
মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করার কথা বলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সংক্রান্ত দুটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ কারণে জেলা পুলিশ সুপারের এক আদেশ এসআই আলমগীর হোসেনকে আজ রবিবার (২২ মার্চ) তাড়াশ থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।
জানা যায়, ফাঁস হওয়া দুটি অডিও রেকর্ডের মধ্যে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের একটিতে পিটিশন মামলার আসামি মো. সাকিব হোসাইনের কাছে ২৩ জন আসামিকে বাদ দেওয়ার শর্তে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই আলমগীর। এরমধ্যে সাকিব ১৩ হাজার টাকা দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা দিতে না পারায় ওই মামলায় তিনি চার্জশিট দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে টাকা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে শোনা যায়।
অপর অডিও কল রেকর্ডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হামলা চালানোর অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার আসামির বক্তব্য থেকে জানা যায়, আসামিদের গ্রেপ্তার না শর্তে আট জনের কাছ থেকে নগদ এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা ঘুষ নেন এসআই আলমগীর।
আরো ঘুষ দাবি করায় আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে, গ্রেপ্তার হয়ে তাদেরকে তাড়াশ থানায় ইফতার করতে হবে এমন হুমকি দেন এসআই আলমগীর হোসেন।
এ ছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এসআই আলমগীর তাড়াশ থানায় যোগদানের পরপরই সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন মামলার বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়সহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করা, বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে এলেও ভয়ে ভুক্তভোগীরা এত দিন মুখে খুলেননি।
এদিকে বুধ ও বৃহস্পতিবার ঘুষের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা নানা বিরূপ মন্তব্য করতে করেন।
এ নিয়ে গত ২০ মার্চ কালের কণ্ঠের অনলাইনে ‘তাড়াশ থানা/এসআই আলমগীরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইনেও এসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়।
এ প্রসঙ্গে রোববার কালের কণ্ঠকে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেনকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশের কপির অনুলিপি তিনি হাতে পেয়েছেন।












































