প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার রাকিব হ’ত্যা: সালাউদ্দিনের নির্দেশে খু’ন, নেপথ্যে পরকীয়া

রাকিব হ’ত্যা: সালাউদ্দিনের নির্দেশে খু’ন, নেপথ্যে পরকীয়া

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান রাকিবকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার নেপথ্য কারণ উঠে আসছে। মূলত পরকীয়া জনিত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাহউদ্দিনের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। দুই ভাড়াটে খুনি কিলিং মিশনে অংশ নেয়।

রাকিব হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।তারা হলেন আসামি গোলাম রসুল শিহাব ও সাগর কবির।

জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছেন, পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। হত্যার জন্য খুলনা থেকে তাদের ভাড়াটে হিসাবে ঢাকায় আনা হয়। বুধবার আসামি গোলাম রসুল শিহাব ও সাগর কবির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই সঙ্গে রাফিন শেখ ও শাহরিয়ার নাজিম জয় নামে অপর দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড ও রিমান্ডের আদেশ দেন।

জবানবন্দিতে শিহাব ও সাগর জানান, তারা টাকার বিনিময়ে খুনের কন্ট্রাক্ট নেন। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিনের নির্দেশে তারা এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। হত্যার পেছনের বিস্তারিত কারণ তারা না জানলেও পরকীয়াজনিত বিরোধ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

রাকিব হত্যার চার আসামির মধ্যে শিহাবকে ঘটনাস্থল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে, সাগরকে পটুয়াখালী থেকে এবং রাফিন ও জয়কে খুলনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে হাজির করা হলে শিহাব ও সাগর স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন এবং তা রেকর্ড করা হয়। অপরদিকে রাফিন ও জয়ের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন খুনের কারণ সম্পর্কে বলেন, কোনো একটা মেয়ের হ্যাজবেন্ড নাকি এসে থ্রেট দিয়েছিল। এরপরই তো খুন হলো। এর বেশি কিছু জানি না। তিনি বলেন, রাকিব আমার একমাত্র ছেলে। তার বিরুদ্ধে কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। শহীদ মিনার ছিল তার খুব পছন্দের জায়গা। সেখানে যেত, আশপাশের শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাত, খেলাধুলা করত। ওকে দেখলেই বাচ্চারা ঘিরে ধরত। কেউ কিছু খেতে চাইত, কেউ মোটরসাইকেলে ঘুরতে চাইত। রাকিব সাধ্যমতো তাদের সব আবদার পূরণ করত। প্রায় প্রতিদিনই ২ ঘণ্টার মতো সেখানে কাটাত। পরিবারকে সময় কম দিলেও অন্যের উপকারে সব সময় এগিয়ে থাকত। কেউ রক্তের প্রয়োজন বললে জোগাড় করত, কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে ছুটে যেত। আমার সেই ছেলেটাকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।

মামলার এজাহারে রাকিবের বাবা উল্লেখ করেন, রাকিব মোটরসাইকেলে করে শহীদ মিনারে গেলে পার্কিং করার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।