
ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়েছে দলটি। সর্বাধিক নারী আসনও পেতে যাচ্ছে তারা। এ ছাড়া সংসদে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সংখ্যানুপাতিক ভিত্তিতে ৩০টির অধিক আসন পেতে পারে জামায়াতে ইসলামী। আর নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ বাস্তবায়ন হলে কিছুটা কমে আসবে। সংরক্ষিত নারী আসন কিংবা উচ্চকক্ষে কতগুলো আসন জামায়াত পেতে যাচ্ছে, এ বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও নতুন করে সংসদে কারা যাচ্ছেন, সেটাই এখন মূল আলোচনার বিষয় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কমিটিতে।
জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল ও ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে পরিচালিত দল, যা চেইন অব কমান্ডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এখানে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের পরামর্শের ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুতরাং স্বজনপ্রীতি বা লবিং-তদবির করে পদ পাওয়া বা সংসদে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি সংসদে আছেন এমন পরিবারের কেউ সংরক্ষিত আসন কিংবা উচ্চকক্ষে যেতে পারবেন না। এরই মধ্যে দলটির মহিলা বিভাগেও বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে জামায়াত। যার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদে গিয়েছেন এমন অনেকেই বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। এ তালিকায় রয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ও নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী। এমনকি নতুন করে যারা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাদের স্ত্রীরা কেন্দ্রের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য হয়েও সংরক্ষিত নারী আসনের হয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। আবার সংসদ সদস্য কিংবা সংরক্ষিত নারী আসনে যাওয়া কোনো ব্যক্তির পরিবার থেকে কেউ উচ্চকক্ষে সুযোগ পাবেন না।
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ফোরাম থেকে জামায়াতের মহিলা বিভাগের পরামর্শ চাওয়া হয়। তারই আলোকে মহিলা বিভাগ একটি খসড়া তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। এ খসড়া তালিকা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যরা প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি কিংবা অন্য কোনো উপায়ে আসার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।
একাধিক সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী, সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, আমাতুল্লাহ শারমিন, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন। এ ছাড়া অর্ধডজন নারী নেত্রীর নামও আলোচিত হচ্ছে দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
এ বিষয়ে জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে পদপদবিতে আসা বা সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল যারা আছেন, সবার পরামর্শের ভিত্তিতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ফোরাম এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কালবেলাকে বলেন, ‘একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সংসদে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো পরিবারে যদি কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন, তবে সেই পরিবারের কেউই সংরক্ষিত নারী আসন কিংবা উচ্চকক্ষে যেতে পারবেন না। এ ব্যাপারে আমাদের কেন্দ্র খুবই শক্ত অবস্থানে আছে।’
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থীর শিক্ষা-দীক্ষা, মেধা, রাজনীতিক সচেতনতা, সংসদে ভূমিকা রাখার মতো সক্ষমতা, যুক্তি-তর্ক ও বাগ্মিতা—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রার্থীর সততা, রাজনীতিক বোঝাপড়া, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক মানও যথাযথ বিবেচনায় নেওয়া হবে। কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা কারও সুপারিশের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে কাউকে মনোনীত করার সুযোগ নেই।’












































