
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল) বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলসহ বিভিন্ন কারণে সমালোচনার মুখে থাকা এ সংগঠনের নতুন কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত ১ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। ২০২৪ সালের একই দিনে গঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন নাসিরউদ্দিন।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির পর নতুন নেতৃত্বে আসার লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে দলীয় অন্দরমহল—সব জায়গায়ই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন রাজপথে ভূমিকা রাখা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব কারা পাবেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
নেতৃত্বের আলোচনায় যারা:
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৭–০৮ সেশন)।
২০০৮–০৯ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন সহ-সভাপতি এইচ এম আবু জাফর, মঞ্জুরুল রিয়াদ, ইজাজুল কবির রুয়েল, খোরশেদ আলম সোহেল ও সাফি ইসলাম।
২০০৯–১০ সেশন থেকে সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ফারুক হোসেন, হাসানুর রহমান, সালেহ মোহাম্মদ আদনান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মাসুদুর রহমান, বায়েজিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ ও প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ।
এছাড়া ২০১০–১১ সেশন থেকে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।
দলীয় বিশেষ সূত্রের দাবি, আসন্ন কমিটিতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। নেতৃত্ব নির্ধারণে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, কারা নির্যাতন, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও ব্যক্তিগত ইমেজকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শনিষ্ঠ, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সক্রিয় নেতাদেরই নতুন কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাও পূরণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : জনকণ্ঠ











































