প্রচ্ছদ জাতীয় ইউএনও আলাউদ্দিন এখন ‘প/র্ন তারকা’

ইউএনও আলাউদ্দিন এখন ‘প/র্ন তারকা’

কয়েকজন নারীর সঙ্গে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন‌ও) মো. আলাউদ্দিনের অন্তরঙ্গ ভিডিওগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়েছে। গুগলে সার্চ করে দেখা গেছে, এই ভিডিওগুলো অন্তত ১৯টি পৃথক আন্তর্জাতিক পর্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে গত তিন দিনে। খবর দ্য ডিসেন্টের।

কয়েকজন নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন আলোচনায় আসেন। ভিডিওগুলো গত ১৬ মার্চ ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আলাউদ্দিন শুরুতে ভিডিওগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও, দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে আলাউদ্দিনের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও বাস্তব ফুটেজ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে তাকে ইউএনও পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।

দ্য ডিসেন্টের ওই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এই ভিডিওগুলো অন্তত দুই বছর আগে আলাউদ্দিন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় তার অফিসের এক কর্মচারী কর্তৃক আলাউদ্দিনের ডিভাইস থেকে সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছে ফাঁস করা হয়। দ্য ডিসেন্ট আলাউদ্দিনের সাথে অন্তত ৭ জন নারীকে অন্তরঙ্গভাবে দেখা যায় এমন ১০ ফুটেজ সংগ্রহ করে সেগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।

এদিকে আলাউদ্দিনের ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গত কয়েকদিনে এসব ভিডিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়েছে। গুগলে সার্চ করে দেখা গেছে, এই ভিডিওগুলো অন্তত ১৯টি পৃথক আন্তর্জাতিক পর্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে গত তিন দিনে। ভিডিওগুলো ইতোমধ্যে এসব সাইটে কয়েক লাখ বার ভিউ হয়েছে।

এসব ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়া ভিডিওগুলোতে আলাউদ্দিনকে অন্তত তিনজন ভিন্ন নারীর সঙ্গে দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে ইউএনও নাম ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন নাম ও শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওগুলো সংশ্লিষ্ট নারীদের চেহারা উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
একই রকম ক্লিপগুলো বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপেও ছড়িয়ে পড়েছে।

গুগল ট্রেন্ডস এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে গত তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে আলাউদ্দিন সংক্রান্ত ভিডিওগুলো বিভিন্ন কীওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ করে দেখা হচ্ছে। আলাউদ্দিন সংক্রান্ত শীর্ষ ২০টি কীওয়ার্ড গুগল ট্রেন্ডসে “Breakout” সার্চ হিসেবে দেখাচ্ছে। এর অর্থ, খুব অল্প সময়ের মধ্যে হঠাৎ করে অনেক বেশি মানুষ এই বিষয়টি সার্চ করতে শুরু করেছে।

দ্য ডিসেন্ট এর অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এসব ভিডিও ইউএনও আলাউদ্দিন নিজে তার ডিভাইসে ধারণ করে পরবর্তীতে পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করছিলেন।

কারো পর্ন ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ফৌজধারী অপরাধ। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মেহেদী হাসান ভুঁইয়া বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, কারো পর্ন ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ অপরাধ।

মেহেদী হাসান বলেন, আলোচ্য ইউএনও মূলত দুই ধরনের অপরাধ করেছেন। প্রথমত, সরকারি চাকরি বিধিমালা ২০১৮ লঙ্ঘন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ফৌজধারী অপরাধ করেছেন। আবার ফৌজধারী অপরাধে দুই আইনে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একটি হল পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এবং অন্যটি হলো সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একাধিক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে এডভোকেট মেহেদী বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এবং ভুক্তভোগী ছাড়াও রাষ্ট্র চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। যেকোন থানায় এফআইআর ফাইল করা যাবে এবং ভিডিও ধারণকারীর পাশাপাশি যারা সামাজিক মাধ্যমে বা ওয়েবসাইটে আপলোড করেছেন তারাও আসামী হতে পারেন।