
বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে ইচ্ছুক অনেক মানুষেরই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থের অভাব। এ সমস্যা সমাধানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নতুন ও পুনরায় বিদেশগামীদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু রেখেছে। এই ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসী ঋণ নেওয়া যায়।
কীভাবে ঋণের জন্য আবেদন করবেন
ঋণ নিতে আগ্রহীদের প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিকটতম শাখায় গিয়ে বিনামূল্যে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ঋণের জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগবে সেগুলো হলো—
আবেদনকারীর ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
আবেদনকারীর পাসপোর্ট ও ভিসার কপি
ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি
লেবার কন্ট্রাক্ট পেপার (থাকলে জমা দিতে হবে)
একজন জামিনদার
জামিনদারের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
জামিনদারের স্বাক্ষর করা ব্যাংকের ৩টি খালি চেক
এছাড়া ঋণ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে।
ঋণের সীমা
নতুন বিদেশগামীদের জন্য: সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা
রি-এন্ট্রি ভিসাধারীদের জন্য: সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা
ঋণের মেয়াদ
নতুন ভিসা: সর্বোচ্চ ৩ বছর
রি-এন্ট্রি ভিসা: সর্বোচ্চ ২ বছর
গ্রেস পিরিয়ড
ঋণ নেওয়ার পর প্রথম ২ মাস কোনো কিস্তি দিতে হয় না। এরপর বাকি সময়ে মাসিক কিস্তির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতে হয়।
সুদের হার
এই ঋণের ক্ষেত্রে ৮% সরল সুদ প্রযোজ্য।
ঋণ অনুমোদনের সময়
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সাধারণত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদন করা হয়। এছাড়া এ ঋণের ক্ষেত্রে কোনো সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয় না।
মাসিক কিস্তির উদাহরণ
ধরা যাক—
১ লাখ টাকা ঋণ
১ বছর: প্রায় ৮৬৯৯ টাকা মাসিক
২ বছর: প্রায় ৪৫২৩ টাকা মাসিক
৩ বছর: প্রায় ৩১৩৪ টাকা মাসিক
২ লাখ টাকা ঋণ
১ বছর: প্রায় ১৭,৩৯৭ টাকা
২ বছর: প্রায় ৯,০৪৬ টাকা
৩ বছর: প্রায় ৬,২৬৭ টাকা
৩ লাখ টাকা ঋণ
১ বছর: প্রায় ২৬,০৯৬ টাকা
২ বছর: প্রায় ১৩,৫৬৯ টাকা
৩ বছর: প্রায় ৯,৪০১ টাকা
অনেকেই অভিযোগ করেন যে ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পাওয়া যায় না। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত ও কাগজপত্র ঠিকভাবে পূরণ করতে পারলে সাধারণত ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয়।
তাই বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে আগ্রহীদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিকটতম শাখায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










































