প্রচ্ছদ জাতীয় প্রাণে বাঁচা কালাম দিলেন ঘটনার বর্ণনা

প্রাণে বাঁচা কালাম দিলেন ঘটনার বর্ণনা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। এখনো আনুমানিক ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রী ছিলেন আবুল কালাম। দৌলতদিয়া টার্মিনাল থেকে তিনি ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য বাসে উঠেছিলেন। তিনি বাসে উঠে ১০-১৫ মিনিট বসে ছিলেন। ফেরিঘাটের আগে যানজটের কারণে দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগে বাস থেকে নেমে পড়েন।

এ প্রসঙ্গে কালাম বলেন, আমার সামনেই বাসটি ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে যায়। তখন আমি মোবাইল বের করে ভিডিও করব, না কী করব বুঝতে পারছিলাম না।

তিনি বলেন, আমি নেমে গেলেও বাসের মধ্যে ছিল আমার ব্যাগ। ব্যাগে ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ— মূল সার্টিফিকেট, এনআইডি, কোরিয়া যেতে প্রস্তুতি নেওয়ার কাগজপত্র ও নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যাগের খোঁজ পান কালাম। পুলিশের মাধ্যমে ব্যাগটি ফেরত পান তিনি।

কালাম বলেন, যখন যাত্রীসহ বাস ডুবে গেল, আমি ভাবতে পারিনি ব্যাগ ফেরত পাব। আমি বাসে থাকলে হয়তো আজকে মারা যেতাম।

তিনি বলেন, মারা যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে আমিও থাকতে পারতাম, যদি দুই মিনিট আগে বাস থেকে না নামতাম।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও যৌথভাবে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন।

সূত্র: কালবেলা