
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংবিধান বিষয়ক বক্তব্য নিয়ে যখন চারদিকে তুমুল আলোচনা তখন এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেছেন কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন। বুধবার (০১ এপ্রিল) সকালে নিজের ভেরিফাইড আইডি থেকে তিনি অতীতের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ এবং নানান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে লিখেছেন-
ঘটনা ১ঃ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন বেগবান করতে সবগুলো ‘বিভাগীয় শহরে জনসভা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনায় যান বেগম খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে সেই গাড়ির বহরে আমাদের (নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির পৌর মেয়রের পাজেরো) গাড়িও ছিল। যশোর থেকে খুলনা যাওয়ার পথে কোনো একটি স্থানে (পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী না থাকলেও) নেতাকর্মীদের চাপে পড়ে বেগম জিয়া দু-চার লাইন কথা বলেছিলেন যার মধ্যে ছিল, “হাসিনার সংবিধান থাকবে না। সংবিধান নিয়ে সে যা খুশি তা করেছে। আপনারা সবাই গ্রুপিং টুপিং ছেড়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ইনশাআল্লাহ আমরা ক্ষমতায় গেলে সবকিছু ঠিক করা হবে।”
★লক্ষ্যনীয় যে, খালেদা জিয়া কিন্তু বলেননি, ‘সংবিধান’ থাকবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘হাসিনার সংবিধান’।
ঘটনা ২ঃ ওই ঘটনার ঠিক পরের বছর। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস। ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধের ৫০০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত এম কে আনোয়ার বলেছিলেন, “জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনী ছেঁড়া নেকড়ার মতো ছুড়ে ফেলা হবে। এই সংশোধনী সংবিধান ও বিচার বিভাগের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করবে।”
★উল্লেখ্য যে, সে সময় এম কে আনোয়ার ছিলেন বিএনপি’র নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একেবারে শীর্ষ পর্যায়ের। আমাদের কুমিল্লার সাবেক অর্থ সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম কে আনোয়ারের মুখ থেকে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য বের হওয়া মানেই সেটা ছিল বিএনপি’র বক্তব্য।
ঘটনা ৩ঃ ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর গুলশানে খালেদা জিয়াকে নিজ বাসার সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করলে খুব স্বাভাবিকভাবেই রাগের মাথায় জনৈক পুলিশের বাড়ি ‘গোপালগঞ্জ’ জেনে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলেন তিনি। আবেগের বশে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বললেও পরে তিনি নিজেই তা সংশোধন করেছিলেন বলে গত জানুয়ারিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে নিশ্চিত করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, “পরে তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেই বলেন, এটি ঠিক হয়নি। গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের একটি জেলা এবং তিনি একজন জাতীয় নেতা— এ উপলব্ধিই তার নেতৃত্বের গভীরতার প্রমাণ।”
★লক্ষণীয় যে, রাগের মাথায় সেদিন গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বললেও এরপর গত এক যুগে তিনি এমনকি বিএনপি’র কোনো নেতাকর্মীও সেটি নিয়ে আর কোনো কথা বলেননি। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার কাছ থেকেও কখনো আমরা এমন কোনো অভিপ্রায়ের কথা শুনিনি।
ঘটনা ৪ঃ ২০১১ সালের ১৩ জুলাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএনপির গণঅনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখা হয়, “আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন সংশোধনী এনেছে। আমরা বলতে চাই- এসব সংশোধনী আওয়ামী ইশতেহার। এটা জনগন মানে না। তাই আগামী সরকার পরিবর্তনের পর এসব সংশোধনী ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে।”
সবশেষে কলকাতায় বাংলাদেশের প্রেস সচিব তারিক চয়ন প্রশ্ন রেখেছেনঃ উপরে উল্লিখিত ঘটনা বা বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে আপনার কি একবারও মনে হবে, বেগম খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপি’র দায়িত্বশীল কেউ কখনো সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার’ কথা বলেছেন? কেউ যদি কখনো বলেও থাকেন, তাহলে সেটি কি গোটা সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা? নাকি সংবিধানের সংশোধনী ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা?
(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।)










































