প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার নিচে আর কিছু নাই!

ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার নিচে আর কিছু নাই!

ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার নিচে আর কিছু নাই! ও আমার জীবন খালাস করে দিছে স্যার…”—এভাবেই বুক ফাটা আর্তনাদে নিজের সর্বনাশ হওয়ার গল্প বলছিলেন শাহাদাত সুস্মিতা!

(পূর্বের নাম শাহাদাত)। এটি কোনো সিনেমার গল্প নয়, চট্টগ্রামের বুকে জেঁকে বসা এক ভয়ংকর ও নীরব ঘাতক চক্রের নির্মম বাস্তবতার শিকার তিনি।

এই চক্রটি সুস্থ-সবল ছেলেদের ফুসলিয়ে বা অজ্ঞান করে তাদের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলছে এবং জোরপূর্বক তথাকথিত ‘হিজড়া’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করছে।

প্রতারণা ও অঙ্গহানির বিভীষিকা:

শাহাদাত জানান, সুপিয়া নামের এক নারীর খপ্পরে পড়ে তাঁর জীবন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রথমে তাকে বুঝিয়ে এবং পরে বাথরুমের ভেতরে কোনো এক অজ্ঞাত ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলা হয়।

দুই দিন পর জ্ঞান ফিরলে শাহাদাত আবিষ্কার করেন তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। এই অঙ্গহানির পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন যাপন—বিশেষ করে প্রস্রাব করা—এখন এক অসহ্য যন্ত্রণার নাম।

শাহাদাতের ভাষায়— “এখন পেশাব করতে কষ্ট হচ্ছে, নিচে শুধু একটা পাইপ আর পলিথিন লাগানো।”

​ডাক্তার ও সিন্ডিকেটের যোগসাজশ:

এই জঘন্য অপরাধ কোনো আনাড়ি হাতে নয়, বরং একজন পেশাদার ডাক্তারের মাধ্যমে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। শাহাদাত জানান

ওই ডাক্তার এসে অজ্ঞান অবস্থায় অস্ত্রোপচার করেন এবং পরে সুপিয়া নামের ওই নারী সেলাই ও ড্রেসিংয়ের কাজ করেন। কাটা অঙ্গগুলো সাগরে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করা হয়। জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা নিজেকে হিজড়াদের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন

এবং পুরো চট্টগ্রামের এই সিন্ডিকেট কন্ট্রোল করেন।

​পরিবারের হাহাকার ও সামাজিক অবক্ষয়:
শাহাদাতের মা দিন-রাত বুক চাপড়ে কাঁদছেন, তাঁর সন্তানের জীবন এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায়। এই অঙ্গহানির কারণে এই যুবকরা আর

কোনোদিন বিয়ে করতে পারবেন না, স্বাভাবিক বাবা হতে পারবেন না এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে বাকি জীবন পার করতে হবে। এই নীরব ঘাতক চক্র অসংখ্য যুবকের জীবন এভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যা আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

​ চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ:

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, অনভিজ্ঞ হাতে বা অপরিকল্পিতভাবে এমন অস্ত্রোপচার করলে সেপ্টিসেমিয়া হয়ে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এছাড়া অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিডনি ফেইলিউরের আশঙ্কাও থাকে। আইনিভাবে,

একজন মানুষের অঙ্গহানি করা একটি গুরুত অপরাধ (Grevious Hurt), যার শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড। তবে অবাক করার বিষয় হলো,

আমাদের দেশে কোনো সার্জন যদি এমন অনৈতিক কাজ করেন, তার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কঠোর আইন এখনও নেই।

​প্রিয় পাঠক:

টাকার লোভে একটি জাতির যুবশক্তিকে এভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার এই জঘন্য অপরাধ নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? এই নীরব ঘাতক চক্রের হোতা

এবং জড়িত ডাক্তারের জন্য কী ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।