প্রচ্ছদ জাতীয় দুই দিকের দুই কান্ডারি সংসদে দুজনই প্রথম

দুই দিকের দুই কান্ডারি সংসদে দুজনই প্রথম

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন একঝাঁক নতুন মুখ, যাদের মধ্যে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কোট-প্যান্ট পরে তারেক রহমান যখন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করছিলেন, তখন সংসদ-সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। হাস্যোজ্জ্বল তারেক রহমান এসে চারপাশে তাকিয়ে নিজের আসনে বসেন। এ সময় ভিভিআইপি লাউঞ্জের প্রথম সারিতে বসা প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান দাঁড়িয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদে পা রেখেছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমানের পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের সরকারপ্রধান হিসাবে বৃহস্পতিবার সংসদে পা রাখলেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

অন্যদিকে প্রথমবারের মতো সংসদে পা রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি ঢাকা-১৫ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিই জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসেছেন তিনি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের যে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২২৫ জনই প্রথমবার সাংসদ হয়ে অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন।

সংসদে সরকারি দলের কে কোথায় বসলেন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম সারির প্রথম আসনটিতে বসেছিলেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ নেতার পাশের আসনে বসেন দলের মহাসচিব স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পরে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরের আসনগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে বসেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ রায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

প্রথম সারির মাঝের আসনে বসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও জয়নাল আবদিন। সংসদ নেতার ঠিক পেছনের আসনে দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তার পাশে বসেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

এরপরে পর্যায়ক্রমে বসেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবর রহমান সরওয়ার, আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শাহজাহান চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, গণঅধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক নুর, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।