প্রচ্ছদ জাতীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের ‘মেরুদণ্ডহীন’ বললেন ছাত্রশক্তি নেত্রী

জামায়াত নেতাকর্মীদের ‘মেরুদণ্ডহীন’ বললেন ছাত্রশক্তি নেত্রী

জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ‘মেরুদণ্ডহীন’ রাজনীতিক বলে তিরস্কার করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কক্সবাজার জেলা শাখার মুখপাত্র জিনিয়া শারমিন রিয়া। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, মেরুদণ্ডহীন রাজনীতিরও একটা সীমা থাকা উচিত।

তিনি আরো লেখেন, একদিকে নির্বাচনে কারচুপির বাহাস, অন্যদিকে খিলখিল হাসি দিয়ে ফটোসেশন। এমন দ্বিচারিতা শুধু তাদের দিয়েই সম্ভব, যারা মনে করে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। ফটোসেশন যদি করবেন, তাহলে হাইকোর্টে রিট মারাইতে গেলেন কেন?

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেত্রী জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-০৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো প্রসঙ্গে সোমবার (২৪ মার্চ) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে নাতিদীর্ঘ এই স্ট্যাটাস দেন। ওই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী শাহজাহান চৌধুরীর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারী।

ফেসবুকে দেওয়া একটি ছবিতে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর উখিয়া উপজেলা শাখার আমির মাওলানা আবুল ফজল, নায়েবে আমির নুরুল হক ও উপজেলা সেক্রেটারি সুলতান আহমেদসহ ছয়জন নেতাকর্মী বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে ফুল দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির কক্সবাজার জেলার মুখপাত্র জিনিয়া শারমিন রিয়া সেই ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘একদিকে নির্বাচনে কারচুপির বাহাস অন্যদিকে খিলখিল হাসি দিয়ে ফটোসেশন। এমন দ্বিচারিতা শুধু তাদের দিয়েই সম্ভব, যারা মনে করে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। ফটোসেশন যদি করবেন, তাহলে হাইকোর্টে রিট মারাইতে গেলেন কেন? নাকে খত দিয়ে রাজনীতির মাঠে নেতাকর্মীদের সাথে কপটতা করে আর খেজুরের গুড় খেয়ে কদিন টেকসই থাকা যাবে?’

শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে ফুল দিয়ে তাকেই এমপি হিসেবে মেনে নিলেন! তাহলে হাইকোর্টে রিট করার নাটকটা কীসের ছিল? ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এমপি—এটা জেনেও এমন নির্লজ্জ স্বীকৃতি! সত্যিই আপনাদের দেখে মনে হয়, মেরুদণ্ডহীন রাজনীতিরও একটা সীমা থাকা উচিত।

প্রসঙ্গত, জিনিয়া শারমিন রিয়া ১১দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিভিন্ন বক্তব্যে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বিদ্বেষমূলক কথা বলেছিলেন।