
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে ঈদুল ফিতরের ঈদের নামাজ শেষে ঈদগাহে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগে এক যুবদল নেতাকে গণপিটুনি
দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বিলাসী এলাকায় ঘটে। জানা গেছে, ভিডিওর ওই যুবকের নাম বিটুল। বিটুল টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পূর্বে তিনি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এদিকে ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা ও ঈদের জামাতে আশা মুসল্লিরা তাকে ধাওয়া করছে। একই সঙ্গে গণপিটুনিও দিচ্ছে। পরে ওই যুবক পাশে থাকা একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২১ মার্চ) টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী এলাকায় ইদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০ টায়। ঈদকে কেন্দ্র করে রামগঞ্জ বিলাসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একদিনের জন্য মেলা বসে। প্রতিবছর মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের থেকে ২০-৫০ টাকা আদায় করা হতো মাঠ পরিষ্কারের জন্য।
কিন্তু এবার ঈদে বিটুল মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা আদায় করা হবে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়। আদায়কৃত চাঁদা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবরই চাঁদা উত্তোলনে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য গতকাল বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ নির্মাণ কাজও শুরু হয়।
মেলায় আগত একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসায়ীদের থেকে মাত্রাতিরিক্ত চাঁদা দাবি করে বসে। তাদের দাবি, প্রতিটি দোকান থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি ও অনেকের কাছে তা আদায়ও করা হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ব্যবসায়ীরাসহ স্থানীয়রা। এই সময় চাঁদা দিতে না চাওয়ায় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয় বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
বাগ্বিতণ্ডা এক পর্যায়ে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিটুলকে ধাওয়া করে উপস্থিত লোকজন গণপিটুনি দেয়। এই সময় দুই একজন তাকে রক্ষার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন বিটুল। এক পর্যায়ে দেবীগঞ্জ থানায় বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ গিয়ে বিটুলকে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।











































