প্রচ্ছদ রাজনীতি ঈদের পরেই রাজপথে নামছে ১১ দলীয় জোট

ঈদের পরেই রাজপথে নামছে ১১ দলীয় জোট

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় ঈদের পরেই ১১ দলীয় জোট রাজপথে নামছে। আলোচনা করে জানা গেছে, সংসদের ভেতরেই সমাধান না হলে শেষ পর্যন্ত এই তারা রাজপথকেই বেছে নেবে। আগামী ২৮ মার্চ সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে ঐদিন রাতেই ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসছেন। ওই বৈঠকেই রাজপথে নামার কর্মসূচি ঠিক করা হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা আশা করতে চাই যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি সংসদেই সমাধান হোক। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। যারা সরকারে আছেন তারাও নির্যাতিত। তারাও এই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন এবং জনগণকে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিতে বলেছেন। প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। হ্যাঁ বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার সেটা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঈদের পরে ২৮ মার্চ সংসদের অধিবেশন পুনরায় বসবে। আমরা দেখতে চাই, ওইদিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসছে কিনা। যদি সংসদে সমাধান না হয় রাজপথে নামার কোনো বিকল্প থাকবে না। তিনি জানান, ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে। বাস্তবায়ন না হলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ আসবে। আর আমরা সেটা হতে দেব না। শহীদের রক্তের সাথে আমরা বেইমানি করব না। জনগণের রায় বাস্তবায়নে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজপথে নামব।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটো নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব এটা বাস্তবায়ন করা। দুই ভোট অনুযায়ী দুটি সাধারণ অধিবেশন ডাকার নিয়ম, কিন্তু ডাকা হয়েছে একটি। বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কারের শপথ নেয়নি। অথচ তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। একই দিনে গণভোটও চেয়েছেন, গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট চেয়েছেন। অথচ শেষে এসে মানলেন না। এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা।

১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক সোমবার যুগান্তরকে বলেন, আমি এখন ওমরাহ পালনের জন্য মক্কাতে আছি। এখানে বসে দোয়া করছি- যেন সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে বিএনপির সংসদ-সদস্যরা সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ না নেওয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তারা ভিন্নপথে হাঁটছে। এজন্য আমরা ইতোমধ্যে ২৪ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমরা সংসদেই বিষয়টির সুরাহা চাই। আশা করি সরকার আমাদের রাজপথে ঠেলে দেবে না।

১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল। তারা এটি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।

কিন্তু মনে হচ্ছে, ‘ভূতের পেছনে যেমন পা থাকে সেইভাবে সরকারের পেছনে একটি পা আছে। সেই পায়ে তারা পেছনে যেতে চাইছে।’ তিনি বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ভিন্ন কিছু বলছে।

ইরান বলেন, ২৮ তারিখের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত কর্মসূচি আসতে পারে। তার আগেই সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে আমরা আশা করি। তিনি জানান, ১১ দলের সদস্যরা সংসদে যেমন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সোচ্চার থাকবেন, তেমনি রাজপথেও আন্দোলন চলবে। তবে জনমত গঠনে গোলটেবিল বৈঠক এবং সেমিনারের মতো কর্মসূচি আসতে পারে প্রথমে। তারপর মিছিল-মিটিংসহ অন্যান্য কর্মসূচি আসতে পারে। ঈদের পরে ধারাবাহিক কর্মসূচি আসবে।

গত রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিষদের বিষয়ে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে যেতে হবে।

ওইদিন সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ পুরোটা পড়ে শোনান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এই অধিবেশন ডাকা হয়নি। আমার উদ্বেগের বিষয়টি এখানে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্পিকারের অনুরোধ অনুযায়ী আমরা নোটিশ দেব। সংসদের ভেতরেই এর সমাধান করতে চাই। কিন্তু কোনো কারণে সংসদের ভেতরে স্বাভাবিক সমাধান না পেলে তখন আমাদের রাজপথে আন্দোলনে যেতে হবে। কিন্তু আমরা তা চাই না। কারণ, যেহেতু বিষয়টি উত্থাপন করেছি, স্পিকার বিবেচনায় নিয়ে নোটিশ দিতে বলেছেন, সে ধারাবাহিকতায় এটা চলতে পারে।

একই দিন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায়ও বিরোধীদলের সদস্যরা তুলে আনেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার দাবি জানান।