
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় সূচকেই প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে।
মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, ভোর রাত ৪টায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ৯৪ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৩ দশমিক ৪৯ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ দশমিক ৬২ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে, সোমবার তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমে যায়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন এবং দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হয়েছে।
তবে তেহরান সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি এবং এটি বাজারকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে “পুরনো মনস্তাত্ত্বিক কৌশল” বলে অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত থাকলেও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান সংঘাতে ওই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যদিও সোমবার ভারতগামী দুটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
ম্যাককোয়ারি গ্রুপ জানিয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও তেলের দাম ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম। বরং প্রণালী স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম আবার ১১০ ডলারের দিকে যেতে পারে। এমনকি এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে ব্রেন্টের দাম ১৫০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।
এদিকে, জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে রাশিয়া ও ইরানের সমুদ্রে থাকা তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে কৌশলগত মজুত থেকে আরও তেল ছাড়ার বিষয়ে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, অন্তত এপ্রিল পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে। ইতোমধ্যে হিউস্টনে এক জ্বালানি সম্মেলনে তেল খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও মন্ত্রীরা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স












































