প্রচ্ছদ জাতীয় দলীয় ও সংসদীয় দায়িত্ব পালনে হিমশিম জামায়াতের এমপিরা

দলীয় ও সংসদীয় দায়িত্ব পালনে হিমশিম জামায়াতের এমপিরা

ত্রয়োদশ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ৬৮ জন নেতা। এসব আইনপ্রণেতার মধ্যে আছেন দলটির আমির, নায়েবে আমির, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, মহানগর, জেলা ও উপজেলা আমিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা।

তাই সংসদে ও নির্বাচনি এলাকার নানা কাজের পাশাপাশি তাদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে দলীয় সাংগঠনিক কাজেও। এসব দায়িত্ব পালনে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে জামায়াতের এমপিদের। তবে সময় ও পরিশ্রম বেশি লাগলেও সবকিছুকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে সবাই তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, জামায়াতের এমপিদের প্রতি নির্বাচনি এলাকার জনসাধারণের প্রত্যাশাও বাড়ছে। নানা সাহায্য-সহযোগিতার পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে তারা এসব জনপ্রতিনিধির কাছে ছুটে যাচ্ছেন। এমপিরাও যথাসম্ভব এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। সময় দিচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বৈঠকে। তবে প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিরাজমান জটিলতা ও অনিয়ম কাটাতে এমপিদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

দুই দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দলীয় সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি এমপি হিসেবে নানা কাজে ব্যস্ততা ও কষ্ট বাড়লেও আমরা তা স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটছে না।

এলাকাবাসীর কাছে জামায়াত এমপিদের প্রত্যাশা বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সমস্যা থেকে শুরু করে নানা কাজে আমাদের কাছে আসছেন, সহায়তা চাচ্ছেন। আমরাও তাদের যথাসম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক, ব্যবসায়িক ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট অনিয়ম-জটিলতা বিরাজ করায় সেগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা এসব জটিলতা দূর করার জন্য সবার সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ ও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

দলীয় সূত্রমতে, অন্য দলগুলোর তুলনায় জামায়াতের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধরন অনেকটাই ভিন্ন। দলটির জনশক্তির মান অনুযায়ী তথা সমর্থক, কর্মী, রুকনসহ নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব ও কাজ নির্ধারিত রয়েছে। এসব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শাখা অনুযায়ী কর্মী বৈঠক, রুকন বৈঠক, দায়িত্বশীল বৈঠক, বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। যার মূল তদারকি করে থাকেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাই এখন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালন করছেন। চলমান সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে তাদের ঢাকায় নিয়মিত সময় দিতে হচ্ছে। ফাঁক পেলেই আবার তারা ছুটে যাচ্ছেন সংসদীয় এলাকা ও দলীয় সাংগঠনিক কাজে। সব মিলিয়ে ত্রিমুখী কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নির্বাচনি এলাকাবাসীর সুবিধা-অসুবিধাকে সামনে রেখে সংসদে এসে কীভাবে ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়ে চেষ্টা করছি। আর জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জায়গাই হলো সংসদ। জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সংসদে ভূমিকা রাখা যায়। অন্যদিকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন নিয়মমাফিক পরিচালিত হয়। জনগণের অধিকার, সংসদে দায়িত্বপালন এবং সংগঠন পরিচালনাÑএ তিন কাজেরই ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছি। প্রথমদিকে কিছুটা কষ্ট হলেও আশাকরি তা সফলভাবে পালনে সক্ষম হব।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা সব সময়ই বেশি। এখন সেই প্রত্যাশা আরো বেড়েছে। কারণ আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগেও ভূমিকা রেখেছি, এখন আইনানুগভাবে আরো সুযোগ হয়েছে। আগে সাংগঠনিকভাবে নিজ দায়িত্বে কাজ করলেও এখন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়ছে, তাই আরো গুরুত্ব দিয়ে আমার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য চেষ্টা করছি।

এদিকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বিভিন্ন আসনের এমপিরা ঢাকায় অবস্থান করায় এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের মাধ্যমে এলাকাবাসীর জরুরি প্রয়োজনে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন তথ্য পাওয়া গেছে শেরপুর-২ আসনের এমপি হাফেজ রাশেদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট থেকে। গত ২৮ মার্চ তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘আগামীকাল থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে আজ ঢাকায় পৌঁছলাম। অনেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। সে সব ভাইবোনদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আপাতত সংসদ অধিবেশন চলাকালে শুক্র-শনিবার শেরপুরে থাকব ইনশাল্লাহ। এর বাইরে যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড দায়িত্বশীল ভাইদের মাধ্যমে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল। শেরপুরের উন্নয়ন-অগ্রগতির লক্ষ্যে মহান আল্লাহ সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার তাওফিক দান করুন।’

দলীয় ও সংসদীয় কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির আলী আযম মো. আবু বকর বলেন, জেলা আমির হিসেবে দলীয় সব কাজই স্বাভাবিকভাবে চলছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংসদ সদস্য হিসেবে আরো বড় দায়িত্ব। এলাকাবাসীর নানা প্রয়োজন ও সমস্যার সমাধানে দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজেও সময় দিতে হচ্ছে। সংসদ অধিবেশনেও যোগ দিতে হচ্ছে। এসব কাজে কষ্ট বাড়লেও তা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংসদ সদস্য হওয়া দলের ১৩ জন জেলা আমিরসহ অন্য দায়িত্বশীলরাও একইভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান।

সূত্রমতে, ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তিনি দলীয় আমিরের পাশাপাশি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুই বড় দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সুযোগমতো ছুটে যাচ্ছেন নির্বাচনি এলাকায়। বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায়, এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়সহ নানাভাবে সমস্যার সমাধান, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মানুষের প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করছেন। তবে জামায়াত আমিরের পক্ষে তার নির্বাচনি এলাকায় কাজের জন্য দলের একটি টিম প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।