প্রচ্ছদ জাতীয় ৫০০ টাকার কাছে হার মানল জীবন

৫০০ টাকার কাছে হার মানল জীবন

মাত্র ৫০০ টাকার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় চিকিৎসার অভাবে প্রাণ গেল এক নবজাতকের। অভিযোগের তীর বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দিকে। শুক্রবার গভীর রাতে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্বজনরা, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল এলাকা।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে নবজাতকের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজনরা, চলে বিক্ষোভ ও কান্নার রোল। নিহত নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের মো. রোহানের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই সে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার করেন। এরপরই শুরু হয় দুর্ভোগ। হাসপাতালের গেটে গিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স খোঁজেন স্বজনরা। চালকরা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ভাড়া দাবি করেন সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

স্বজনরা জানান, সরকারি ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও তারা প্রথমে সাড়ে ৩ হাজার এবং পরে ৪ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। তবুও চালকরা অনড় থাকেন। সিন্ডিকেটের কারণে অন্য কোনো গাড়িকেও রোগী নিতে দেওয়া হয়নি। এই দরকষাকষির মধ্যেই রাত ৩টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

মৃত শিশুর নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক অনুরোধ করেছি, কেউ নেয়নি। আমার নাতিকে বাঁচতে দিল না ওরা। আমি এখন আমার মেয়েকে কী বলব?’

দাদা জুয়েল মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনে আমার নাতি মারা গেল, শুধু গাড়ি না পাওয়ার কারণে।’ শিশুটির বাবা মো. রোহান বলেন, ‘হাসপাতালের পাশেই আমার বাড়ি। যদি আমার সঙ্গেই এমন হয়, তাহলে দূরের রোগীদের কী অবস্থা!’

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আগে জানতাম না। কেউ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মা বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’