প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক অবশেষে কঠিন সিদ্ধান্ত নিল ই’রান

অবশেষে কঠিন সিদ্ধান্ত নিল ই’রান

অবশেষে কঠিন সিদ্ধান্ত নিল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় নিজেদের সব ক্রীড়া দলকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর ফলে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে শুরু করে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়েও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরানি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সরাসরি সৌদি আরবে নির্ধারিত ট্রাক্টর এফসি বনাম দুবাইয়ের শাবাব আল আহলির মধ্যকার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ ম্যাচের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশ বৈরী হিসেবে বিবেচিত এবং যারা ইরানি অ্যাথলেট ও দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেসব দেশে জাতীয় বা ক্লাব দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে।’

যুদ্ধের প্রভাবে প্রায় প্রতিটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশই ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে। এমন অবস্থায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আগামী ১৬-২৫ এপ্রিল জেদ্দায় আয়োজনের কথা থাকলেও ইরানের এই অনড় অবস্থান পুরো আসরকেই খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি) ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।

মেসির মনের খবর জানেন না আর্জেন্টিনার কোচ!
ইরান সরকারের এই নিষেধাজ্ঞায় সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপের নাম নেওয়া হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো নিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে না পারার কথা জানানোর পর তেহরান তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে আয়োজনের জন্য ফিফার সাথে আলোচনা করছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করতে চান না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানি দলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। যদিও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, তারা টুর্নামেন্টটি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই আয়োজন করতে চান। এখন ফুটবল ভক্তদের নজর ফিফা ও এএফসির দিকে। তারা কি ইরানের দাবি মেনে ভেন্যু পরিবর্তন করবে, নাকি ইরানকে ছাড়াই হবে বিশ্বকাপ?