
হঠাৎ এত পুলিশ! কী হয়েছে?— মঙ্গলবার গভীর রাতে এমন প্রশ্নেই ঘুম ভাঙে দক্ষিণ শালিকা গ্রামের বাসিন্দাদের। নিস্তব্ধ সীমান্ত গ্রামটি মুহূর্তেই পরিণত হয় কৌতূহল, আতঙ্ক আর ফিসফাসে ভরা এক অস্থির জনপদে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে কয়েকটি গাড়ির শব্দ শোনা যায়। এরপর দেখা যায়, পুলিশের একাধিক দল চারপাশ ঘিরে ফেলছে একটি গুদামঘর। ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয়রা। কেউ দূর থেকে দেখছেন, কেউ আবার সাহস করে কাছে গিয়ে জানতে চাইছেন—কী হচ্ছে এখানে?
পরে জানা যায়, আবু সুফিয়ানের মালিকানাধীন ‘ফারাবী ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানের গুদামে চালানো হচ্ছে অভিযান। একে একে বের করে আনা হয় লোহার ব্যারেল। গুনে দেখা যায়, ২৬টি ব্যারেলে ভরা মোট পাঁচ হাজার ৩৭৫ লিটার ডিজেল।
গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা তো ভাবতেই পারিনি, আমাদের পাশের গুদামে এত তেল রাখা আছে। রাতে হঠাৎ পুলিশ দেখে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম।
আরেকজন জানান, অনেক দিন ধরেই দেখতাম, গুদামটায় রাতের বেলা কিছু না কিছু নড়াচড়া হতো। কিন্তু কী হতো, তা বুঝতে পারিনি।
সীমান্তের তারকাঁটা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার ভেতরের এই গ্রামে এমন গোপন তেলের ভাণ্ডার মিলায় বিস্মিত সবাই। অনেকেই এখন শঙ্কা প্রকাশ করছেন—এটি কি শুধু মজুত, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে?
অভিযান চলাকালে পুরো এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শিশু থেকে বয়স্ক—অনেকে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার ফিসফিস করে নানা গুঞ্জন ছড়ান।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা তেলের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু তেল জব্দ করলেই হবে না—এর পেছনের পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটন করতে হবে।
রাত গড়িয়ে ভোর এলেও দক্ষিণ শালিকা গ্রামের মানুষের মনে রয়ে গেছে সেই রাতের অস্বস্তি। তাদের একটাই প্রশ্ন—চোখের সামনে এত কিছু ঘটছিল, অথচ তারা কিছুই জানত না কেন?
গ্রেফতার আবু সুফিয়ান দক্ষিণ শালিকা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে এবং ফারাবী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—আবু সুফিয়ান অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করে তা বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশে সংরক্ষণ করছিলেন। তবে অভিযানের সময় তিনি জ্বালানি মজুতের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।







































