
তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি সিলেটের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) সকালে নগরীর সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় আছি। এটি দ্রুত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের ভালো কাজকে নৈতিক সমর্থন দেব, তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো কিছু মেনে নেওয়া হবে না।
স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : রেল প্রতিমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই জনগণের কাজ সম্পন্ন হওয়া উচিত, যাতে জবাবদিহি নিশ্চিত হয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।
বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালে বাবা-মায়ের নিরব হাহাকার
সিলেট দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ঢাকায় থেকে সড়কপথে সিলেটে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে সড়কের বেহাল চিত্র দেখা গেছে, যা এ অঞ্চলের অবকাঠামোগত দুরবস্থার প্রমাণ। শুধু সড়ক নয়, সব খাতেই সিলেটের প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে।
‘আমরা অতিরিক্ত কিছু চাই না, ন্যায্য অধিকারটাই চাই’, যোগ করেন তিনি।
সিলেটের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে দাবি তুলে যাবেন, তবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের।
জামায়াত আমির বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ ঘুরে দাঁড়ালেও এখনো সংকট পুরোপুরি কাটেনি। সমাজে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে। ফ্যাসিবাদের একটি বড় অংশ বিদায় নিলেও তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। এতে মানুষের মধ্যে আবারও অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৬৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, কিন্তু সেই প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে ব্যক্তিকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই সংবিধান পরিবর্তন হয়ে থাকে। তাই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সংবিধান সংশোধন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় তিনি সিলেটের সাংবাদিক সমাজের ঐতিহ্য ও সামাজিক সহমর্মিতার প্রশংসা করেন এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব, সিলেট মহানগর জামাতের আমির ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামাতের নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম বাবুল, জেলা জামাতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতারা।












































