প্রচ্ছদ জাতীয় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে বর্তমান সরকারের পতন হবে!

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে বর্তমান সরকারের পতন হবে!

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম নিজের ফেসবুক পেজে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লালটু মো. শাহাবুদ্দিনের একটি লেখা শেয়ার করেছেন যা হুবহু তুলে ধরা হলো:

গনভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে আন্দোলনের মুখে বর্তমান সরকারের পতন হবে। একবার পতন হলে আর কখনো তারা ঘুরে দাড়াতে পারবে না। এই সরকারী দলের নেতারা ভুলে গেছেন যে, আন্দোলন করে তারা ১৬/১৭ বছর হাসিনার কিছুই করতে পারেন নি। আবার যদি বিপদে পড়ে ক্ষমতাচ‍্যুত হন, অনিশ্চিত এক ভবিষ‍্যতে তারা নিপতিত হবেন।

মানুষ সব কথা মনে রাখে। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে ৩ জোটের রূপরেখা তারা পুরোপুরি মানেন নি। বরং মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপি করায় দেশে যে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী উঠেছিলো, তারা তা না মেনে বরং ১৫ ফেব্রুয়ারীর মত একটি একতরফা নির্বাচন করে দলকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। মানুষ তা মনে রেখেছিলো।

আবার ২০০১ এ ক্ষমতায় এসে তারা বিচারপতিদের চাকুরীর বয়স এমনভাবে বাড়িয়েছিলেন, যাতে কে এম হাসান নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন। কিন্তু আঃ লীগ তা হতে দেয় নি। দেশে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। জ্বালাও পোড়াও হয়েছে। শেষমেষ দেশে ইমার্জেন্সী এসেছিলো। মানুষ এটাও ভুলে যায় নি।

এই ১৯৯১ আর ২০০১ এ ক্ষমতায় এসে তারা কি কি করেছিলো, তা মানুষ মনে করে রেখেছিলো। সেজন‍্যই হাসিনা তার ১৬/১৭ বছরের ফ‍্যাশিজম টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। কারণ মানুষের কাছে হাসিনা প্রশ্ন ছুড়ে দিতেনঃ আমাকে আপনারা সরাবেন ভালো কথা কিন্তু আনবেন কাকে?

সূতরাং এবার যদি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পতন ঘটে, তারা সহজে আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। কারণ মানুষ সব কথা মনে রাখে। বিশেষ করে গনভোটের রায় বাস্তবায়ন বিষয়ক বেঈমানীর কথা মানুষ কিছুতেই ভুলবে না।

একটি কোম্পানী যেমন তার কাস্টমার বেইজ হারিয়ে ফেললে আর টিকতে পারে না, বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও তাদের সমর্থক বেইজ এমনভাবে হারাবে যে, শেষমেষ জাতীয় পার্টীর মত রাজনীতিতে অপ্রাসংগীক হয়ে যাবে। বার বার কলেজ বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে জীবন দিয়ে তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে জনগনের সাথে বেঈমানী করার সুযোগ দেবে, এমন সম্ভাবনা কম। ধন‍্যবাদ।

লেখা: Laltu Md Shahabuddin
সাবেক সভাপতি, ছাত্রদল।