প্রচ্ছদ জাতীয় মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট মুশফিকুল ফজল আনসারীর

মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট মুশফিকুল ফজল আনসারীর

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে এক আবেঘন পোস্ট দিয়েছেন সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ পোস্ট দেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।

পোস্টে তিনি লেখেন, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন, খবরটি শুনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল থেকে শুরু করে রাজনীতির নানা ধাপ অতিক্রম করে তিনি আজকের মির্জা আব্বাস হয়ে উঠেছেন। রাজনীতির পথে যেমন বহু চড়াই–উতরাই পেরিয়েছেন, তেমনি নানা সময়ে বিতর্কও তাকে তাড়া করেছে।কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গণতন্ত্রের সংগ্রামে তিনি ছিলেন একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা।

ফজল আনসারী আরও লেখেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর যখন ঢাকায় গিয়েছিলাম, আব্বাস ভাই ফোন করে বাসায় দাওয়াতও দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা কর্মব্যস্ততার কারণে সেই সময়ে তার দাওয়াত রক্ষা করা হয়ে ওঠেনি। আজ আফসোসের সাথে মনে পড়ছে।

হাসিনার শাসনামলে প্রায়ই ফোন করে নানা বিষয়ে জানতে চাইতেন, আবার উৎসাহ যোগাতেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তার প্রবল আগ্রহ ছিল।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনের পর একদিন কিছুটা কর্কশ সুরে ফোন করে বললেন, মুশফিক- ইলেকশন তো হইয়া গেল। কতো কথা তো কইলা-কিছুই তো হইল না! আমিও কিঞ্চিৎ রেগে বললাম, আব্বাস ভাই, ওয়েট এন্ড সি। আরে ইলেকশন! আপনি চাইলেও হাসিনারে ক্ষমতায় রাখতে পারবেন না।

আব্বাস ভাই বললেন, দেখিও কইলাম, তোমার কথা কিন্তু লেইখা রাখলাম। আমি বললাম, লিখে রাখেন।

পোস্টের শেষে আনসারী লেখেন, হাসিনা পতনের পর একদিন আব্বাস ভাই বললেন, তুমি কীভাবে মূল্যায়িত হবে জানি না, কিন্তু ইতিহাস তোমাকে মনে রাখবে। আব্বাস ভাইয়ের এমন অনেক কথাই আজ মনে পড়ছে। অবশ্য শুধু আব্বাস ভাই নয়, বিএনপির এখনকার অনেক শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে যে উৎসাহ ও সমর্থন পেয়েছি, তা আমার কাজের ক্ষেত্রে ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আব্বাস ভাই যেন দ্রুত পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন এবং ফের তার চিরচেনা প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি নিয়ে রাজনীতির ময়দান ও রাষ্ট্র মেরামতের কাজে ফিরে আসেন।