
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এখন দেখা যাচ্ছে বিপরীতমুখী প্রবণতা। একদিকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম কমছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে—যা সরবরাহ সংকট ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সর্বশেষ লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২.০৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.১৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৪৫ শতাংশ কমে প্রায় ১০৭.১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পতন। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং সরবরাহ পরিস্থিতিতে সাময়িক সমন্বয়ের প্রত্যাশা এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে চিত্র ভিন্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানিযোগ্য প্রধান গ্রেড মুরবান ক্রুডের দাম এক লাফে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৩১ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি ঘটছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই যেখানে বৈশ্বিক মনোভাব প্রতিফলিত করে, সেখানে মুরবানের মতো আঞ্চলিক তেলের দাম সরাসরি বাস্তব সরবরাহ ঝুঁকির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে, যেখানে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল সরবরাহ হয়, সেখানে যেকোনো বিঘ্ন দ্রুত দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
এদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সামান্য কমেছে। সর্বশেষ তথ্যে, গ্যাসের দাম ১.২৩ শতাংশ কমে প্রতি ইউনিট ৩.১২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে চাহিদা কমে যাওয়া বা বাজারের প্রত্যাশা পরিবর্তনের কারণে এই পতন দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক বাজারে আরও বিভাজন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যারা গালফ অঞ্চলের তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা সরবরাহ সংকটের কারণে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হতে পারে।
এরই মধ্যে কিছু দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন মোট চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ পূরণ করতে পারায় আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা শুরু হয়েছে এবং কিছু খাতে জ্বালানি রেশনিং চালু করতে হচ্ছে।
বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া বা নরওয়ে থেকে তেল আমদানির সুযোগ থাকলেও উচ্চ মূল্য এবং সরবরাহগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা দ্রুত বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, কাগুজে বাজারে দামের নরম ভাব থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বাস্তব তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে—যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সূত্র: গালফ নিউজ












































