প্রচ্ছদ হেড লাইন খণ্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকার নয়, আমরা চাই ‘প্যাকেজ’

খণ্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকার নয়, আমরা চাই ‘প্যাকেজ’

জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে তখনই সংসদের বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকারের পদ নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল দুপুরে সংসদ ভবনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল নন-অফিশিয়ালি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কথা বলেছেন আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই, জুলাই সনদের যে সংস্কার প্রস্তাব, প্রস্তাবটা পুরাপুরি বাস্তবায়ন হোক। এর আলোকে বিরোধী দলের যতটুকু পাওনা, আমরা অতটুকু চাই। বেশি চাই না, ওই প্রস্তাবেই আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ। আমরা চাই পুরাটাই সেখানে গ্রহণ হোক, বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।
প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছে। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ভাষণ দেবেন। জামায়াত প্রেসিডেন্টের ভাষণ বয়কটের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “হ্যাঁ আমরা অনেক আলাপ আলোচনা করেছি এই ব্যাপারে। কালকে আমাদের ভূমিকা আপনারা দেখবেন। যেমন সূর্য উঠবে, তখন ভাষণ শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকা দেখবেন।”

বেলা সাড়ে ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় বিরোধী দলের সভা কক্ষে সংসদীয় দলের সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে সংসদের এলডি হলে ব্রিফিংয়ে আসেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমপি, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে তা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বসেছিলাম। জাতীয় প্রত্যাশা পূরণে বিরোধী দল হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ এবং জাতির জন্য আমাদের ভূমিকা কী হবে এবং সে ব্যাপারে পরামর্শের জন্য বসেছিলাম। আমরা কথা বলেছি, মতামত নিয়েছি, পরামর্শ নিয়েছি। আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর বা অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক।
ইতিমধ্যে আমরা ঘোষণা করেছি, বিরোধী দল হিসেবে আমরা একটা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই। সকল ব্যাপারে বিরোধিতা নয়, আবার না বুঝেও কোনো সহযোগিতা নয়। দেশ এবং জাতির কল্যাণে সরকারি দলের গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, সহযোগিতা থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিন্তু দেশ এবং জাতির ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা পদক্ষেপ নিলে আমরা আমাদের দায়িত্ব সেভাবেই পালন করবো। প্রথমে ভুল করলে আমরা ভুল ধরিয়ে দেবো, সংশোধনের সুযোগ দেবো, পরামর্শ দেবো।

আমরা আশা করবো দুর্নীতি আর দুঃশাসনের করাল গ্রাসে বাংলাদেশ নতুন করে আর পড়বে না। যদিও দুর্নীতি এখনো আমাদের সমাজের প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সবাই জানি। ইতিমধ্যে সরকারের বেশকিছু পদক্ষেপ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।বাংলাদেশ সংবাদ

তিনি বলেন, আমরা আশা রাখবো, জনপ্রত্যাশা সামনে রেখে বিশেষ করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সরকার তার কার্যক্রম গ্রহণ করবে, যা জাতি এবং দেশকে উপকৃত করবে। এর পক্ষে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং আমরা এ অবস্থান অব্যাহত রাখবো। সবাই মিলেই আমরা আগামীর একটি নিরাপদ, একটি মানবিক দুর্নীতি এবং দুর্নীতি ও দুঃশাসন বাংলাদেশ গড়ব ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথমে চাই যে, সকল ব্যাপারে সংসদের যিনি অভিভাবক, যিনি সভাপতিত্ব করবেন, স্পিকার মহোদয়, তিনি ইনসাফ করবেন। বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দেবেন। তাহলে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য শুধু ফুটে উঠবে না, গণতন্ত্র টেকসই হবে। যে গণতন্ত্রটা এখনো বাংলাদেশ পায়নি। আমরা প্রত্যাশা করতে চাই, এই ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে সেটা যেন বাংলাদেশ পায়। আপনাদের (গণমাধ্যম) সহযোগিতা অব্যাহতভাবে আমরা কামনা করি এবং আমরা যাতে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে পারি।