
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার জন্য সিরিয়ালে অপেক্ষায় ছিল কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ার সময়ও স্টিয়ারিং ধরে সিটে বসে ছিলেন চালক আরমান খান। উদ্ধার হওয়া বাসের ভেতর থেকেই বের করা হয় তার নিথর দেহ।
বাসটি উদ্ধার হলেও চিরবিদায় নিয়েছেন চালক আরমান। ক্ষত বাসটির স্টিয়ারিংয়ে এখনো লাগানো চাবি আর পাশেই ঝুলে আছে সাবান-সোবা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। ক্ষত বাসটির সামনের গ্লাসটি ভাঙ্গা। বাসে ওঠার পরই প্রতিবেদকের চোখে পড়ে এক করুণ দৃশ্য। চালকের বসার চেয়ার, বাসের ইঞ্জিন চালু করার চাবি ও পাশেই রয়েছে গোসল করার সাবান আর সোবা।
উদ্ধার হওয়া বাসটি দেখতে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে উৎসুক জনতা ভিড় করছে।
টার্মিনালে বাসটি দেখতে আসা রাজ্জাক বলেন, খুবই হৃদয়বিদারক ঘটনা। বাসের ভেতরে শিশুসহ কয়েকজন নারী ও পুরুষ যাত্রীর জুতা, পোশাক, খাবারের বাটি, চকলেট ও চিপস পড়ে আছে। আর চালকের সিটের পাশেই ঝুলছে সোবা ও সাবান। সবই পড়ে আছে, কিন্তু আজকে চালকসহ যাত্রীরা জীবিত নেই। তাদের স্মৃতিটুকু পড়ে আছে এখানে।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
তিনি বলেন, এটি খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজন বাকি আছে, তার স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার ও আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
ঘাট ব্যস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা সকলেই দেখেছেন এই দুর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে। এরপরও সামগ্রিক ঘাট ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ দুর্ঘটনায় নিঁখুত কারণ জানা যাবে।










































