দরকার ছিল সেই জায়গাটিতে আমরা তাকে আশানুরূপ পাইনি।

সূত্র : যুগান্তর