প্রচ্ছদ জাতীয় জামিনে মুক্তি পেলেন যুবদল-ছাত্রদলের সেই ৬ নেতাকর্মী

জামিনে মুক্তি পেলেন যুবদল-ছাত্রদলের সেই ৬ নেতাকর্মী

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার যুবদল ও ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে কারাগার থেকে এই ৬ নেতাকর্মী জামিনে মুক্তি পান। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামিন প্রাপ্ত নেতাকর্মীরা হলেন- মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু, মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান এবং হাসান, জুয়েল ও আদর।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর মিরাজ মাহমুদ জিসানকে প্রধান আসামি করে বাইশপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে শরীফ হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি মারামারির মামলা দায়ের করে।

আইনজীবী বলেন, ওই মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপক দ্রুত সময়ের মধ্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান, মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা রেহান উদ্দিন রাজন, হাসান, জুয়েল, আদরসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দাখিল করেন। বিভিন্ন সময় নিয়মিত তারা হাজিরা দিলেও গত কয়েকটি তারিখে হাজিরা না দেওয়ায় অধিকাংশ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, বুধবার (১ এপ্রিল) চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা জজকোর্ট-২ আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আটক হওয়া ৬ জনের জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত পর্যালোচনা করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় বাবুরহাট কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন যুবদল ও ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী।

জামিনে বেরিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, বিগত ১৭ টি বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে। আমরা হামলার শিকার হয়েছি। ঘরে ঘুমাতে পারি নাই।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবরের যে মামলায় আমরা কারাগারে গেছি, ঐ মামলাটি করার কথা ছিল আমাদের। ওইদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মতলব বাজারস্থ সিঙ্গাপুর প্লাজা এলাকায় হরতালে পিকেটিং করার সময় আমরা যারা আসামি হয়েছি প্রত্যেকের উপর হামলা করেছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।

জিসান বলেন, আমরা রক্তাক্ত জখম হওয়ার পরও থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানায় মামলা নেয়নি। বরং উল্টো আমাকে প্রধান আসামি করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শরীফ হোসেন। এই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমি এবং আমার পরিবারের অনেকেই অসংখ্য মিথ্যা মামলার শিকার হই এবং কারাবরণ করতে হয়েছে। যে মামলায় ১ এপ্রিল হাজিরা দিতে গিয়ে জেল হাজতে যেতে হয়েছে সেটিও একটি মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাবুরহাট জেলগেট থেকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন জামিনে মুক্তি পাওয়া নেতাকর্মীদের।