
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে অস্থিরতায় এই সংকটের সৃষ্টি। এর প্রভাবে বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশেও এই যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে। বাংলাদেশগামী জাহাজ আটকে আছে সমুদ্রে, হরমুজ প্রণালি পার হতে না পারায়। যার কারণে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা। তেহরান ইতোমধ্যে আশ্বস্তও করেছে বাংলাদেশগামী জাহাজ চলাচল করতে দেবে তারা। কিন্তু এর মধ্যে জ্বালানির একাধিক চালান বাতিল হয়ে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়নি। তবে, পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। তেল পেতে অনেকে অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এর জন্য তেল মজুত করা এবং প্যানিক বায়িংকে (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) দায়ী করছে সরকার।
এর মধ্যে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির কারণে সরকারি তহবিলে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দেশের স্বার্থেই শিগগিরই জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
দেশে এখন ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা, অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেখা নেয়া যাক কোন দেশে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল।
গত ৩০ মার্চের হিসাব অনুযায়ী গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইস ডটকম বলছে, লিবিয়াতে ২.৮৭ টাকা, ইরানে ৩.৫ টাকা, কুয়েতে ৪১.৫৯ টাকা, কাতারে ৬৮.৯৮ টাকা, সৌদি আরবে ৭৬.১২ টাকা, ওমানে ৭৬.২২ টাকা, বাহরাইনে ৭৬.৩১ টাকা, ইরাক ৭৯.৫৬ টাকা, ভুটানে ৮২.৮৫ টাকা, রাশিয়ায় ১০১.৪৮ টাকা, আরব আমিরাতে ১০৯.৪৯ টাকা, আফগানিস্তানে ১১৬.৩১ টাকা, মালয়েশিয়ায় ১১৭.২৪ টাকা, ভারতে ১৩২.৭৩ টাকা, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩৯.৯৯ টাকা, পাকিস্তানে ১৪১ টাকা, যুক্তরাজ্যে ২৪১.২৯ টাকা, চীনে ১৬৩.৫৯ টাকায় প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণত তেল উৎপানদকারী ও রফতানিকারক দেশগুলোতে কম দামে তেল বিক্রি হয়ে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল মজুত থাকলেও সেখানে ব্যতিক্রম।
তবে, পাকিস্তানে গতকাল বৃহস্পতিবার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোল কিনতে এখন খরচ হবে ২০০ টাকার মতো।








































