
বিগত ১৭ বছরের লীগ পরিচয়ে যারা পুলিশের চাকরি বাগিয়ে নিয়েছে,তাদের কপালে এখন ঘোর অশনির মেঘ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি ‘দলীয় নেটওয়ার্ক’, যেখানে বিশেষভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী মত দমন ও ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পুলিশের ভেতরে এই লীগ বাহিনী গড়তে নজিরবিহীন এক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।
অভিনব সেই জালিয়াতির ধরন শুনলে চোখ কপালে উঠবে। যাদের আসল বাড়ি অন্য জেলায়, স্রেফ চাকরির জন্য ভুয়া ঠিকানা ও জমি কিনে তারা বনে গিয়েছিলেন গোপালগঞ্জ বা অন্যান্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। নোভা এলইডি টিভি, ঝকঝকে ছবি, নিখুঁত শব্দ, পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি—নোভা মানে সঠিক মান, নিশ্চিত সেবা।
একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট ও খুলনার ছাত্রলীগ ক্যাডারদের জেলা কোটায় চাকরি দিতে এই মহা দুর্নীতির ছক কষা হয়।
তৎকালীন ঢাকা জেলার এসপি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি কিনে এসব দলীয় কর্মীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তন করা হতো। চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর সেই জমিও বিক্রি করে দেওয়া হতো। কেবল দলীয় বিবেচনাতেই নয়, নিয়োগের নামে কোটি টাকার বাণিজ্য করে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল হাবিবের এই সিন্ডিকেট।
২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলরা এখন এএসআই বা এসআই পদে আসেন। মূলত এরাই জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পুলিশের পোশাক গায়ে দলীয় ক্যাডারের মতো নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এবার এই ভুয়া পুলিশদের চিহ্নিত করতে কঠোর অবস্থানে সরকার। গত ১৫ই মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৬৪ জেলার এসপিকে চিঠি দিয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুয়া ঠিকানা, লিখিত পরীক্ষায় কম পেয়ে মৌখিকে বেশি নম্বর দেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ভয়াবহ অনিয়মগুলো খুঁজে বের করতে ছয়টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ই এপ্রিলের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জালিয়াতি ও দলীয় ক্যাডার পরিচয়ে যারা পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পেয়েছিল, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলার এই উদ্যোগ কেবল সময়ের দাবিই নয়; বরং পুরো বাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।












































