প্রচ্ছদ জাতীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, ফের নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, ফের নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটি গঠন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ চলতি মাসের এক মার্চ শেষ হওয়ায় সংগঠনটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ের দলীয় কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই নতুন কমিটির পদপ্রত্যাশীরা সরব হয়ে উঠেছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৮-০৯ থেকে ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। ২০০৮-০৯ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরসেদ আলম সোহেল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক জিয়ন। একই সেশনের মনজরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান ও এজাজুল কবির রুয়েলও আলোচনায় আছেন।

২০০৯-১০ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, এস এম মাহমুদুল হাসান রনি, শরিফ প্রধান শুভ, ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও

২০১০-১১ সেশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ এবং ঢাবি সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদের দৌড়ে রয়েছেন। এছাড়া ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ সেশন থেকে একঝাঁক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—জাহিদ হাসান শাকিল, নাহিদুজ্জামান শিপন, নাছির উদ্দিন শাওন, মাহমুদ ইসলাম কাজল, শামিম আকতার শুভ, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, তৌহিদুল ইসলাম ও আরিফ হাসান।

কেন্দ্রীয় কমিটির পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নেতৃত্ব নির্ধারণে এবার ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসে নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

ঢাবি শাখার নেতৃত্বে ২০১২-১৩ ও ২০১৫-১৬ সেশনের নেতারা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। ২০১২-১৩ সেশন থেকে নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, মানসূরা আলম, তৌহিদুল ইসলাম, মাহবুব আলম শাহিন, মুসাদ্দিক রহমান সৌরভ ও আরিফ হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে।

২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন আল আমিন, জসিম খান, ইমাম আল নাসের মিশুক, বিএম কাউসার, সাইফ খান ও ফেরদৌস আলম। এছাড়া ২০১৫-১৬ সেশন থেকে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন। কনিষ্ঠতম ব্যাচগুলোর মধ্যে ২০১৭-১৮ সেশনের ইমন মিয়া, মো. মেহেদী হাসান, সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক, মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ, রাকিবুল হাসানসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

১৯৭৯ সালে যাত্রা শুরু করা ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের কমিটি গত এক বছরে চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।