প্রচ্ছদ হেড লাইন রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণ জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা

রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণ জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন–এর ভাষণ বর্জন করেছে বিরোধী দল। এ সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হওয়ার পরপরই বিরোধী সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে তারা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। পরে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বিরোধীদলীয় নেতা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ ‘জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর প্রতিষ্ঠিত’ এবং তারা আগেই অনুরোধ করেছিলেন যাতে সংসদে “ফ্যাসিবাদের সহযোগী বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পান।” তার দাবি, এই কারণেই তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর বিষয় রয়েছে। প্রথমত, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর ক্ষেত্রে তিনি সহযোগী ছিলেন বলে তাদের অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ গ্রহণের কথা বলেছিলেন, কিন্তু পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন—যা তাদের মতে জাতির সামনে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে একই নির্বাচনে সংসদ সদস্য ও সংস্কার সংশোধন পরিষদের সদস্য নির্বাচনের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। বিরোধী দলের দাবি, ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। এ কারণে গণভোটে অংশ নেওয়া জনগণের মতামতও অবহেলিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে এমন কেউ যেন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পান, যাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। তবে এবারের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী দলের প্রতিবাদে উত্তেজনা তৈরি হয়।