
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলারর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেটে গান বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মাইকিং করা হয়েছে। জেনে ও না জেনে কেউ যদি সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট বাজায় তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এমনকি তাদেরকে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী প্রচার মাইকের মাধ্যমে এলাকায় এমন ঘোষণা দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।
এ সিদ্ধান্ত মাইকে প্রচারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি ভ্যানে মাইকে প্রচার করা বার্তায় বলা হয়, আজ থেকে মহল্লায় সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষেধ। কোনো ব্যক্তি ভুল করিয়া জেনে ও না জেনে যদি সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজান, তাদেরকে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হইবে। আদেশক্রমে মাজগ্রাম বড় মসজিদের কমিটিবৃন্দ।
মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, গত ২৭ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটি আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় যে, বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট বাজানো হলে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সকল কার্যকলাপ থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে। অর্থাৎ তাদের থেকে মসজিদে চাল নেওয়া হবে না। কবরস্থানে তাকে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এক কথায় সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কট করা হবে।
তিনি বলেন, কোরআনে গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও সম্প্রতি কিছু বিয়ে-সুন্নাতে খৎনা বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়েছে। এতে অসুস্থ মানুষসহ সকলের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, সব ধরনের গান-বাজনা বন্ধ বিষয়টি ঠিক ওই রকম নয়। উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানো বন্ধের বিষয়ে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখন মিল মিশ হয়ে গেছে। আমাদের এলাকার মধ্যে আর এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই। সব কিছু সমঝোতা হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের পাশে জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির বাড়িতে তাদের এতিম নাতি ছেলে আলিফের (৭) শখ পূরণ করতে ঈদের পরের বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাড়িতে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করা হয়। এতে মুসল্লিরা অস্বস্তি বোধ করলে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলে পরদিন শুক্রবার আলোচনা সাপক্ষে গ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ কমিটি।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে রুপা খাতুন বলেন, নাতি ছেলের সখ পুরণ করতে খৎনা অনুষ্ঠানে মাত্র একদিন বক্স বাজানো হয়েছে। তবে নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ ছিল। সব সময় সাউন্ডও কম থাকত। তবুও শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক প্রভাব দেখিয়ে গ্রামে ঝামেলা করতেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গান-বাজনা বন্ধ করার সুযোগ নেই। মাইকিংয়ের বিষয়টি আমার নলেজে এসেছে। এই ধরনের মাইকিং করতে পারে কিনা সেই উত্তর আপনার কাছেও আছে। আমরা দেখছি তারা কেন এটা করল। কী উদ্দেশ্য তাদের। এই বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি।
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, শিলাইদহ বড় মাজগ্রামের ঘটনাটি আমি অবগত আছি। এ বিষয়ে আমার উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছি। তারা উপজেলা প্রশাসন মসজিদ কমিটির সাথে কথা বলে একটি মুচলেকা নিয়েছে। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কোনো কাজ তারা করবে না।











































