
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। এ উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ৭ এপ্রিল ভারতের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সফর রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর হবে।
সফরে মূলত জ্বালানি আমদানি ও পানি বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. খলিলুর রহমানের সফরে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি এবং ভারত থেকে আরও জ্বালানি আমদানি সংক্রান্ত আলোচনাও হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতীয় এক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ৮ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়াল-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭-এর সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশ নমিনেশন দিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে। তিনি এ ক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা চাইতে পারেন বলেও জানায় হিন্দুস্তান টাইমস।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ, বিশেষ করে ডিজেলের ওপর আলোচনা করবেন। এই কারণে ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী হরদ্বীপ পুরি-এর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিন দশকের মেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি ডিসেম্বরে কার্যকর হয়েছিল। যেহেতু চুক্তির মেয়াদ শেষের কাছাকাছি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল চুক্তির জলবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিকগুলি মূল্যায়ন করছে। এ চুক্তির আওতায় উজান তীরবর্তী দেশ হিসেবে ভারতকে বাংলাদেশে পানি সরবরাহ করতে হয়।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে পানি প্রবাহে জলবায়ুর প্রভাব এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যদি নতুন করে চুক্তি প্রণয়ন করা হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।











































