
ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের আদালতে বলেছেন, শেখ হাসিনার আমলে আমি বৈষম্যের শিকার। আমি কেনো তাকে ক্ষমতায় রাখতে চাইবো?
তিনি বলেন, আমাকে শেখ হাসিনার সময়ে ২০০৯ সালে ৯ নভেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়। ২৬ বছর চাকরি করার পর এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়। পেনশনও পাইনি।
রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানার মামলায় রিমান্ড শুনানিতে একথা বলেন আফজাল নাছের।
এর আগে গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন
জুলাই আন্দোলনে নিহত দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
৬ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন। ওই মামলায় তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর মকবুল হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ পাঁচ দিনের যে রিমান্ড আবেদন করেন সেই বিষয়ে শুনানি হয়।
প্রথমে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মকবুল হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী। আসামিপক্ষে শওকত উল্লাহ রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করেন।
এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আফজাল নাছের আদালতের কাছে জানতে চান, কথা বলতে পারবেন কি না। পরে অনুমতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এসময় জামাল নাছের বলেন, আমি ইউনাইটেড হাসপাতালে কখনও চাকরি করিনি। এটা ইউনাইটেডের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, সিস্টার কনসার্ন। তিনি বলেন, সেখানে (ইউনাইটেড হাসপাতালে) ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়নি। সেটা তো আমার কাজ না, সেখানকার কর্মকর্তাদের কাজ।
আফজাল নাছের বলেন, এখন আমি আসামির কাঠগড়ায়। বিচার করেন, সঠিক বিচার। তবে সরকার যদি চায় যেকোনোভাবে ক্ষতি করতে পারে। আমি নিজেই বৈষম্যের শিকার। কেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চাইবো। যেখানে তার দ্বারা আমি বৈষম্যের শিকার। সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন, আমি যদি জড়িত থাকি আমার ডাবল শাস্তি হোক। আল্লাহ বিচার একভাবে করেনি।
শুনানি শেষে আদালত থেকে তার তিন দিনের রিমান্ড দেয়। এরপর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায়। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এককর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামে একব্যক্তি বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।








































